Showing posts with label বিশেষ পাতা. Show all posts
Showing posts with label বিশেষ পাতা. Show all posts

Thursday, April 09, 2020

গার্গী মালিক / করোনা



Painting 
CORONA 
base: acrylic 
Size: 10"×12"

গার্গী মালিক / করোনা


গার্গী মালিক / করোনা
শিল্পী - গার্গী মালিক 

Read More »

শর্মিষ্ঠা ঘোষ / কেউ দেখে শেখে কেউ ঠেকে শেখে

sobdermichil | April 09, 2020 |
শর্মিষ্ঠা ঘোষ  /  কেউ দেখে শেখে কেউ ঠেকে

কেউ দেখে শেখে কেউ ঠেকে। একটা বিপদের সময় এটা আরও বোঝা যায়। গোটা পৃথিবী বিশেষত উন্নত বিশ্ব আজ ঠেকে শিখছে। গোটা স্পেন সরকারের আন্ডার এ নিয়ে নিয়েছে সব বেসরকারি হাসপাতাল। সব কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা দিচ্ছে সরকার। আমাদের সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে সরকার লকডাউন এ খেতে দিলেই অনেক আবার মাইনে কিসের। 

কি দিন কাল দেখতে হোল মাইরি একটা রোগের দৌলতে, বিশ্বের বড়দা শেষ মেষ ছিচকে চুরি করছে। ফ্রান্স এর জন্যে মাস্ক যাচ্ছিল চীন থেকে। বড়দা মাঝপথে গাপ করে ফেলল।

কেন বড়দা, পরমাণু বোমা টোমা দিয়ে ভাইরাস মারা গেল না?

আরো কমেডি আমাদের দেশের ক্ষেত্রে। যে বেঙ্গল কেমিক্যাল বেচে দেওয়ার জন্য কেন্দ্র কোমর বেঁধেছিল, কর্মী সংগঠনকে কোর্টে যেতে হয়েছিল বিক্রি ঠেকাতে সেই বেঙ্গল কেমিক্যাল ই আবার গোটা ভারতে সবচেয়ে বেশি বানায় হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন যা নাকি খানিকটা কাজ করছে করোনা প্রতিরোধে।

পোয়েটিক জাস্টিস আর কাকে বলে। ভারত এই হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন, প্যারাসিটামল ইত্যাদি ওষুধ এর রপ্তানি আপাতত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতেই বড়দার ধমক এবং সুরসুর করে ব্যান প্রত্যাহার।

ধর্মের কল নড়া শুরু হয়েছে আর কি।

একে একে কোল্যাপস করছে মেডিক্যাল সিস্টেম। কোলকাতার এন আর এসের ৬৪ জন ডাক্তার নার্স এর কোয়ারান্টিনে যাওয়া , মুম্বাই এর দুটি হাসপাতাল একই কারণে সাট ডাউন হয়ে যাবার পর এবার দিল্লীর এইমস এর কার্ডিও নিওরোলজির ৩০ ডাক্তার নার্স কোয়ারান্টিনে।

মনে রাখা দরকার আমাদের দেশে প্রতি ১১ হাজার মানুষ পিছু ডাক্তার একজন। জনসংখ্যার ০.৭ পার্সেন্ট হাসপাতালের চিকিৎসার সুযোগ পেতে পারেন। আমাদের হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন ভয় দেখিয়ে আদায় করল মোটাভাই। সেই ওষুধের কাঁচামাল আবার পাঠায় চীন।

আমাদের ডাক্তার নার্সদেরই মাস্ক গ্লাভস পিপিই র অভাব। আমরা আবার সেগুলো রপ্তানি করছি সার্বিয়াতে।

