Tuesday, April 14, 2020

রাহুল ঘোষ

sobdermichil | April 14, 2020 |
পরাজিতদের গল্প    /রাহুল ঘোষ    (পর্ব ১২)  কৌশলী জাদুকর অথবা অসহায় স্বর্ণমৃগ

মানুষ বিজয়ের গল্প শুনতে ভালোবাসে। বিজয়ীর দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি ঘটনাকে বিশ্লেষণ করতে ভালোবাসে। তাই সেভাবেই সাধারণত মহাকাব্য লেখা হয়। তাকে আপনি রূপকথা বা ইতিহাস যাই ভাবুন, দৃষ্টিকোণের কোনো পরিবর্তন হয় না। ফলে, নায়কের আড়ালে খলনায়কের চাপা পড়ে যাওয়াটাই এখানে একমাত্র পরিণতি। তবুও রামায়ণে নায়কের আড়াল থেকে মাঝেমাঝেই যে বিদ্যুৎঝলকের মতো করে জোরালো হয়ে ওঠে খলনায়কের উপস্থিতি, তার কারণ রাবণের বহুমুখী প্রতিভা। যেভাবেই বর্ণনা করা হোক না কেন, যাকে একেবারে চেপে দেওয়া যায় না। ব্যক্তিগতভাবে আমার অবশ্য রাবণকে নিখাদ খলনায়ক বা ভিলেন বলতে প্রবল আপত্তি আছে। আবার মাইকেলের মেঘনাদবধ কাব্যে আজীবন আপাদমস্তক মুগ্ধ ও ডুবন্ত থেকেও আমি তাঁর মতো করে রাবণ ও মেঘনাদকে নায়ক ভেবে নিতেও পারি না। আমার কাছে রাবণ একজন প্রতিনায়ক, আধুনিক লব্জে যাকে অ্যান্টিহিরো বলা হয় আর কী! আমার কাছে রামায়ণের ভিলেন অন্য কেউ, যার কথা এই ধারাবাহিকে আগেও আলোচনা করেছি, এবং সম্ভবত সেই কথার বিস্তারে গিয়েই পরাজিতদের গল্পের নটেগাছটি মুড়তে হবে। রাবণকে কেন প্রতিনায়ক বলছি, তার বহু কারণ আগের পর্বগুলোতে আলোচনা করেছি। ভবিষ্যতেও যে সেই আলোচনায় ফিরতে হবে না, তা নয়। কিন্তু আমি যতই রাবণকে প্রতিনায়ক বলি অথবা রামায়ণের বিকল্প ব্যাখ্যাতাদের কেউ-কেউ যতই তাঁকে রামের মতোই নায়কের মর্যাদায় দাঁড় করাতে চান, একথাও তো সত্যি যে যুগ-যুগ ধরে রামায়ণের শ্রোতা ও পাঠক রাবণকে খলনায়ক হিসেবেই দেখে এসেছে। প্রবল প্রতিভাধর (সম্ভবত রামের থেকে অনেক বেশি) হওয়া সত্ত্বেও যিনি কোনোদিনই রামের সমান হতে পারবেন না। তার কারণ, তিনি যে শুধু কিছু অন্যায় কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন, তা নয়। তার আসল কারণ, তিনি চূড়ান্ত যুদ্ধটিতে পরাজিত হয়েছেন। মূল ধারার ব্যাখ্যা পরাজিতদের গল্প বলেই না, তাকে নায়ক বানানো তো দূরের কথা! ফলে, মূল ধারার ব্যাখ্যায় যে পরাজিত খলনায়কটির সাঙ্গোপাঙ্গদের আরও অবহেলা করা হবে, তাতে আর আশ্চর্য কী! অথচ তাদের কেউ-কেউ পাঠকের (এবং সম্ভবত লেখকেরও) অজান্তে কাহিনির মোড়-ঘোরানো ভূমিকা পালন করে থাকে, সেকথা আমরা খুঁটিয়ে দেখলে বুঝতে পারি। মারীচ তেমন একটি চরিত্র। 

