শনিবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৯

পিনাকী

sobdermichil | নভেম্বর ৩০, ২০১৯ |
দ্বৈপায়ন এবং একটি সম্পূর্ণ নারীর ভালোবাসার গল্প .........
রাত বেশ গভীর । মাঝরাতে হস্তিনাপুরের সুনসান রাস্তায় সিপাহীরা ঘুরছে । তাদের রুটিন মাফিক কাজ । আকাশের নক্ষত্ররা আলোর মালা নিয়ে , নগরীর মাথায় অপেক্ষায় ; কেউ হস্তিনাপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে ঘাড় উচু করে দেখলে ; তারাদের খেলা দেখবে , ভাববে মাঝরাতের আকাশ অন্য রকম ! 

আকাশে মায়াবি মাদকতা মিশেছে। নগরীর রাজপ্রাসাদ এতো রাতেও আলোহীন নয়। হস্তিনাপুরের মহারাজা শান্তনুর মহল রাতের অন্ধকারে, আলোর চাদর জড়িয়েও, এখন বড্ড অসহায়। রাজমহলে আলো জ্বললেও , প্রজাদের ঝুপড়ি অন্ধকারে ডুবে আছে। কেউ দেখে এখন বুঝতেও পারবেনা , এখানেই দিনের বেলায় মানুষের শব্দে মেতে থাকে। হস্তিনাপুরে দিনের আলোয় নগর চলাফেরা করলেও, রাতে রাজমহলই আলোর সুরকে উপভোগ করতে পাচ্ছে। আমরা যেই সময়ের কথা বলছি , তার অনেক আগেই মানুষের সভ্যতায় আগুনের ব্যবহার হয়ে গিয়েছে। ভারতবর্ষে আলো তখনো সাধারণের হাতের নাগালের বাইরে। রাজ্যের অতিসাধারণ প্রজাদের কাছে জ্বালানি থাকলেও ; নষ্ট করবার মতন নেই , বিশাল নগরীর এমন অনেক জায়গা রয়েছে , যেখানে আলোর ব্যবস্থাই নেই , পাশের রাজ্যে প্রবেশের মুখে আর হস্তিনাপুরের শেষ সীমান্তে রয়েছে গভীর জঙ্গল ; হিংস্র পশু রয়েছে। শেয়ালের গলার আওয়াজ ভেসে আসছে। 

এমন রাতে একজন সম্পূর্ণ প্রায় উলঙ্গ ছয়ফুট উচ্চতার বছর চল্লিশের মধ্যযুবক হেঁটে আসছে। হস্তিনাপুরের রাজপ্রাসাদ থেকে এই নগরের অন্তিম সীমান্তে যে ঘন জঙ্গল ছড়িয়ে আছে , সেখান থেকে নগরের বাইরে বেড়িয়ে যাবে । 

যুবকের মাথায় জটা রয়েছে । সে জঙ্গলেই থাকে , আদিমতা তার দেহে , চোখ দুটো রুক্ষ , গায়ের রং কালো ; খসখসে , মুখ ভর্তি দাড়ি । 

তাকে এখানে আসতে নগরপালের অনুমতি দেওয়া শিলালিপি সাথে আনতে হয়না । সেটা অবশ্য সকল সাধুদের জন্যই । তাকে বিশেষ প্রয়োজনেই হস্তিনাপুরের অন্দরমহলে যেতে হয়েছিল । কেউ ডেকেছিলেন । বিশেষ দরকারেই , এই দরকার রাতের অন্ধকারের আশ্রয়ে ; রাতেই তা মিটে যাবে । 

