অংকন নন্দী









এচোখও কখনো আকাশ দেখে

কুৎসিত চোখ-
আলগোছে তুলে নেয় দৃষ্টিকল্পপথে নষ্টরথ;
হিসহিস শব্দে ছোবল হাঁকায়-
অষ্টাদশীর কুমারী বুকে,
লালসার জলীয় দ্রবণ- টগবগিয়ে ছোটে,
আগ্রাসী রাজদন্ডের শিরায় ।।
কখনো শোণিতে আঁকে আলপনা, ওই চোখ-
রাজপথের পিচবুকে;
শৈল্পিক আঘাতে জন্ম দেয় স্বজাতিবধ কাব্য,
মানবতার ল্যামপোস্টে পা ছড়িয়ে ছাড়ে-
গরম জলের ফোয়ারা ।।
কখনো চোখ- মোমের আলোয় টানে প্রেয়সীরে,
গলে পড়ে চুপচাপ টুপটাপ,
মোম আর পৌরুষ- সেকেন্ডের কাঁটার অন্যায্য ঘূর্ণণে ।।
কখনো বোনে জোছনাআভায় কাঁচচোখে,
অপভ্রংশ নীলনকশা;
গুমড়ে কাঁদে দেশজঠরের ভ্রুণেরা, কম্পিত আর্তনাদে;
নষ্ট জোড়া চোখে চিকচিক করে উল্লাস,
তৃপ্ত তান্ডবঢেকুড়ে ।।
লালসা আর হিংসার জঞ্জাল ঠেলে চোখ-
স্বপ্ন বোনার নেশায়,
হাঁসফাঁস করে গোঙায় অহর্নিশ- পাপের ঘেরাটোপে ।।
তবু, দিনান্তে একচোখে আকাশ দেখি ।।









উত্তরাধিকার

প্রীতির অমোঘ দাওয়া ঠোঁটে তুলে-
কাঠঠোকরা জীবন ঠুকরে চলে হৃদয়ের দ্বার;
নিত্য সান্ধ্য নিয়ন আলোয়- নাটিকার আবডালে,
বিজিতের পুনঃপরাজয়ের বীতশ্রদ্ধ মঞ্চায়ন;
পুরুষের কামুক চোখে নগ্ন হয় প্রতিবার-
পরনারীর গম্ভীর উপত্যকা,
আর নারীর গোপন অলিন্দে যতনে পালিত কখনো,
দ্বিতীয় পুরুষ ।।
তবু অভিনয় নির্বিকার!
জীবন গড়ায় গরুর খুরের চাপে-
গড়ানো কাষ্ঠচাকায়;
নষ্টামির বীজ, গোপন লালসায় প্রবাহিত হয়ে চলে-
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ।।
তোমার যত নষ্ট, সেটুকু তো-
তোমার সন্তানেরই উত্তরাধিকার ।।


চট্টগ্রাম ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.