বেশ সার্কাস সার্কাস ব্যাপার। রিং মাস্টার একবার বললেন তালি দাও থালা বাজাও। আমরা হেব্বি মিছিল টিছিল করে থালা ভেঙ্গে ডাক্তারদের নার্স দের পাড়া ছাড়া করলাম। পিপিই র বদলে রেইনকোট পেয়েছে বলায় ডাক্তারকে গ্রেফতার করে ফেললাম। এর মধ্যেই ১০০ লোক মরে গেল। আক্রান্ত তখন ৪০০০।

আলো উৎসব করতে বললেন। আমরা পুরো দিওয়ালি দেখিয়ে দিলাম। পাটনায় বাজিব় আগুনে নিহত ৩ আহত ১৮। রাজস্থানে পুড়ল বাজি ।মরল কি বাঁচল মিডিয়া জানাতে ভুলে গেছে। কারণ তারপরই ২ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০০ ছাড়িয়েছে। মৃত সরকারি হিসেবেই ১৫০ পেরিয়ে গেছে।

আমাদের ফুল মিষ্টির দোকান খুলেছে একে একে। দোকানে তৈরী হচ্ছে করোনা মিষ্টি। হেব্বি কাটতি নিশ্চয়ই । মদের অভাব শুনছি লোক জন আপন হাত যশে মেটাচ্ছে। সামনে বৈশাখী উৎসব। আমরা বুঁদ মৌতাতে।

১৩০ কোটির দেশের ৮০ কোটি খাবার খুঁটছে। কয়েক লক্ষ ভিনরাজ্যে কাজ করতে গেছিল পেটের দায়ে। এখন পেট ও গেছে খিদেও নেই। এক বন্ধু বিশেষ ব্রান্ডের লিকার না পেয়ে মর্মাহত। সে আরেক বন্ধুকে সদুপদেশ দিয়েছে ঐ সব স্লাম ডুয়েলার অশিক্ষিত নগন্যদের চিৎকারে কর্ণপাত না করতে।

আমি শ্লা ভেবে যাচ্ছি আমি কার দলে। কে আমায় খেলতে নেবে। লুডো না। আমি পুতুল ও খেলি না। আমি কোথায় মানাই প্রভু?

Read More »

Wednesday, April 08, 2020

মৌমিতা পাল / করোনা

sobdermichil | April 08, 2020 |
মৌমিতা পাল / করোনা

এ বড়ো সংকট কাল ।এ বড়ো সংকটের সময়।যখন বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো বড়ো দেশ আর সাধারণ দেশের মধ্যে কোন তফাৎ নেই।আজ সবাই বড়ো অসহায়।যতই উন্নত মানের চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকুক পাশ্চাত্যের দেশগুলিতে তবুও আজ অসহায় হয়ে গেছে সবাই।কোন উপায় নেই।কোন সমাধান নেই।

চারদিকে আতঙ্ক বিরাজ করছে।ভয়ের আবহাওয়া চারিদিকে।কি হবে ,কবে থেকে আবার সব স্বাভাবিক হবে এই প্রশ্ন আজ সবার মনে।সকালে ঘুম ভেঙ্গে আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গোটা সময় টা এই নিয়ে চলেছে।কোন আনন্দ কোন ভালো কিছু আজ মনের মধ্যে স্থান করে নিতে পারছে না।কবে রবিবার আর কবে অন্য দিন মন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।আমরা সবাই দিন কাটাচ্ছি একরাশ আতঙ্ক নিয়ে।

জীবনের বেশ কিছু দিন পেরিয়ে এসেছি।অভিজ্ঞতা নেহাত কম নয়।তবুও আজ পর্যন্ত কোনো বার এরকম হয়নি।লক ডাউন শব্দটি আজ পর্যন্ত এভাবে শুনিনি।কয়েক দিন এর মধ্যে কেটেও গেল।প্রথম প্রথম অত কিছু বুঝতে পারিনি।ভেবেছিলাম হয়তো কয়েক দিন পর সব ঠিক হয়ে যাবে।কিন্তু কোথায় কি!কোন কিছু তো ঠিক হচ্ছে না।বুঝতে পারছি না কবে সব স্বাভাবিক হবে।

