রত্নদীপা দে ঘোষ









মধুর তোমার ...



অমিতঃ শিলং পাহাড়ে যে এমন ঘুঙুরের মেঘ শুনতে পাওয়া যায় তা আমি জানতুম না আগে ... আচ্ছা লাবণ্য , তুমি কখনো কুয়াশার বর্ষাতিফুল দেখেছ ?

লাবন্যঃ হ্যাঁ দেখেছি ..প্রায় বছর দুয়েক আগে, জানো অমিত ... সেদিন সই পাতানো আকাশ আর সবুজ পাল্লা ভারি মেঘ ... আমার হাতে রবি ঠাকুরের পৃথিবী ...হঠাৎ কুয়াশার করুণ ... যেন শীতের ব্যকুল টুসকি ... দীর্ঘকাল দূরে থাকলেও যার মুখ আভাময় ...একটু ঝুঁকে দেখি তারই এক গেলাস চাঁদ থেকে গড়িয়ে আসছে বর্ষাতিফুল ... এখনো চোখে লেগে আছে রেণু ...
অমিতঃ প্রায় তিনটি মাস এখানে রয়েছি অথচ আমি একদিনও দেখতে পেলুম না ...জানো লাবণ্য ...তুমি যখন আমার সামনে থাকো তখন এই শিলং পাহাড় তার পাইনের বসতি সমেত আমার সামনে হাঁটু মুড়ে বসে থাকে আর কেবলি আমার মুখ থেকে শুনতে চায় তোমার কুটীরবেলা ... 

আর তুমি যখন দূরে যাও তখন আরও দূরের নাকছাবিটি ঠোঁট চেপে হাসে ... আমি বলি ওরে থাম থাম ... এখনো সময় হয়নি ... বকবকম শব্দে ফার্নের কুসুম গড়িয়ে যায়নি .. এখনো ঝর্ণা ভেঙে লাবণ্য আসেনি পালকহ্রদে ... কেন এমন হয় বলতে পারো ?
লাবণ্যঃ নক্ষত্রের মতিগতিতে আমার বিশ্বাস নেই অমিত ... তবু আজকাল বিকেলের ভোর হতে দেরী হলে আমিও উদগ্রীব হই , দাদরা নামিয়ে নিই হাতের তালুতে , কয়েক কলি পিউ কাঁহা এমনকি আঙুলে জেগে থাকা বৃষ্টির জোব্বা ... আমি স্তব্ধতার গান বলি ভ্রমণের পাপড়িতে ... একটু নেশারঙ লাগে ...
অমিতঃ এই যে দিনরাতের মিছেগুল্ম উড়িয়ে আকাঙ্ক্ষার স্রোত ... একে তুমি কি বলবে ... চতুর্দোলার বৃষ্টি নাকি টেক্কার সম্মোহন ? ..

লাবণ্যঃ এ সম্মোহন নয়...ঝরাপাত্রে খানিক উদাস ...মাঝে মাঝে নিজেকে প্রশ্ন করি ... আমরা দুজনে কি দিগন্তের শাঁখ না পারিজাত বদলের সানাই ? তুমি লক্ষ্য করেছ অমিত ... আমরা দুজনে যখন কথা বলি ... তখন কেমন স্মৃতির হরতন ... ? যেন পেছন থেকে টানছে চেনা সরোবরের দ্যুতি ... যেন আমরা দুটি পথহীন অবয়ব আর আমাদের বাঁকে বয়ে গেছে কয়েকপ্রস্থ নদী ...
অমিতঃ হয়তো এবার দ্রুত হবে বৃক্ষের বিভোর ... হয়তো আমরা দু’জনেই মহড়া দেবো দূরবীন প্রজাতির ... গাছরঙ পাতার অলীক ... নরম ঝুঁকে দুলুনির রাংতাপাখি ...
লাবণ্যঃ ঠিক বলেছ অমিত ...... হয়তো তাই হবে ..হয়তো আমরা এক হবো বিষুবযাপনে আর তৃতীয় সূর্যের অর্কিডে লুটোপুটি খাবে আমাদের পাখিত্ব ...


কলকাতা ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

5 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
  1. দারুন দারুন দারুন

    উত্তরমুছুন
  2. মন ছুঁয়ে গেল - কিছু বলার থাকে না । নীরবে পড়ে যাওয়া শ্রেয় ।

    উত্তরমুছুন
  3. কাল তোমাকে জিজ্ঞেষ করলাম কি করছো ? বললে পড়ছি শেষের কবিতা । খানিক চুপ থেকে বলতে চাইছিলাম কি একটা যেন । সে সব না শুনে বললে শুনবে ? বললাম বলো । রেলগাড়ীর আওয়াজের ফাঁকে ফাঁকে শুনি তুমি বলতে লাগলে - অমিত বলছে শিলং পাহাড়ে যে এমন ঘুঙুরের মেঘ পাওয়া যায় তা আমি জানতুম না আগে .....

    উত্তরমুছুন

সুচিন্তিত মতামত দিন