মৌ দাশগুপ্ত

mou







কবিতাগুচ্ছ: পরিযায়ী




১।
আঁজলা ভরা স্বস্তি আর মুঠোপ্রমান স্বস্ত্যয়নের মাঝে
খোলা আকাশ আর রোদের গুঁড়োমাখা পৃথিবী,
বারবার ঠিকানা বদল,নীড়্গামীর ভীড়েও দিশাহারা যূথবদ্ধতা।
তবু হাতছানি দেয় সোনালি রোদ, পদ্মবিল,বালুচর,
ও মেয়ে, বল দেখি, যাযাবর জীবন চাস নাকি পরিযায়ীবৃত্তি!!!

২।
 পৌষালী গোধুলিতে নিস্তিরঙ্গ পদ্মবিল ভরে ওঠে পাখীর কলতানে,
ছোটছোট ঢেউয়ে অতিথি হাঁসেদের বুকের উষ্ণতা চুরি করে জলকণা,
পাখিদের বাতসরিক উড়ান দুচোখে মাপে গেরস্তঘরের লক্ষীবউ পদ্মমণি,
হাতের মুঠোয় যার ইষ্টি কুটুমের হ্লুদ পালক।

৩।
স্বপ্ন আর বাস্তবের মাঝে একটুকরো  নীল আকাশ দিও।
রাত আর দিনের মাঝে দিও পাখিরাবিলের আলোছায়া তরঙ্গ,
চাওয়া আর পাওয়ার মাঝে লুকিয়ে রেখো একফোঁটা  ভালোবাসা,
পরিচয় আর স্থানবদলের পরিযায়ী  দিনযাপনের শেষে দিও একটা স্থায়ী ঠিকানা।

৪।
সোনালী  ভবিষ্যৎ, পরভুমের হাতছানি,
ডানায় আল্পনা আঁকে বর্ধিষ্ণু সংখ্যারা।
দিনের আলোয় বড় ম্লান লাগে এই মাটির পৃথিবী,নদীমানুষের কড়চা,
স্বপ্ন উড়ানে পাখী তাই ডানা মেপে নেয় ভৌগোলিক দুরত্ব,
উদ্বাস্তু, পরিযায়ী  অথবা খাঁচায় বাঁধা জীবন!
অথচ পক্ষীপুরাণ বলে শঙ্খলাগা গোধুলিতে সবপাখীই নাকি নীড় খোঁজে।

৫।
ভালো বাসা নয়, একফোঁটা  ভালোবাসাই শীতের আগুন।
তাহলেই আংগুল গুনে এক আর একে দুই, দুই আর দুইয়ে চার,
সম্পর্ক অনেকটা যেন বরফের বৃত্ত,বুকের ওমেই গলে জল।
অনেক সিঁড়িভাংগা অংক,লাভক্ষতির হিসাবনিকাশ,
তারপরেও বেহিসাবি মন উষ্ণতা-র  থেকে উষ্ণ -'তার' সন্ধানে পরিযায়ী....

৬।
সব সম্পর্কের আকাশে একই ভাষাপথের আলেয়া,
সব কালকেতু ফুল্লরার উপাখ্যানে একই বারোমাস্যা,
সব বৃষ্টিপুরানে একই নোনামাটি জলের গল্প,
তবু প্রতিটা মানুষ আলাদা আলাদা ঠিকানা খোঁজে,
খোঁজে আলাদা পরিচয়,আলাদা রহস্য।
রোজকার  গৃহস্থালীতে তাই ছায়া ফেলে পরিযায়ী বালিহাঁসের ডানা।

৭।
হ্লুদ উপত্যকায় পাতাঝরার গান।
সবুজ মাটিতে শিকড় আর শীকরের যুগলবন্দী,
নদীপুরানে মেঘবৃষ্টির অমোঘ রূপকথা,
সব কিছু পরিযায়ী পাখীদের ডানা থেকে
ঝরে যাচ্ছে,উড়ে যাচ্ছে,মিলিয়ে যাচ্ছে
রোদের গুঁড়ো হয়ে,চাঁদের জোছনা হয়ে।


Previous Post Next Post