মাথার উপরে আকাশ , আকাশে তারাদের প্লাবন, প্লাবনে আলোর ধারা। আলোর ধারায় ভিজেছে বনভূমির কোল ; সবুজ আবার কোথাও রুক্ষ , সূর্যের স্পর্শ নেই। এমনই মাঠের উপর পা ফেলে হেঁটে চলেছে লোকটি । এই পথ তার পরিচিত। এমন রাতের সে নতুন সাথী নয়। রাতের নিশাচর পাখি উড়ে এসে বসল; গাছেদের ডালে শিকারের অপেক্ষায়।লোকটি জঙ্গলের ভিতর প্রবেশ করে , ছোট্ট গুহার সামনে এসে বসল। পদ্মাসনে বসে চোখ দুটো বন্ধ করেছে । সারা শরীরে ক্ষত , নখের আঁচড় , রক্তের বিক্ষিপ্ত ধারা গড়িয়ে নামছে , পীঠে বেশ গভীর আঁচড় , শরীর জুড়ে বিধ্বস্ত চিহ্ন । লোকটি বাবু হয়ে বসে ,এমন কিছু স্মৃতি উস্কাচ্ছিলেন ; নিজের শরীরের সেই উষ্ণতা বয়ে চলেছে । আমাদের মনে রাখতে হবে , মহাভারতের শুরুর সময় ; মহাভারতের মতন মহাকাব্যের কেন্দ্রে থাকা রাজা শান্তনুর বংশের ক্ষমতা রয়েছে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সত্যবতীর হাতে । 

# ২ 

ঘরের দরজা বন্ধ । অন্ধকার নেই , প্রদীপের আলোয় কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত ছিল , এখন সেই রেষ রয়েছে । মধ্যরাত । আজই তার এই মহলে শেষ রাত্রি । ফিরে যেতে হবে পুরানো অরণ্যে ; নিজের মতন থাকবে সে । এখানে কেন ফিরে আসা ? শুধুই স্নেহের টানে ? যে তাকে এই পৃথিবীর আলো দেখিয়েছে , তার আদেশ ফেলতে পারবে না ।

নরম বিছানার উপর শুয়ে , দ্বৈপায়ন এইসব কিছু ভাবছিল । শেষ দুটো রাতে যেমন অভিজ্ঞতা হয়েছে নিজেকে খুব ছোট মনে হয়েছে তার । সে রানীর ছেলে , যুবরাজ ,শরীরে বইছে রাজ রক্ত ! এইখানে তার চিন্তা থেমে গেল ।নিজের পরিচয় ! সত্যিই মানুষের নিজের কোন পরিচয় থাকে ? অনেক মানুষ এমনিই পরিচয়হীন ভাবে বেঁচে থাকে । পরিচয় সবসময় বংশের , কূলের , গোত্রের হয় । 

দ্বৈপায়ন ভাবছিল , ভারতবর্ষের আগামী শিশুদের পরিচয় আছে ? নিজেকে প্রশ্ন করলেও সেই একই উত্তর ফিরে আসে । আমরা ‘পরিচয়’ হিসেবে আমাদের বংশকেই বুঝি , ধরে রাখতে চাই । ভারতবর্ষে বংশ হচ্ছে নিজের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা । কক্ষের দরজা খুলে , ভিতরে এলো বছর কুড়ির মেয়ে । 

সেই দিকে তাকিয়ে , দ্বৈপায়ন বলল – তুমি ? 

সন্তান কামনায় , মাসিকে ভিজে যাওয়া যে নারী ; তার ব্যাথা , যন্ত্রণায় হাত বুলিয়ে দিতে , ভারতীয় পুরুষ হাত অভ্যস্থ নয় । অনভিজ্ঞ দ্বৈপায়ন আগে বেশ অভিজ্ঞ হয়েছে । সে বুঝেছে , নারীদের দেহ ভোগ করবার জন্য তাদের মনের চারণভূমিতে ছুটতে হবে । এই ভূমিতে ছুটবার কলা নিজেকেই শিখতে হবে । দেহ সুখ খুবই দুর্লভ । মানুষ যৌন সঙ্গম করে , কিসের জন্য করে , দ্বৈপায়ন নিজেও বুঝতে পারেনা ! পশুদের বংশ বৃদ্ধি করবার চাহিদা যতটা থাকে , তারচেয়েও বেশী শারীরিক বাধ্যবাধকতা । পশুরা অভ্যাসের দাস । মানুষ এখানেই আলাদা , তাদের ভালোলাগা বলে একটা ব্যাপার আছে । ভালোলাগা থেকেই ভালোবাসা হয় । 

দ্বৈপায়ন শৈশবে একাই বড় হয়েছে । তার জীবনে বড় হয়ে ওঠা , একা বেঁচে থাকা থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছুই নেই । সামনে যে পাতলা চেহারার মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে , তারপ্রতিও বিন্দু মাত্র সহানুভূতি নেই । মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলল - আজ তুমি প্রস্তুত ? 

