x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শনিবার, জুলাই ১১, ২০১৫

উৎশব

sobdermichil | জুলাই ১১, ২০১৫ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।


আগের লেখায় এই বলে শেষ করেছিলাম “পরে ধর্ষণের মামলা!!,  কিভাবে হয় ম্যডাম, সহবাসের সময় তৃপ্তি ভালোই ভাগ করে নিয়েছিলেন”।  এই লেখাটা লিখতে বসে আমার রাগ না দুঃখ ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না, ক্যাবলা বলতেই পারেন। কথায় আসি

          “কুত্তার বাচ্চা, তোর নামে কেস ঠুকবো, প্রেম চো**। ভাই আমি ভাবছি কেস হলে তো আমায় চাকরী দেবে না” আমার এক বন্ধু তার সুখের কাহিনী বলতে বলতে এই কথাটাও উগরে দিল। তখন থেকে আমার মাথায় চিন্তা ঘুরছিল দোষটা কার? প্রেম ব্যাপারটা কোথায় শেষ হয়ে গেল, কেন গেল এ নিয়ে মাথা ঘাটছি তখন ভাবলাম ওই এক্স হবু বউদির সাথে কথা বলেই আসি যদি এক্স কে ডিলিট করা যায়। ফোন করে দেখা করতে চাইলাম এবং সেই সময় মত কথা বলে আসলাম। “তোমার বন্ধু যখনই চায় তখনই শরীর দিয়ে খুশি করতাম, এখন কুত্তার বাচ্চাটা বলে যে আমি বাইরে যাচ্ছি এসে বিয়ে করব, আমি কি জানি না ওখানে অন্য মা*কে লাগা* যাচ্ছে”। নড়ে গিয়েছি এটা শুনে, কিন্তু ও আমায় এটা বলেছিল যে টাকা না হলে তো কেউ খুশি হব না আর এখানে তেমন চাকরীর বাজার নেই, তাই ভাবছি ওখানে সেটেল হলে বিয়ে করে ওখানে নিয়ে যাব। 

 সেই সব কথা বলে মূল কথার গতিপথ ঘোরানোর ইচ্ছে নেই।  যিনি এই লেখা মন দিয়ে পড়ে এই লাইন দেখছেন তাদের কাছে আমার একটা ছোট্ট প্রশ্ন স্বেচ্ছায় সহবাস যদি ধর্ষণ হয় তবে স্বামী স্ত্রী –এর সম্ভোগ তবে ধর্ষণ হবে না কেন?

 এবার মূল প্রসঙ্গ উৎশব নিয়ে। খবরের পাতায় ধর্ষণের পর যদি আর কোন ধর্ষণের কথা লেখা থাকে তা হল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক বছর বা তিন বছর ধরে সহবাস করেছে এবং এখন বিয়েতে অস্বীকার করায় ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। আমার এখানেই যত গা জ্বলে যাওয়া। এই ঘামের মিলন যা  ছিল কাম পুরনের নেশায় তা এত বছর পর সতীর কাছে মনে হল ধর্ষণ অর্থাৎ ইচ্ছার বিরুদ্ধে সহবাস। কেন? তখন মুখে কি ঘাম জড়িয়ে ছিল? দিনের পর দিন কাম পূরণের খেলা আজ জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল? এটা ট্রামের কথা এবার আসি মেট্রোর কথায়। মেট্র লাইফে ফিউস না উড়লে গতির পরিবর্তন হয় না । এত দিন ধরে লোভে লোভে ঠুকতে দিয়েছে, চাহিদা পূরণের তাগিদে তা হঠাৎ কেমন যেন বদলে গেল । এক্ষেত্রে মনে হচ্ছে আমি একতরফা কথা বলছি একটু ঘুরিয়ে দেখি, ছেলেটা মেয়েটাকে প্রপোজ করল এবং ............... আরো অনেক কিছু ঘটনা ঘটার পর হ্যাঁ করল অর্থাৎ সম্মতি দিল। ভালবাসা স্বীকৃতি পেল। বেশ এতে ঘুরিয়ে দেখার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে! কি দেখে হ্যাঁ করল? অভিএসলি ডাণ্ডা দেখে নয়। মনের মিল পেয়েছে তাই। ব্যাস প্রেম তো চলতেই পারে, ফেব্রুয়ারির প্রত্যেক দিন পালন করতেই পারে, কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে যে সহবাস ডে বলে কিছু আছে তা জানা নেই বস।

