x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

সোমবার, জুন ২০, ২০১৬

রূপোর দ্যুতি

sobdermichil | জুন ২০, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।

ruporduti
সৈয়দ সাইফুর রহমান সাকিব একজন নিভৃতচারী কবি । নিজেকে আড়ালে রাখতেই তিনি বেশী ভালোবাসেন । '' রূপোর দ্যুতি '' বইটি কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ । বইটি প্রকাশিত হয়েছে ২০১৬ এর একুশে বই মেলায়। অনুপ্রাণন প্রকাশন থেকে প্রকাশিত পেপার ব্যক সিরিজের অন্যতম একটি কাব্যগ্রন্থ ।

কবির লেখায় ফুটে উঠেছে যাপিত জীবনের দ্বন্দ্ব -সংঘাত ,প্রেম বিরহ আর এই অস্থির সময়ের এক অনুপম চিত্র । যদি বলা হয় তার হাতে শব্দ প্রাণ পায়, তবে খুব ভুল বলা হবে না। । শব্দের নিপুণ বিন্যাসে, শৈলীতে তিনি নির্মান করেছেন অতীত বর্তমান আর ভবিষ্যতের রেখাচিত্র,  শ্রেষ্ঠ শিল্প যার নাম কবিতা । 

রূপোর দ্যুতি বইটি র কবিতাগুলোয় রয়েছে বৈচিত্রের বৈভব, এক রৈখিকতাকে ভেঙ্গে বহুরৈখিকতাকে টেনে আনার প্রত্যয়। জীবনের এমন কোন বিষয় নেই যাকে তিনি শব্দে, বর্ণে স্পর্শ করেন নি । তাঁর গভীর অনুভবের শব্দ -তরঙ্গ অনুরণন তোলে পাঠকের শিল্প সত্ত্বায় । বইটির এক একটা কবিতার বিষয়, মেজাজ প্রকরণে রয়েছে প্রচুর বৈচিত্র্য । কবি তাঁর বক্তব্য প্রকাশে অত্যন্ত মিতভাষী। তাই কবিতা গুলোর শব্দ চয়নে আছে সাতন্ত্রতার স্বাক্ষর। মজবুত বুনন আর ছন্দের কারুকাজ তার কবিতাকে করেছে ব্যাঞ্জনাময় ও হৃদয়গ্রাহী । কবির বক্তব্য প্রকাশের এমন স্বরূপ ঠিক যেন তার একান্তই  নিজস্ব ধরন। খুব সচেতন ভাবে আপন স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছেন তাঁর লেখনিতে ।

কবির’’ মলাটের শৃঙ্খল ‘’ কবিতাটি পড়লেই তার উপলব্ধির গভীরতা টের পাওয়া যায়। তিনি যখন বলেন ‘’ পড়ে পড়ে ছায়া হয়ে গেছি /এখন গলায় ঝুলিয়ে রাখতে হয় / মিহিন প্রহর ......তখন পাঠকের মনেও আত্ম অনুসন্ধানের সাধ হয় । কিংবা যখন ‘’ ইচ্ছে ‘’কবিতায় কবি যখন বলেন সমস্ত ঘাস একান্ত কাছে চলে এলে / আমি বিলি কেটে বলি চল / পুরনো শহর তলিতে অপেক্ষা করে আছে স্বপ্ন ” তখন তাঁর ভাবনার আকাশ কতটা বড় বুঝে ওঠা কঠিন । কিংবা “যদি একটি মৌলিক দরজার খোঁজে” কবিতাটির কথাই বলি এখানে কবির ভাবনা অতলান্ত আবার বেশ ক্ষোভের প্রকাশ আছে এই ক্ষোভ শুধু বৈরী সমাজের ওপর নয় বরং মানুষের ভণ্ড মানসিকতার ওপরও । ঠিক এরকমই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে কবির “মৃত্যুদণ্ড ” কবিতাটিতে ও । কবির প্রেমিক মন প্রেমকে তিনি কবিতায় তুলে এনেছেন অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ভাবেই ।’’কাছেই দূরত্ব’’ কবিতাটি তার উজ্জ্বল প্রমাণ এছাড়া “অথৈ সমুদ্র’’ ‘’কথা হবে ‘’ কবিতাগুলয় কবির প্রেমিক মনের পরিচয় মেলে তবে এই ভালোবাসা কেবল হৃদয়েই আলো ছড়ায় আর নিবিড় ভাবে কাছে পেতে চায় ভালোবাসার মানুষটাকে। বলা যায় এ হল অমীমাংসিত প্রেমের পদাবলী । 

একজন পাঠক হিসেবে আমার মূল্যায়ন,  সাইফুর রহমান একজন যোগ্য কবি । কবিতা তার সাধনা । তাঁর আছে ছন্দ আছে শব্দ নিয়ে খেলার অসামান্য নৈপুণ্যতা, আছে আবেগ । কবির কবিতা ধারণ করে আছে সার্বজনীনতা ।সংবেদনশীল মনে দাগ কাটে সমাজের সুন্দর , অসুন্দর কিংবা অসঙ্গতি আর তার সবই তিনি ফুটিয়ে তোলেন কবিতায়। সহজ অথচ কি গভীর উপলব্ধি ও তার প্রকাশ কবির কবিতায় । পাঠকের মনে ভাবনার খোরাক যোগায় সৈয়দ সাইফুর রহমানে কবিতা। পরিশেষে এটুকুই বলবো “রূপোর দ্যুতি ” বইটি সত্যি জীবনকে ধারন করে আছে শব্দে ,ছন্দে বর্নে । যে কবিতাই পড়ি সেখানেই মননের প্রতিফিলন দেখি। আস্বাদন কবি মনের মাধুর্যহাজার কবিতার মাঝেও আলাদা করা যায় সৈয়দ সাইফুর রহমানের কবিতাকে । ‘রূপোর দ্যুতি ‘বইটি সংগ্রহে রাখার মতই একটি বই ।



ruporduti




     আলোকপাতে
   ফারহানা খানম 






Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.