সকাল থেকেই শুরু হচ্ছে খবর দেখা।বাড়িতে সবাই এখন।তাই আলোচনা ও চলছে।কিন্তু একসময় ক্লান্ত লাগছে।চারদিকে অবস্থা দেখে হতাশ লাগছে।তবুও তো আমরা দুই বেলা খাচ্ছি।আর যাদের অবস্থা সেরকম নয় তাদের অবস্থা ভেবে খুব খারাপ লাগছে।বর্তমানে সরকার থেকে সাহায্য করা হচ্ছে এটা ঠিক।কিন্তু এরপর!কতদিন এভাবে চলবে!জানিনা কি হবে।অর্থনীতির চরম বিপর্যয় ঘটবে এটা বুঝতে পারছি।বাইরে থেকে প্রচুর শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ চলে আসছে।এছাড়াও যারা সামান্য ব্যবসা করেন তাদের অবস্থা ভালো নয়।

কবে সব মিটবে জানা নেই।হয়তো একদিন ভাইরাস বিদায় নেবে ।কিন্তু ততদিনে অর্থনৈতিক যে বিপর্যয় ঘটে যাবে সেটা কতদিনে ঠিক হবে এটাই সবথেকে বড়ো চিন্তার।এমনিতেই অর্থনৈতিক দিকে পিছিয়ে পড়া দেশ আমাদের তারপর এই ঘটনা আরো চিন্তাজনক।চারিপাশে মানুষের অসহায় মুখ।কিছু ভাবতে পারছি না।বড়ো হতাশ লাগছে।

তবুও আমাদের আশা রাখতেই হবে।বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতেই হবে।থেমে থাকলে চলবে না।সবাই মিলেই আমাদের পথ চলতে হবে।সবার সবার পাশে দাঁড়াতে হবে যার যতটুকু ক্ষমতা তাই নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।অনেক মানুষ অনেক ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এটাই আশার।

হয়তো একদিন প্রকৃতি নিজেই সব ঠিক করে দেবে।সময় নিজেই ঘুরিয়ে দেবে সময়ের চাকা।এই সংকট মূহুর্তে ও আমাদের এই আশা ছাড়লে চলবে না।এই মনের জোরের সাথেই আমাদের এই বিপর্যয় মুহূর্তে এগিয়ে যেতে হবে।

'আমরা হারবো না আমরা হারবো না' কবিগুরুর এই কথা আমাদের শক্তি জোগাবে।আমাদের ভালো থাকতেই হবে।আমাদের সব বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতেই হবে।আর তার জন্য চাই আমাদের সঠিক ভাবে সাবধান থাকা।আমাদের নিজেদের সাবধান হতে হবে।লক ডাউন মেনে বাড়িতে থাকতেই হবে।সবরকম সাবধানতা অবলম্বন করে আমাদের এই সংকট মুহূর্ত পার করতে হবে।বাকিটা সময়ের উপর, প্রকৃতির উপর, নিয়তির উপর।এর উপর দিয়ে কেউ যেতে পারে না।আমাদের শুধু চেষ্টা করে যেতে হবে।আমাদের আশা রাখতে হবে।

@মৌমিতা পাল

Read More »

নিশিকান্ত রায় / জেগে আছি

sobdermichil | April 08, 2020 |

জেগে আছি

জেগে আছি তোমার জন্য। তোমাকে ভেবে অবসন্নতা পলকেই ঘিরে নেয় চাঁদের কৌটা ভরা রঙ। অন্ধকার ফিকে হয়ে আসে। চৈতী বাতাস থেমে যায়। পথ ঘাট পাথুরে রেল ভবঘুরে হয়ে যায়।

