x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

ইফতেখারুল হক

sobdermichil | জুন ২০, ২০১৬ |
iftekharul



আমার শহরে নেমেছে বৃষ্টি কোলাহল অবিরাম! মেঘের আকাশে আলোর সূর্যটা হারিয়ে গেছে কয়েকদিন থেকেই। এখন আষাঢ়, আসছে শ্রাবণ । মাঝে মাঝেই সূর্যটা হারিয়ে যাবে আকাশ থেকে । ভারী কিংবা মাঝারি বৃষ্টি নামবে বিনা শর্তে ; এই যেমন এখন নেমেছে । সেই সঙ্গে গর্জনও শুনতে পাবো; এই যেমন পাচ্ছি এখন। বৃষ্টির শব্দেই ঘুম ভাঙছে গত কিছুদিন ধরে, আজও তাই। দিনরাতের বৃষ্টি একই । বলতে চাচ্ছি তার রূপটির কথা ; কিন্তু শব্দের মাঝে রয়েছে পার্থক্য। রয়েছে অন্যরকম মাদকতা। রাতের নীরবতায় যে শব্দ শুনতে পাই তার বর্ণনা দিতে গেলে পাতার পর পাতা ভরে যাবে। রাতের বৃষ্টি ও তার শব্দে যেন মিশে আছ তুমিও। মিশে আছে আমাদের প্রণয়ের রূপ ও গন্ধ, অনেক স্মৃতি। বৃষ্টিরও আছে নিজস্ব রূপ এবং মাতাল করা গন্ধ । আমি পাই আজো ,একসময় তুমিও পেতে । কিন্তু এখন তুমি কী ......... ??

এই শহরে আমি এখন একা, কেবলই একা। তুমি শহর ছেড়ে গেছো সেই কবে সেই সঙ্গে ফেলে গেছো কিছু প্রতিশ্রুতি, কিছু মুখস্ত সংলাপ । আমি এখন তাদের মুখোমুখি ! একসময় তোমার আর বৃষ্টির মাদকতা আমাকে এমন ক’রে আচ্ছন্ন করে রাখতো যে বহুরাত আমি তার আবেশ মেখে না ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিতাম আর রাত জেগে লিখতাম কবিতার পর কবিতা ! তোমার ভেজা ঠোঁট আর বুকে আমি একটু একটু করে বুনে দিতাম স্বপ্নের বীজ; তুমিও তাই। তোমার স্বপ্ন গুলো এমন জীবন্ত ছিল যে মনে হ’ত তার কাঠামো কোনদিনই ভেঙে পড়বে না ! আমি তাই তোমাকে হারাবার ভয় পাইনি, আমি তাই তোমার স্বপ্ন গুলোকে বুকে জড়িয়ে ঘুমাতাম ;অর্থাৎ তোমাকে জড়িয়ে ।

কিন্তু আমার জানা ছিল না একসময় সব কিছু ভেঙে পড়ে ! কুঁড়েঘর থেকে বৃহৎ দালানকোঠা, পাহাড় থেকে ব্রিজ এবং মানুষের স্বপ্ন। আশ্চর্য সুন্দর স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসতাম আমি। ভালো লাগতো স্বপ্নের কাঠামোগত রূপটির যত্ন নিতে, মজবুত ক’রে তুলতে । কিন্তু এখন ? এখনো আমি স্বপ্ন দেখি, তার যত্ন নিই; তবে সব স্বপ্নই এখন আর আশ্চর্য রকমের সুন্দর নয় । সব স্বপ্নের কাঠামোগত দিকটি মজবুত নয় এখন আর । মধুর কিংবা মায়াবীও নয় । আজকাল স্বপ্নে তোমাকেই বেশি দেখি ! কিন্তু স্বপ্ন গুলো দেখে জেগে উঠবার পর বিষাদ এমন ক’রে ঘিরে ধরে যে, কিছুই ভাল লাগেনা আমার । দেখি তুমি বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যাবেলায় আমার সাথে নির্জনে ব’সে গল্প করছো গরম বাদামি জলের পেয়ালা হাতে । ওতে ঠোঁট রাখতেই তোমার চোখ বেয়ে নেমে যায় আশ্চর্য কান্নার জল !

কিন্তু কেন ? কিসের এত হাহাকার তোমার বুক থেকে উগরে যায় ? বাইরের মায়াবী বৃষ্টি আর তোমার চোখের বৃষ্টিতে আমি এক আশ্চর্য মিল খুঁজে পাই ! আর তা হলো, দু'টি জলেরই আছে মায়াকাতরতা । এইও বুঝি, একমাত্র জলেরই কোন ধর্ম নেই ।



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.