ভালো লাগার বিষয় এই যে, বিকল্প ধারার রামায়ণ চর্চায় রাবণের পাশাপাশি তাঁর সহযোগী পার্শ্বচরিত্রদের নিয়েও কাজ করার প্রবণতা শুরু হয়েছে। সেই চর্চায় অবশ্যই প্রধান চরিত্র হিসেবে রাবণকে বিশ্লেষণ অগ্রগণ্য। কিন্তু বাকিরাও যে অবহেলিত নয়, তা আমরা আগের পর্বগুলোতে দেখেছি। মারীচকে নিয়েও তেমন কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে। তার মধ্যে কিছু মূলানুগ বর্ণনার অনুসারী, কিছু বিকল্পসন্ধানী। মূলানুগ বর্ণনা অনুযায়ী মারীচ অরণ্যচারী অসুরদের দলপতি সুন্দের পুত্র, যে সুন্দ কিনা মুনি-ঋষিদের নিয়মিত আক্রমণ করে বনাঞ্চলে দেব-সংস্কৃতির প্রবেশ রোধ করার করতো। এভাবেই কোনো একটি হামলার সময়ে সে অগস্ত্য মুনির ব্রহ্মতেজের মুখে পড়ে মারা যায়। সুন্দের অবর্তমানে তার স্ত্রী তারকা ওই দলের প্রধান হয়ে ওঠে, এবং তাদের দুই কিশোরপুত্র মারীচ ও সুবাহু-ও ক্রমশ বনাঞ্চলে মুনি-ঋষিদের ত্রাস হয়ে যায়। এরা আশ্রমে কোনো যাগযজ্ঞ হলেই লুকিয়ে এসে যজ্ঞের অগ্নিকুণ্ডে পশুর হাড়-মাংস-রক্ত ইত্যাদি ফেলে যজ্ঞ পণ্ড করে দিত। আশ্রমের তপস্বীরা বাধা দিলে, তাঁদের হত্যা করতো। এরা সকলেই অসুর-সংস্কৃতির নিজস্ব জাদুবিদ্যায় কম-বেশি পারদর্শী ছিল বলে, আরও নানাভাবে মুনি-ঋষিদের হেনস্থা করা এদের কাছে ছিল জলভাত। এই তারকা-মারীচ-সুবাহু ত্রয়ী অর্থাৎ মাতা-পুত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্যই বিশ্বামিত্র মুনি কিশোর রাম ও লক্ষ্মণকে নিজের আশ্রমে নিয়ে গিয়েছিলেন। মহিলার বিরুদ্ধে অস্ত্রচালনায় রামের প্রবল আপত্তি থাকলেও, বিশ্বামিত্রের অনুরোধ ও আদেশে তিনি তারকাকে হত্যা করেন। সুবাহুও সেই সংঘর্ষে মারা যায়। আর মারীচ গুরুতর আহত হয়ে কোনোরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে পালায়। এখান থেকে মারীচের সঙ্গে রামের লড়াইয়ের শুরু, যা শেষ হয় রাবণের সীতাহরণের দিন। মারীচকে কেন্দ্রীয় চরিত্র করে দেবকুমার সোম রামায়ণের যে বিকল্প ভাষ্য নির্মাণ করেছেন, তা মোটামুটিভাবে এই মূলানুগ বর্ণনারই অনুসারী। তবে পথ এক হলেও, তাঁর ভাষ্যে ঘটনাক্রমের ভিন্নতা আছে। অনেক অতিরিক্ত চরিত্র আছে। মারীচের গার্হস্থ্যজীবনের কথা, এমনকি সম্ভাবনাও সেখানে উচ্চারিত নয়, ফলে মারীচপুত্র কালনেমীর প্রসঙ্গ আসারও কোনো সুযোগ নেই। অথচ কালনেমীর একটা ছোটো অথচ উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির কথা তো আমরা সবাই জানি। 