চিহ্ন এঁকে আঁকাবাঁকা ছায়া শরীর মন্হন করি ভাবলেশহীন।

আমি একা। বড্ড বেশি নিঃসঙ্গতা। ঢেউহীন নদী জলে নুলো রোদ।মানুষের ঝাঁক ছুটে চলেছে কোনো শক্তির খোঁজে।
নদী মাঠ শষ্যক্ষেত্র ফাঁকা। কলকারখানা ধোঁয়াহীন। দামী মার্বেল পাথরের উপাসনালয়গুলো নৈশব্দময়। সভ্যতার ছাকনিতে সবাই যেন আটকে আছে। প্রেমিকেরা উন্মাতাল চায়ের চুমুকে ভিজিয়ে রেখেছে ওষ্ঠদ্বয়। হাত দুটো মৃত্যুদূত। আলিঙ্গনে বিষ। চিকন ওষ্ঠাধারে নীলদংশন। তুমি আমি ক্রমাগত দূরে, তুমি আমি বিচ্ছিন্ন সকাল, শুধু ধ্বনি প্রতিধ্বনি হয়ে ছুটে চলা।

শুধু আলো শুধু অন্ধকার শুধু যুদ্ধ শান্তির খেলায় বেঁচে থাকা নিরর্থক বোকামি। তুমি আলো, তুমি মেঘ,তুমি শস্য, তুমি পৃথিবী হয়ে ফিরে আসো।তুমি ঔষধী হয়ে ফিরে আসো উঠোনের ঘাসে। তুমি আমি কোষ বদল করে নিরুদ্দেশ হয়ে যাই। পাঁচটা আঙুল ভরা হাতের তালুতে দৃষ্টি ফেলে জ্বালিয়ে রাখি অনির্বাণ শিখা। 
Read More »

Thursday, April 02, 2020

শর্মিষ্ঠা ঘোষ / কি ধারণ করেছ তুমি

sobdermichil | April 02, 2020 |
কি ধারণ   করেছ তুমি

কি ধারণ 
করেছ তুমি 

এখন কি কি ধারণ করেছ তুমি বল
যেখানে অঙ্কুর নেই খাঁ খাঁ স্নেহ প্রেম
যেখানে অহম ক্লান্ত করে যাওয়া থাকাথাকি
যেখানে চারটি দেয়াল গেঁথে একলাটি বাঁচা 
হাত নেই চোখ নেই চাওয়াটুকু ছাড়া
সীমানা গন্ডুষ ভরা বোকামিকে দেখ
পৃথিবী ছাপিয়ে ওঠে আপনার বোধ
কেউ নেই কিছু নেই তুমি বা তোমরা
এই সমর কালে রক্তাক্ত সন্ধ্যায় বল ,তুমি বল
তুমি কি কি ধারণ করেছ তবে বল
তুমি কাকে নিজ গুণে ধার্মিক করেছ
কাকে কাকে ফেলে গেছ স্বার্থান্বেষী জ্ঞানে
Read More »

Wednesday, April 01, 2020

প্রি য় দী প / প্রসন্ন সত্য

sobdermichil | April 01, 2020 |
প্রি য় দী  প   প্রসন্ন সত্য

প্রি য় দী  প 
প্রসন্ন সত্য 

সব খুলে দাও!
আমাদের চোখ ভরছে না
আমাদের জিভ নড়ছে না।

তুমি তো জানো -
আমাদের বিবেক
আমাদের সচেতনতা
আমাদের মানবতা -
এমনকি,
আমাদের কৃতজ্ঞতা !
গোগ্রাসে, চির সজাগ
হে রাষ্ট্র -

তাই ,
সব বন্ধ দরজা
সব অবরুদ্ধ লজ্জা
এমনকি,
সব নির্মোক রূপসজ্জা
সব খুলে দাও
সব তুলে দাও
মৃত্যুর অমোঘ উল্লাসে ....