এখন আমাদের শহরে কিছু পার্টি হয় যেমন ওয়াটার পার্টি, ফোম পার্টি, সেখানে অধা পোষাকে সবাই সেই সব পার্টি উপভোগ করে, ভালো তো এতে কি? হ্যাঁ সেখান থেকেই অনেক সম্পর্ক দেখেছি কোনোটা সেদিন বাথরুমেই শেষ বা বিলাসী হোটেলে। ছেলেটার উদ্দেশ্য ছিল মেয়েটার শরীর, মেয়েটার বিধেও ধরে নিচ্ছি নেই, উদ্দেশ্য সেই পার্টি এনজয় করা। এক্ষেত্রে আমার মানসিকতা কতটা নীচ হয়ত ভাবতে শুরু করেছেন, করুন না কে না করেছে কিন্তু তার আগে পুরোটা পড়ে নিন। সেই পার্টি এনজয় করা খারাপ না কিন্তু ভাবেন তো এডাল্ট মেয়ের শরীর ভিজে থাকলে ছেলেটা কন্টোল করবে কি করে? হ্যাঁ বলতেই পারেন যে ছেলেটা কেন লোভ সম্বরন করতে পারে না? এই শিক্ষা কে দেয় বলুন তো। ১০ জনকে ডেকে জিজ্ঞাসা করুন আপনি সেই সময়ে কি করতেন নিশ্চিত আমি ‘মানুষ’ ভাগ সেই পরিস্থিতিতে নিজেকে সম্বরন করতে পারবে না, এটা আমার বিশ্বাস। 

সেই পার্টি এনজয় করতে গিয়ে কি কি হতে পারে বা ছেলেটার উদ্দেশ্য কি তা ভাববার প্রয়োজন নেই। হাত ধরে হাটতে হাটতে কৌশলে স্তনে  স্পর্শ করতেই বুঝে যাওয়া উচিত ছিল ছেলেটা কি চায়। হারানোর ভয়ে বলে উঠতে পারিনি, আমি ওকে খুব ভালবাসি, কিন্তু যেদিন ছেড়ে যাওয়ার কথা হল সেদিন কেন এমন মনে এল। অর্থাৎ আপনি আপনাদের বিয়ে হয়ে গেছে বলেই ধরে নিয়ে নিজের শরীর বিলিয়ে দিয়েছিলেন আজ ছেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতির আঁচ করতে পেরেই ভোল পাল্টে ধর্ষণ! আপনি আপনার শরীর না দিতেই পারতেন যেহেতু আপনি জানতেন অন্যায় আবদার, তবুও তার সাথ পাওয়ার জন্য আপনি বিলিয়ে দিয়েছেন শরীর হায়নার কাছে। কিন্তু কেন আপনার তার প্রতি এত কিসের মোহ, ভালবাসার? সহবাস ভালবেসেই তো হয় জানি, তবে কি ভালবাসা কর্পূর। আজ্ঞে, শরীররের মোহতে গড়ে ওঠা প্রত্যেক ভালোবাসাই কর্পূর, এতদিনে আমি তাই বুঝেছি। কোন বিলানো জিনিষ ফেরৎ চাওয়া যায় না।