কিন্তু এটাই শেষ কথা নয়। বিকল্প ধারার রামায়ণ চর্চায় মারীচ-বিষয়ক যত আলোচনা আছে, তার মধ্যে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে আনন্দ নীলকণ্ঠন ও কবিতা কানে-র ভাষ্য বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে। তার মধ্যে নীলকণ্ঠনের বর্ণনা রাবণকেন্দ্রীক, কানে-র বর্ণনার কেন্দ্র শূর্পনখা। কিন্তু এই দুই বর্ণনাতেই মারীচের গুরুত্ব লক্ষণীয়। এই দুটি এবং আরও অন্যান্য বর্ণনায় মারীচ একজন বনবাসী অনভিজাত অসুর নয়। সে রাবণের মামা। ফলত বোঝাই যাচ্ছে, এখানে সে সুন্দের পুত্র নয়। সে কৈকেশীর ভাই। অর্থাৎ পরাজিত ও আত্মগোপনকারী অসুররাজ সুমালীর পুত্র। অবশ্য এই ধারার বর্ণনাতেও মারীচের মায়ের নাম তারকা এবং ভাইয়ের নাম সুবাহু। কবিতা কানে শূর্পনখার চোখ দিয়ে মারীচ ও সুবাহুকে দেখিয়েছেন এইভাবে---"Her uncles were both so tall, dark and handsome. And kind, she thought, as Mareech gifted her a huge basket of sweetmeats, ruffling her hair affectionately. Subahu promptly swung her high on his broad shoulders." এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, বিকল্প ভাষ্যের চর্চাকারীরা আদৌ কিশোর রামের অস্ত্রে কিশোর মারীচ ও সুবাহুকে যথাক্রমে আহত ও নিহত হতে দেখেননি। তাঁদের বর্ণনায় এঁরা দুজনেই যুবক, এবং অসুর সাম্রাজ্যের পুনরুদ্ধারের ভবিষ্যতে অন্যতম সহায়ক। এই ধারায় অবশ্য বিশ্বামিত্রের আশ্রমের যুদ্ধের কথা এড়িয়ে যাওয়া হয়নি। সেখানেও রাম এবং লক্ষ্মণ কিশোরবয়সীই। কিন্তু অগস্ত্যের হাতে সুমালীর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে উন্মুখ তারকার সহকারী দুই পুত্র মারীচ ও সুবাহু বয়সে যুবক। দণ্ডক অরণ্যের সেই যুদ্ধের ফলাফল, যা এই পর্বেও আলোচিত, আমরা সবাই জানি। যেটা কিঞ্চিৎ অনালোচিত, তা হলো, সেই যুদ্ধে গুরুতর আহত মারীচ তাঁর মা ও ভাইয়ের মৃতদেহ ফেলে রেখেই কোনোরকমে পালাতে বাধ্য হন, বহুকষ্টে লঙ্কায় এসে পৌঁছন এবং মাল্যবানের আশ্রয়ে থেকে টানা চিকিৎসার পরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। বলাই বাহুল্য যে, এরপরে তিনি ভাগ্নে রাবণের অন্যতম রাজনৈতিক উপদেষ্টা হয়ে উঠবেন।