Read More »

Friday, March 27, 2020

মৌমিতা ঘোষ / প্রার্থনা

sobdermichil | March 27, 2020 |
মৌমিতা ঘোষ / প্রার্থনা

প্রার্থনা
(সত্যি ভূতের কষ্টগল্প)


"উফফ্,খেটে খেটে হাতটা ক্ষয়ে গেলো। আর পারছি না বাপু। "

" যা বলেছিস, এতদিনের বদ অভ্যাস, কাজের লোকের সাহায্য নেওয়ার, তাই এক একখান অপদার্থে পরিণত হয়েছি।"
"আমার তো জুম কলে সারাদিন ক্লাস নিতে হচ্ছে। তার উপর সকালের ব্রেকফাস্ট বানানো চারজনের, তারপর লাঞ্চের ব্যবস্থা করে বাসন মেজে, স্নান করে ফরমাল ড্রেসে বসে পড়া ভিডিও কলে । মাঝখানে দুপুরে খাওয়া। আবার অফিসের কাজ,সেটা শেষ করে , সন্ধেবেলার টিফিন বানানো, আবার রাতের রান্না। যতবার রান্না, ততবার সবজি কাটা, ততবার বাসন ধোয়া। উফফ্।" বলে দ্রিমিতা।

" আমার ও গবেষণার কাজ, অফিসের কাজ, বাড়ির কাজ, পাগল হয়ে যাবো মাইরি।"
" সাবধানে থেকো। রাখছি। একটা অফিসের কল ঢুকছে।"
"হ্যাঁ, বাই। টেক কেয়ার।" রাখে চান্দ্রেয়ী।

আজ  লক ডাউনের  চতুর্থ দিন। তার আগের সাতদিন থেকেই ওরা প্রায় গৃহবন্দি। পৃথিবীর মানুষের ঘুম কেড়ে নিয়েছে করোনা ভাইরাস। বিচ্ছিন্নতাই একমাত্র রাস্তা বাঁচার । সবরকম ভাবে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করা মানুষ আজ বুঝছে মানুষের স্পর্শ তার কত জরুরি ছিল। আজ নতুন করে মানবতার পাঠ নিচ্ছে সভ্যতা।

চারদিকে মৃত্যু মিছিল তাড়া করছে মানুষকে।এইসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে দ্রিমিতা রান্না ঘরে গেল। ছেলেটা চাউমিন ভালোবাসে । সেদ্ধ বসালো একটু সয়াবিন অয়েল জলে মিশিয়ে। একটু গরম হতেই গ্যাস অফ করে রেখে দিল কিছুক্ষণ। তাহলে জড়াবেনা চাউমিন। জয় এসে বলে গেল , "শুধু ছেলেকে খাইওনা, আমার ও খিদে পেয়েছে। "

এটা জানা কথাই। দ্রিমিতা দুজনের মাপেই বসিয়েছে।আলু-পিঁয়াজ ছাড়িয়ে কাটতে বসে দ্রিমিতা। এখন ক্যাপসিকাম, কর্ণ ইত্যাদি কেনার অপশন নেই।সেদ্ধ চাউমিনটাকে নীল ঝুড়িতে ঢেলে দেয় দ্রিমিতা সিঙ্কের উপরে।তারপর জল ঝরে গেলে চাউমিন বানাতে শুরু করে। ঝুড়িটা ধুয়ে মেঝেতে রেখে দেয়। চাউমিন পেয়ে ছেলে রাতুল তো খুব খুশি। 

" মামান, দারুণ হয়েছে খেতে।'

বাপ-বেটার পরিতৃপ্ত মুখ দেখে ও খুশি হয়ে যায়।গরম লাগছে বলে বেডরুমে ফ্যান চালিয়ে বসে সবজি কাটে। জয় নেটফ্লিক্সে ওয়েব সিরিজ দেখছে।

সবজি কাটার পর রান্নাঘরে ফিরে যায় দ্রিমিতা।আরে, ঝুড়িটা কোথায় গেল? এখানে ই তো রেখে গেলাম। গ্যাস ওভেনের আশেপাশে দেখে, মেঝেতে তো রেখেছিলো, নেই। বাসনের তাক থেকে সবজি রাখার লোহার তিনতাক, ঝুড়ি, সব খুঁজে ফেললো। নাহ্। নেই।

" আশ্চর্য, কোথায় যাবে?"