এবার পোষাক, আমি কি পড়ব, কেমন করে পড়ব তা কি শুনে পড়তে হবে? এ প্রশ্ন আসাই কাম্য। আমি উত্তরে সরাসরি না বলব। তবে একটা প্রশ্ন আমিও ছুঁড়ে দিতেই পারি, সেক্সি লুক পাওয়ার জন্য আপনি পোষাক নকল করেননি? চুপ কেন? আপনি আপনার সংস্কৃতি না মানতেই পারেন তবে যে সংস্কৃতির পোষাক আপনি বহন করেন তাতে কি ধরনের মানসিকতা বহন করেন তা কি ভেবেছেন? আপনি বলুন যারা দেহ দেখতে পারেনি শুধু ছবি দেখে মন ভরিয়েছে আপনি কি তাদের প্রলোভন দেখাচ্ছেন না? আপনি খুলে রাখুন বা ঢেকে রাখুন আগেই বলেছি মাংস ধরলে প্রতি দৃষ্টি ভার্চুয়াল ধর্ষণ করে চলে। কিন্তু আমার কথাটা অন্য আপনি সুযোগ করে দিচ্ছেন, আপনি প্রশ্রয় দিচ্ছেন আপনার শরীর নিয়ে ভাবতে, দরজা হালকা আবজানো থাকলে মানুষের দৃষ্টি সব কোন যাচাই করে নিতে চায়, এতে আপনার আমার কিছু করার নেই। পোষাক বিতর্কিত সবসময়ের জন্য, আপনি না বললে আমি হ্যাঁ বলব আবার আপনি হ্যাঁ বললেও আমি হ্যাঁ ই বলব। 

 আমি যেহেতু শিলিগুড়ি থাকি আমার তাই সুযোগ হয়েছে বিভিন্ন পোষাক পরিচ্ছদের মানুষ দেখার, তাই যত মাথায় ঘূর্ণিঝড়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই নেপালিরা খোলামেলা পোষাক পরে থাকে, আমি বাজারে গিয়ে এমনও  দেখেছি মা তার ছেলের মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। কিছু বলার নেই যা আছে শুধু সয়ে যাওয়া। সময় এমন ও গেছে রাতে পায়চারি করতে বেড়িয়ে নিজে বাড়ি ঢুকে যেতে বাধ্য হয়েছি, যদিও এক পাড়ায় থাকে বলে সে এখন আমার বান্ধবী। সেই বন্ধু হওয়ার খাতিরে জিজ্ঞাসা করলাম তুমি এমন পোষাক পড় কেন, তোমায় দেখলে যৌন উদ্দিপনা জেগে যায়। হাসতে হাসতে সে আমায় বলেছিল “আমি বাড়িতে নগ্ন হয়ে থাকাই বেশী পছন্দ করি, এখানে এসে আমি অবাক যে সবাই হ্যাংলার মত আমার শরীর দেখে। আমি উপভোগ করি সেটা। আমাদের ওখানে এটা কোন ব্যাপার না, বাড়িতে আমি, মা, ভাই থকলে এমন করেই থাকতাম, শুধু বাবা এলে মা বলত কিছু জড়িয়ে নে গায়ে”। তারপর থেকে মাথায় একটা জিনিষ ঢুকে গেছে যে আসলে কে কিভাবে মানুষ হচ্ছে সেটাই বড় ব্যাপার।

সেখান থেকে বলতেই পারি আমারা এখনো অনেক পিছিয়ে, গ্লোবালই সবাই অদিম যুগে পৌছে যাচ্ছে, আমার শুধু অনুসরন করছি না পরলে গালি দিয়ে পালাচ্ছি। নিজের বউকে বা বোনকে বা মা কে এভাবে দেখতে হয়ত পছন্দ করি না যতক্ষন না তাদের সাথে পা মেলাতে পারছি, তাই এই যন্ত্রনা। ব্যাপারটা বোরখা থেকে নগ্ন দেখলে যেমন হয় তেমনটাই হয়ে থাকে সবার মধ্যেই। এতে কোন হয়ত দ্বিমত থাকতে পারে না। 

পোষাক তো আদতে লজ্জা নিবারনের জন্য। দেহের অলঙ্কার লুকিয়ে রাখার জন্য। এটাও সত্যি যে অলঙ্কার দেখানোর জন্যই প্রস্তুত হয়েছে, তাই এই অলঙ্কারের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য যত আয়োজন গায়ে মাখা। আবার এই অলঙ্কারের সৌন্দর্য লুফে নেওয়ার জন্যই তো সব চোরেরা প্রস্তুত থাকে। আদতে প্রায় সবাই হয়ত সেই চোরের দলে পড়ি। অলঙ্কার দেখানো আবার অলঙ্কার লুকানো। এই সন্ধিক্ষনে যত চোর, ডাকাতের বাড়াবাড়ি। 