নীলকন্ঠনের ভাষ্যে মারীচের গুরুত্ব আরও বেশি। সেখানে মারীচের স্ত্রী সুলক্ষণার কথাও আছে। সেখানে প্রহস্ত, মাল্যবান প্রমুখ জ্ঞানী উপদেষ্টাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও মারীচ রাবণের চোখে 'Maricha, the Beloved' যে কিনা কিশোর রাবণকে কুবেরের ক্রোধ থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের যৌবনের সাতটি বহুমূল্য বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করেছে। হাড়ভাঙা খাটুনির দিনগুলো পেরিয়ে ভাগ্নে রাবণের সঙ্গে মামা মারীচের পুনর্মিলনের দৃশ্য অসাধারণ দক্ষতায় এঁকেছেন নীলকন্ঠন। রাবণ ততদিনে যুবক এবং অসুর সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের পরের নেতা হিসেবে মনোনীত। রাবণের বয়ানে নবীন নেতাকে দেখে মারীচের স্বীকৃতির কথা নীলকন্ঠন লিখেছেন এইভাবে : "So you have become the King, eh?" My uncle back-slapped me hard. I stood there grinning like a child who had just scored well in an oral exam. "Now we have to find you a kingdom." মনে রাখতে হবে, অসুর সাম্রাজ্যের প্রাক্তন রাজা যদি সুমালী হয়ে থাকেন, তাহলে সেই সিংহাসন পুনরুদ্ধার সম্ভব হলে, তার উপরে তাঁর একমাত্র জীবিত পুত্র হিসেবে মারীচের দাবিই সবচেয়ে বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু মারীচ সে-সব কোনোদিন কল্পনাতেও আনলেন না। বরং সুমালীর পরিকল্পনা অনুযায়ী কীভাবে রাবণকে দেব-সংস্কৃতির তুলনীয় প্রতিস্পর্ধী করে এগিয়ে দেওয়া যায়, সেদিকেই তাঁর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত। রাজ্যপাট হারানো রাজপুত্র মারীচ যখন থেকে ভাগ্নে রাবণকে প্রতিষ্ঠিত করার এই অভিযানে যুক্ত হলেন, তখন রাবণের চোখে তিনি এইরকম : 'He was 42 now, but remained the same kind and jovial fellow. A king in his time, he will remain a kind-hearted uncle always ready to sacrifice his life to save those who he loved.' অসাধারণ জাদুশিল্পী এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞাবান, এই মায়াময় চরিত্রটিই আসলে মারীচ।

এই পুনর্মিলনের বহু বছর পরে সেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণেই সীতাহরণের পরিকল্পনায় মারীচের একদম সায় ছিল না। কিন্তু প্রথাগত বর্ণনা অনুযায়ী, রামের আদেশে লক্ষ্মণের হাতে শূর্পনখার অঙ্গচ্ছেদের অপমানজনক ঘটনায় রাবণ তখন ক্রুদ্ধ। কেউ-কেউ সীতাকে দখল করার জন্য তাঁর আগ্রহের কথাও তুলে থাকেন। এই দৃষ্টিকোণ বলে, শূর্পনখার অঙ্গচ্ছেদ আসলে সীতাহরণের জন্য রাবণের একটা অজুহাত মাত্র। কিন্তু নীলকণ্ঠন অন্য একটি দিকের কথা তুলে ধরেছেন। রামায়ণের ভারতীয় এবং বিদেশি একাধিক প্রাচীন সংস্করণে আমরা সেই দিকের সমর্থন পাই। কিন্তু সেই বিষয়টি পৃথক আলোচনার দাবি রাখে। আপাতত মারীচকেন্দ্রীক আলোচনায় থাকা যাক। অনিচ্ছা সত্ত্বেও মারীচ রাবণের অনুরোধে সীতাহরণে সাহায্য করতে রাজি হলেন। রাবণের বয়ানে : 'I was so furious that I decided to carry out the mission alone. Finally, he agreed to go along with my plan...' কেউ-কেউ অবশ্য এটাকে রাবণের আদেশ, এমনকি ব্ল্যাকমেইলিং পর্যন্ত বলে থাকেন। একথায় বিতর্কের অবকাশ থাকলেও এই নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকতে পারে না যে, মারীচের প্রতিভাই শেষ পর্যন্ত মারীচের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ালো। কারণ, কৌশলী জাদুকর হওয়ার পাশাপাশি মারীচ ছদ্মবেশ ধারণে এবং গলা নকল করতে অসম্ভব পারদর্শী। সম্ভবত এগুলোও তাঁর জাদুবিদ্যারই অঙ্গ। কিন্তু এইসব গুণই রামের বাণে মারীচের মৃত্যু নিশ্চিত করে দিল।

