মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯

নিবেদিতা ঘোষ মার্জিত

sobdermichil | ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯ |
খোলাম কুচি দর্শন-৪
আমরা আসলে ভয়ানক স্বার্থপর জগতের বাসিন্দা। বিশেষ করে যারা কয়েক পাতা পড়ে বুঝতে পারি, দোকান বাজার থেকে দরকার মতো কিনতে পারি, যাদের সাথে লোকে হেসে কথা বলে, (পেছনে গালাগালি সবাই দেয়),সমুদ্র-পাহাড়-জঙ্গল ঘুরে আসার নানান অভিজ্ঞতা আছে, এই ‘আমরা’ বড্ড স্বার্থপর। চারকোণা স্ক্রিনে কিছু লোক আমাদের আমোদ দিয়ে প্রচুর টাকা রোজকার করে। এই আমরা খুব স্বার্থপর তাই নয়, নির্বোধ ও বটে। আমরা ‘শৈশব’ বাঁচানোর যে কথা বলে বেড়ায়। সেটার ছবি কি বলুন তো... লোপামুদ্রার গান। “পিঠের ব্যাগটা বড্ড ভারী...”।শৈশব এর গল্পটা কেবল ইস্কুল আর বাড়ির প্রত্যাসার চাপ ব্যাস। প্রচুর অকারণ বকছি আর বকবো না।আজকের কথা , ‘ছেলেবাচ্চা’ দের নিয়ে। 

আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পরা বিপুল সংখ্যার মানুষ কিভাবে তাঁদের শৈশব কাটিয়েছেন... তাঁদের সন্তানরা কিভাবে কাটাচ্ছেন... তাঁদের ভবিষ্যতে যারা আসবেন তাঁরা কি ভাবে কাটাবেন? একটু উঁকি মারি। ক্‌দিন আগেই গরমের ছুটির আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়ে ছিল।বেশ কিছু বাচ্চা ধান কাটতে গিয়েছিল। না,নিজের চেনা চৌহদ্দি তে নয়-অন্য জেলা। কোন এক অপরিচিত লোকের সাথে দুটো হাফপ্যান্ট, জামা আর চটি পায়ে দিয়ে।ভালো তো তাই না... রোজগার হচ্ছে।আপনার কি মনে হয়, এদের কে একটুও না ঠকিয়ে ন্যায্য মজুরি দেওয়া হয়? এরা তাও ‘ভালো’ এবার আসি ‘যাদের কেউ ভালোবাসে না’।বাবা মার মধ্যে কেউ অসুস্থ মারা গেছে, একজন কিংবা দুজনেই, কিংবা মা কে বাবা তাড়িয়ে দিয়েছে ইত্যাদি প্রভৃতি – তাদের জীবন? 

–চায়ের দোকান।

-ইটভাটা

- বাজির কারখানা

- চুন, ট্যানারি, ময়লা পরিস্কার, 

-জড়ির কাজ

- মাল বয়ে নিয়ে যাওয়া

- বাড়ি ভাঙ্গা আর বাড়ি তৈরি করা(রাজমিস্ত্রির কাজ)

- গ্যারাজ

আরে সবাই জানে এগুলো...।নতুন কিছুতো নয়। কাজ শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াবে তো। সবাই কি অধ্যাপক হবে নাকি? না হবে না তো। কিন্তু সাধারণ শিক্ষা? সরকারী নোটিস পড়ে বুঝবার শিক্ষা দরকার। যে টাকা সে খুব কষ্ট আর মারাত্মক পরিশ্রম করে অর্জন করল সেটা সুরক্ষিত ভাবে রাখবার জন্যে বেশ কিছু জিনিস তো তাকে শিখতে হবে। কোথায় সেগুলো? এটার সাথে জানিয়ে দিই সামাজিক শিক্ষার বড্ড অভাব হয়ে পরে তাদের মধ্যে।পরিবার থেকে দূরে থাকায় এবং স্নেহদান আর গ্রহনের কোন পরিবেশ না থাকার ফলে অনেকের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে না। হৃদয়হীন হয়ে যায় কেউ,কেউ আবার কারো এমন কিছু ভয় তৈরি হয় সাধারণের চোখে ‘পাগল’ বলে মনে হয়। এছাড়া থাকে বিপদজনক কাজে যাবার ফলে বিকট দুর্ঘটনা কিংবা দুরারোগ্য ব্যাধি এদের বহু জনের সঙ্গী হয়। কেউ যদি অঙ্গহীন হয়ে পর তার জীবন আরও দুর্বহ। আমাদের সাধারণ চোখে মানুষ পাচার মানেই ‘আদি ব্যবসা’, তা কিন্তু সবটা নয়।এর সাথে লিভার,চামড়া, কিডনি ছাড়াও আরও অনেক বিচিত্র ভাবে শরীরের অংশ কালো পথে বিক্রি হয়। বুক হিম হয়ে এলেও সত্যি এই শিশুদের সাথে সেটা হয়।বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে কিছু মানুষ কিভাবে ভয়াবহ জীবনের সন্মুখিন হয় এটা তার নিদর্শন। 

নতুন কিছু জানালাম না সব আপনারা জানেন। 

আমরা কি সত্যি কিছু করতে পারি না। বোধহয় একটু সহানুভূতিশীল ভাবে কিছু করতে পারি। আমার ক্ষমতা আর মস্তিস্ক খুব ছোট।তবু যা মনে হল লিখছি।এদের যাতে কাজ করতে যেতে না হয় তার জন্যে কিছু স্থানীয় ছোট ওয়ার্ক শপ গোছের করা যেতে পারে।এদের পড়তে আসতে একটা অনীহা কাজ করে। তার কারণ, তাদের বাড়িতে পড়াশোনা করার পরিবেশ থাকে না।স্বাভাবিক সামাজিক সম্মান যাতে তারা পায় সেদিক টাও দেখা দরকার।কারণ মানসিক ভাবে যদি স্বাছন্দ্য না পায় তাহলে আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে না।আর কথায় বলে না ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। আমদের এই উপায় টা বার করতেই হবে। গ্রামে বহু মেয়েকে বেশী পড়তে দেওয়া হয় না কারণ উপযুক্ত শিক্ষিত পাত্র পাওয়া যাবে না। এই পাত্ররা উপার্জন হয়ত করে কিন্তু মানসিক ভাবে পিছিয়ে থাকে। একটা ব্যালান্সের খুব প্রয়োজন। এটা একটা সামাজিক উন্নতির ক্ষেত্র কে আটকে দিচ্ছে। আমরা এগিয়ে যাব তো। যেখানে আলো যাচ্ছে না সেখানে আলো হাওয়া আর ভালোবাসা দিতে হবে।আসুন সবাই মিলে ‘ইচ্ছে’ করি উপায় হবে।

ক্রমশঃ


Facebook Comments
0 Gmail Comments

-

 
Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ,GS WorK । শব্দের মিছিল আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

English Site best viewed in Google Chrome
Blogger দ্বারা পরিচালিত.
-