সেক্স আপিল বলে একটা ভাষা ব্যাবহার হয়, আপনার শরীরের গঠন হোক বা পোষাক পড়ার ঢং, আপিলে সাড়া দিতে না জানলেই সে হয়ে যায় ঢেমনা আর যে দিল সে হয়ে যায় ধর্ষক। কিছু বান্ধবীদের সাথে কথা বলে জেনেছি তারাও চায় যে তাদের দিকে ছেলেরা তাকাক, এমনকি কম্পিটিশন হয়ে থাকে কার দিকে কজন ছেলে তাকালো বা কজন উক্তি করল। সেক্ষেত্রে এটা বলাই যায় যে সমলিঙ্গের আদিখ্যেতার চেয়ে বিপরীতলিঙ্গের আদিখ্যেতা বেশী উপভগ্য। যত পোষাকের বাহার, অলংকার দেখানোর চাহিদা, গুছিয়ে নেওয়ার ব্যেস্ততা আদতে চাহিদার খেলা।

শেষে এটা বলার, কি পোষাক পড়বেন তা নিশ্চয়ই শিক্ষা থেকে। ড্রেস কোড যেমন ব্যাবহার করে থাকেন তেমনি এটাও খেয়াল রাখবেন যে ড্রেস কোডে আপনি বের হচ্ছেন তেমন কোড কি তারা বোঝে যাদের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। না তাঁরা আপনার মজা নিচ্ছে, আপনি পন্যের মত উপভোগ্য হয়ে যাচ্ছেন, আশা করি আপনি যে ড্রেস কোড ব্যবহার করে থাকেন তা আপনার পছন্দ অনুযায়ী, বা অন্যের থেকে একটু এগিয়ে থাকার জন্য। এটা কোন উপদেশ নয়, কারন উপদেশ দেওয়ার কেউ না। কেউ বোরখা পড়েও ধর্ষিত হচ্ছেন আবার কেউ সাধারন পোষাকে। পোষাকের সাথে নিশ্চয়ই এর কোন যোগ নেই তবে এটাও অস্বীকার করা যায় না যে আপনার ওই আধা ঢাকা বস্ত্রে প্রতিনিয়ত ভার্চুয়ালই ধর্ষিত হচ্ছেন। আপনার জাগানো যৌন উদ্দীপনার শিকার হয়ত বাড়ির পাশের মহিলা, যে হয়ত জানতই না যে কেউ তার ভেন্টিলেটার ফলো করে চলছে বা একা হেঁটে যাওয়া আকাশের তাঁরা গুনতে থাকা ছোট বোন যে আজ তাঁরা হয়ে আছে। 
      
একটা রোগ বলে চালান করে দেওয়া হাসপাতালের বিছানা হয়ত তার কস্টটা বোঝে, কেউ নেই তার রোগের সাথে। এই উৎশব হয়ত থামবে না, কারন আপনি আপনার টাকায় চলেন, কার মন্তব্যে কার কি এসে যায়। বেডবন্ধু আপনার চরম শত্রু হয়ে যেতেই থাকবে। আপনি পিল নেবেন বা ওয়াশ করাবেন বা বিয়ে করতে বাধ্য করবেন তাতে কি সুখী হবেন?। আপনার সাথে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য কিছুটা হলেও আপনাকে দায় নিতে হবেই। সুযোগের সদ ব্যাবহার করতে না জানা কে সমাজে বোকা বলে, আর যারা সুযোগ দিয়ে থাকে তারা? কেঊ ঢেমনা থাকতে চায় না বসসস। 

পরিচিতি 



Comments
2 Comments

2 Replies so far - Add your comment

Unknown বলেছেন...

দায় তো নিতেই হবে। মননে রইলো লেখাটি !

Unknown বলেছেন...

দায় তো নিতেই হবে। মননে রইলো লেখাটি !

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.