মামনি দত্ত









সামাজিক ব্যাবস্থায় নারীর অবস্থান



          নারী অর্থাৎ মানবী। যে আবহমান কালের অস্তিত্ব ধারাবাহিক ভাবে বহন করে চলেছে যুগ থেকে যুগান্তরে। ধারন করেছে সমগ্র মানব জাতির উপলব্ধি। নদী মাতৃক আমাদের দেশ, আমাদের মাতৃভূমি। মাতৃ বন্দনা তে নিয়োজিত সমস্ত দেশ, ঠিক
এই খানেতেই চেতনাতে কুঠারাঘাত! তবে কেন আজও নারী সমস্যা জ্বলন্ত এই ক্ষয়িষ্ণু সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে? একটু অতীত

ফিরে দেখলে আমরা লোপামুদ্রা, অপালা, গার্গী, আরও নাম খুঁজে পাই যারা নারী জাতির উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। ক্রমশ খনা,  নূরজাহান, ঝাঁসির রানী লক্ষীবাঈ এদের মধ্যে অতীতের পরিশালীত রূপ প্রষ্ফুটিত।উনবিংশ শতকে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নারী বিরোধী কুসংস্কার ও নারী শিক্ষার পথচলা শুরু হয়, ক্রমশ আরও মহান ব্যাক্তি এই কর্মযজ্ঞে সামিল হন। তথাপি মুষ্টিমেয় কিছু নাম খড়ের গাদায় সূঁচ খোঁজার নামান্তর।


   ...........................নারী মানে মা, ভগ্নি,কন্যা, স্ত্রী র কল্যাণমূলক অবস্থান। সম্পর্কের সূত্রে বেঁধে থাকা চিরকালীন অটুট
বন্ধন নারী। তবুও বিষ্ময়কর সত্য হলো পৃথিবীর আলো দেখার অধিকার নেই এই ফতোয়া তে মৃত কন্যা ভ্রুণের ঠাঁই হয়
জঞ্জাল আস্তাকুরে। "দ্যা ল্যানসেট "সাময়িকীতে প্রকাশিত সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে 1980 থেকে 2010 এর মধ্যে 40 লক্ষ থেকে 1কোটি 20 লক্ষ কন্যা ভ্রুণ হত্যা হয়েছে। কন্যা সন্তান বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত নয় ভারতে। পরিসংখ্যান আরো বলছে বর্তমান ভারতে ছয় বছর পর্যন্ত শিশুদের মধ্যে ছেলে শিশুর থেকে মেয়ে শিশুর সংখ্যা 71 লক্ষ কম ! আসল সমস্যা আমাদের মানসিকতায়, যা করাল ব্যাধির মতোই বংশ পরম্পরায় বহন করে চলেছি আমরা।ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী 18 বছরের উর্ধে কন্যা সন্তান বিবাহযোগ্যা।

   আইনের পরোয়া না করেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হয় অসংখ্য কন্যা কে! এখানে এক ভঙ্গুর সামাজিক ব্যাবস্থা পরিলক্ষিত হয়। তাই সর্বাগ্রে নারী দের এগিয়ে আসতে হবে এর বিরুদ্ধে। এবং কিছু দৃষ্টান্ত এই ক্ষেত্রে দেখা গেছে যা প্রশংসনীয়।।
নুন্যতম জীবন ধারন করার প্রাপ্তি টুকু মেটাতে না পারায় আজও কতো নিষ্পাপ জীবনের অন্তিম ক্ষণ হয় সমাজের অন্ধকার
জগত।শুধু মাত্র কলকাতার মধ্যেই মেয়ে পাচারের শতকরা হিসাব 45.5%!

   সামাজিক চেতনা কতো কম হলে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়! আরেক টি মারণব্যাধিতে জর্জরিত সমাজ তা হলো পণ প্রথা।
কতো কন্যা যারা একান্ত ভাবেই নিরপরাধ তারা বলি হয়ে যায় লোভাতুর জান্তব আকাঙ্কার কাছে! কেবলমাত্র আত্মহনন ই
নয়, শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও মেরে ফেলে লোভের বশবর্তী হয়ে। দু:ক্ষ জনক সত্যি হচ্ছে এর প্রভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। পণ বিরোধী আইন 1961 তে পাস হয়। কিন্তু শুধুমাত্র আইন এই সমস্যার সমাধান নয়, এর জন্য সামাজিক চেতনা অনেকাংশে বৃদ্ধি হওয়া দরকার।

   সর্বপরি আর্থিক স্বনির্ভরতা মেয়েদের সব থেকে জরুরী।।সর্বক্ষেত্রে নারী দের আর্থ সামাজিক ব্যাবস্থার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে কি না, তার প্রতি জাগ্রত হতে হবে সকলকেই।। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নারী আজ বহির্বিশ্বের সাথে নিজেকে উন্নতির শিখরে নিয়ে চলেছে, ঠিক সেই উদ্যোগে প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছে তথাকথিত সভ্যতার অন্তরালে। নারী সুরক্ষা আইন যথাযথ ভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কিনা তার মূল্যায়ন সঠিক ভাবে নির্ধারণ হোক এটাই কাম্য।সচেতন নাগরিক হিসাবে প্রত্যেকের উচিত বন্ধুত্বপূর্ণ বন্ধনে একত্রে অবস্থান এবং এটাই অভিপ্রেত।নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা তেই এক নুতন সুন্দর সমাজ ব্যাবস্থা ফিরে পাওয়া সম্ভব। কিন্তু যতো দ্রুত উন্নত হয়ে উঠছে সামাজিক ব্যাবস্থা, ঠিক ততগুন কি পিছিয়ে পড়ছে মানসিকতা?এই প্রশ্নের আত্মসমীক্ষা করার আশু প্রয়োজন, কারণ শেষ পর্যন্ত আমরাই যে দাবি করি আমরা "মানুষ "!!

বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে দাড়িয়ে অন্তত একবার ভেবে দেখা .........একজন নারী ই আমার মা।।।।


কলকাতা ।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.