কালকে সকালের জন্য মাছের ঝোল বসালো।" এদিক ওদিক খুঁজলো ও। নাহ্ নেই।ঘরে খুঁজে এলো সয়াবিনের তরকারি বসিয়ে।নেই তো।ওখানে যাওয়ার কোন চান্স নেই, তবু ছেলের ঘর খুঁজে এলো , ছাদে খুঁজে এলো। অস্বস্তি হচ্ছে দ্রিমিতার । এ তো ভূতুড়ে কান্ড! 

জয় কে ডাকে ও। জয় আসতে দেরি করছে দেখে চিৎকার করতে শুরু করে।

" বলো কী হল? 

" দেখো না, আমার নীল ঝুড়িটা পাচ্ছিনা। চাউমিনের জল ঝরিয়ে এখানে ই রেখেছিলাম, কোত্থাও নেই। আমার হয়তো চোখের ভুল হতে পারে, তুমি একবার দেখো তো।"

" বাবা, ঝুড়িশুদ্ধু চাউমিন খেয়ে নিলে?"

" তুমি মজা পাচ্ছো? এরকম ভূতুড়ে একটা ঘটনা!"

জয় হ্যা হ্যা করে হাসে। গা জ্বলে ওঠে দ্রিমিতার । "খোঁজ বলছি। "

জয় খোঁজে। খুঁজতেই থাকে। নাহ্ নেই। ঘামতে শুরু করে দ্রিমিতা। কেমন অস্বস্তিকর ফিলিং হচ্ছে। ওভেনে বসানো দুটো তরকারি ই ফুটছে।ও গিয়ে সোফার উপরে বসে। মনটাকে ডাইভার্ট করতে ফেসবুকে মন দেয়। সবাই আতঙ্কিত। তবু একটাই ভালো কথা, এই প্রথম নিজের স্বার্থে হলেও মানুষ এক হচ্ছে। লোকে অন্যকে সাহায্য করছে, বয়স্ক একা মানুষ কে খাবার, ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছে দ্রিমিতার এক বন্ধু।

লোকে পরিচারিকাকে পেইড লিভে পাঠিয়েছে।দ্রিমিতা তো চাল ডাল ও কিনে দিয়েছে। এই প্রথম মানুষ নিজের পরিবারের বাইরে সবার জন্য প্রার্থনা করছে।এই প্রথম সে বুঝেছে ক্ষমতা, প্রতিপত্তি কিছুই তার কোন কাজের নয়।

"নাহ্। তরকারি টা নামাই।"

তরকারি আর মাছ টা নামিয়ে দ্রিমিতা আরেকবার খোঁজে রান্নাঘর থেকে ছাত অবধি। মা'কে ফোন করে সবটা জানায়। " দেখো আমি তো ভূতে বিশ্বাস করি না। কিন্তু এই ঘটনা ভূতুড়ে ছাড়া কী বলব? এত মানুষ মারা যাচ্ছেন, কতজনের অতৃপ্ত আত্মা হয়তো ঘুরছে। কোন মা হয়তো মারা গেছেন, তার ছেলেও চাউমিন খেতে ভালোবাসতো।তাই হয়তো সে এসেছে।কী করি বলতো?"