এরপরে মারীচের স্বর্ণমৃগ-রূপ ধারণের ঘটনা এবং সীতার আবদারে রামের সেই সোনার হরিণকে ধাওয়া করার ঘটনা বোধহয় পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ জানে! ফলে, তার পুনর্বর্ণনা নিষ্প্রয়োজন। কিন্তু এর মধ্যে অলৌকিকত্বের প্রবল উপস্থিতি আছে। অবশ্য যুক্তিবাদী ব্যাখ্যাকার নীলকণ্ঠন এই বিষয়ে রাবণের বয়ানে একটি চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন : 'I knew it was Maricha who was the deer and that he was too good to be shot. Maricha must have killed a deer and skinned it and was hiding behind it. It was a brilliant and simple camouflage.' যাইহোক, সীতাহরণ করতে গিয়ে রাবণকে এমন দক্ষ শিল্পী মাতুলের প্রাণ বাজিতে হেরে ফিরতে হলো। সীতা তখন রাবণের কব্জায় বটে, কিন্তু মারীচের মৃত্যু যে রাবণকে পরাজয়ের স্বাদ এনে দিল, তাতে প্রায় সব মত ও পথের বর্ণনাকারীরাই একমত হয়ে থাকেন।

একজন সার্থক আধুনিক ব্যাখ্যাকারের অন্যতম কাজ মানুষের মনের সমস্ত আলো-অন্ধকারকে তুলে ধরা। শুধু ঘটনাক্রমের বর্ণনাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। দক্ষ ব্যাখ্যাতা হিসেবে নীলকন্ঠনও সেই দায়িত্ব এড়িয়ে যাননি। বরং সীতাকে নিয়ে লঙ্কায় ফিরে আসার পরে, মারীচের স্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে রাবণের যে-অনুতাপ ও আক্ষেপ তুলে ধরেছেন, তার একটা অংশ এখানে তুলে না-দিলে, কাহিনিতে মারীচের গুরুত্ব এবং রাবণ-মারীচ সম্পর্কের গভীরতা সম্বন্ধে আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। 'My aunt searched for her husband but I averted my eyes. The dreaded moment had come and I did not know what to say. I felt numb. Maricha was dead. That was the naked truth about my ill-fated adventure. Somewhere deep inside the forest, the old man lay dead. I had left him to the mercy of those two barbarians. At the time, I had not thought of him, or the selfless love and the sacrifices he had made to make me into what I had become.' এইখানেই রাবণের অসুর-সংস্কৃতির মুখ হয়ে ওঠার পিছনে মারীচের অপরিসীম অবদানের কথা অনায়াসে বোঝা যায়। কিন্তু কেন নিজের অন্তিম পরিণতি হতে পারে জেনেও মারীচ এই অভিযানে রাজি হলেন? নেহাতই ভাগ্নে রাবণের প্রতি অন্ধ-স্নেহবশত? নাকি, অসুররাজ রাবণের আদেশে ভীত হয়ে? নাকি, অসুর সাম্রাজ্যের রাজকন্যা শূর্পনখার উপর হওয়া অপমানের বদলা নিতে? নাকি, মা ও ভাইকে হত্যাকারী রামের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার তাড়নায়? এইসব প্রশ্ন নিয়ে আলোচনার বহু সুযোগ আছে। হয়তো এর সবকটিই অথবা কয়েকটি প্রাথমিকভাবে অরাজি মারীচকে এই অভিযানে যোগ দিতে তাড়িত করেছিল। এই নিয়ে মতপার্থক্যের বহু সম্ভাবনা আছে। কিন্তু যা নিয়ে মতপার্থক্যের সম্ভবত কোনো সুযোগ নেই, তা হলো, চেপে দেওয়া পরাজিতদের গল্পে আরও কয়েকজনের মতো মারীচেরও ভূমিকা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। 

(ক্রমশ)

রাহুল ঘোষ
Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

অডিও / ভিডিও

Search This Blog

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Powered by Blogger.