মা কিন্তু ওর উৎকন্ঠায় হাসেনা। যদিও ওর মা একেবারেই ভৃত প্রেতে বিশ্বাস করে না। 

মা বলে, " এখন একদম খোঁজা ছেড়ে দে। শান্ত হ। খুঁজিস না একেবারে।"

"আচ্ছা" বলে ফোন রাখে দ্রিমিতা।

তবু মন শান্ত হয়না দ্রিমিতার । শ্বশুর মশাইকে খুঁজতে বলে একবার। উনি বলেন, " এখানে তো দেখেছিলাম যখন শেষবার চায়ের কাপ রাখতে এসেছিলাম।"

" একটু দেখুন না, যদি পান।"

" না, বৌমা । নেই।"

" আচ্ছা।" 

ছেলের জন্য খুব টেনশন হয় ওর মনে। বারবার মনে হতে থাকে কোন অতৃপ্ত মায়ের আত্মা দুঃখ পাচ্ছে।কী করবে ভেবে পায়না। ইষ্টনম জপ করে কিছুক্ষণ। তারপর আবার খুঁজতে শুরু করে। না। নেই। 

সুহৃদ ফোন করে ‌। ওকে বলে ঘটনা টা। ততক্ষণে এক্কেবারে ঘেমে গেছে দ্রিমিতা উৎকন্ঠায়। 
সুহৃদ বলে" তাহলে দ্রিমিতা মুখার্জি ও ভয় পায়? ক্যালেন্ডারে লাল দাগ দিয়ে রাখতে হবে যে!"

" যা, ভাগ্, কথা বলবো না।"

তারপর চুপটি করে বসে দ্রিমিতা। হাত জোড় করে বসে প্রার্থনার ভঙ্গিতে বলে , " প্লিজ , তুমি যেই হও তোমার কষ্টে আমি সমব্যথী। তোমার ছেলের জন্য আমার কষ্ট হচ্ছে। তোমার জন্য ও। তোমার ছেলে ভালো থাকুক, এই প্রার্থনা করি। তোমার প্রতি আমি আমার সমবেদনা থাকলো , সত্যি, সত্যি, সত্যি।"

এইটুকু বলে চোখে জল এলো দ্রিমিতার । তারপর গেলো রান্নাঘরে।আর কী আশ্চর্য সবজি রাখার তিন থাকটার মাঝে আটকে আছে ঝুড়িটা, পিছন দিকে। অবাক হয়ে গেল দ্রিমিতা। মৃতের ও সমবেদনা দরকার হয়? মৃত্যুও একটু সহমর্মিতা দাবি করে বোধহয়।

কাঁদছে দ্রিমিতা। কার জন্য জানেনা।


Read More »

মৌমিতা ঘোষ / বাতিল

sobdermichil | March 27, 2020 |
মৌমিতা ঘোষ / বাতিল

বাতিল
কথারা নামলে বসন্ত সে অনন্তপথ
গোলাপ ফুলের তোড়ায় বাঁধা শব্দটুকু
পড়েই আছে, নিছক কিছু খামখেয়ালি
কষ্টদোষে দুষ্ট কেবল সময় একা।

এসব কথা কেউ শোনে না, পাগল হাওয়া
বিশুপাগল গান হারিয়ে দেমাক জমায়
ভরল ঝুলি গান-বিনে সেই আবর্জনায়
তোমার আমার ভাবের দোকান অদরকারি।

ফিরবে বল? বসন্ত রাগ? সুরের জাহান?
কোথায় পাবে অদরকারের এমন বাহার?
বাহানা চাই ? জিততে গিয়ে হারছ জীবন
এক জীবনে হারার মানে জেতাই বুঝি।

কথা না বললে সন্ধে শুধু ব্যর্থ সময়
পাখনা মেলা মাছের চোখের থির আরতি
কথা না বললে তোমার জন্য উদার আকাশ 
কথাই ছিল, হারিয়ে গিয়ে মনখারাপের।

ভাবছ বুঝি কথার কেবল কারিকুরি ?
জীবনখানাই ওড়াই পোড়াই অদরকারি।।

Read More »
 

অডিও / ভিডিও

Search This Blog

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Powered by Blogger.