অন্ধকারে মুখ দেখা না গেলেও কুড়ি বছর বয়সে , সম্পূর্ণ নারীর নগ্ন শরীর সে বুঝতে পেরেছে । বুকের উপর নিটোল স্তনের দিকে তার চোখ , স্তন বৃন্তের হাল্কা অবয়ব অন্ধকারে বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না । অন্ধকার শরীরে লেপে রয়েছে । নিজেকে বিশ্বাস করতে চাইছে না ! অম্বিকা আগের রাতে চোখ বন্ধ করে ছিল । সঙ্গমে সে রাজী ছিল না , দ্বৈপায়ন ভেবেছিল এমন সুবর্ণ সুযোগ জীবনে আর আসবে না ! ক্ষেত্রজ সন্তানের জন্য ,পুত্র বধূকে অন্য পুরুষের হাতে তুলে দেওয়ার যে প্রথা কুরু বংশ শুরু করেছে , তা পুরুষের জন্য স্বেচ্ছাচার হলেও লাভদায়ক । ক্ষেত্রজ সন্তান বলতে রাজারা সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হলে , নিজেদের ইচ্ছায় বিকল্প পুরুষকে , নিজের পত্নীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বলত । সন্তান জন্মালে অক্ষম পিতার নিজের পরিচয় দেওয়া হতো ; এখানেও সেই বংশ পরিচয়ের ফাঁদ ! কৃষ্ণ - দ্বৈপায়নের হস্তিনাপুরে আসবার পিছনে এমনই উদ্দেশ্য ; সত্যবতীর আজ্ঞা পালন করা । 

অম্বরা আর অম্বালিকা , দুই পুত্র বধূর ক্ষেত্রজ সন্তানের জন্য দ্বৈপায়ন হস্তিনাপুরে এসেছে । প্রথম রাতে অম্বরা , পরের রাতে অম্বালিকার সাথে সহবাস করেছে । এই দুইজন নারীর কাছেই সে প্রত্যাখ্যাত । নিজের অপমান এখনো ভুলতে পারেনি । সে জানে তার বীর্যে যে সন্তান আসবে , অম্বরা এবং অম্বালিকার গর্ভে , সন্তান সুস্থ হবে না । পুরুষ জোর করে নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলে , নারীর ইচ্ছার বিনিময়ে সঙ্গম করলে ; ধর্ষণ করা হয় । দ্বৈপায়নের বীভৎস্যতা , দুই নারীরকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল ! 

দ্বৈপায়ন আরেকবার সত্যবতীর আহ্বানে হস্তিনাপুরে এসেছে । সে ব্রাহ্মন , তাকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না । অম্বরাকেই তার কাছে আসতে হবে । 

নারী মূর্তিটি খুবই ধীরে এগিয়ে আসছে , দ্বৈপায়ন অম্বরার দিকে এগিয়ে গিয়ে ,পা ভাঁজ করে মাটিতে বসেছে - আমিই তোমার প্রাণ সখা , হে নারী শতাব্দী প্রাচীন ঝর্ণা তুমি । আমি পিপাসায় কাতর সেই পাথরের শিলা , যার ভবিতব্যে কখনো –কখনো জলের স্পর্শ রয়েছে । এসো আজ অন্তত একটি রাতের জন্য আমাকে নারীর মতন ভালোবাসো । আমি পুরুষ , আজ এই মুহূর্তে নারীকামী ... 

নিজের পুরুষালী বন্য হাত দিয়ে , নারীর উত্থিত ভারী নিটোল নরম স্তন টিপছিল , দুটো নরম উষ্ণ মাংস পিণ্ড , স্তন বৃন্তে যে শিহরণ জেগেছে , নিজেকেও ভাসিয়ে দিচ্ছে , জিহ্বার ডগায় সাপের ফণা হয়ে থাকা স্তন বৃন্তের স্বাদ ! আহা , এমন অভিজ্ঞতা এর আগে হয়নি , অম্বরা তাকে তৃপ্তি দিচ্ছে । মেয়েটা আগের পড়বে , প্রথমবার রতিক্রিয়ার সময় চোখ বন্ধ করে দিয়েছিল , সেই রাতে কথার সুযোগ ছিল না । নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হয়েছে। 

মেয়েটিকে নরম শয্যায় শুইয়ে দিয়ে বলল – প্রিয়া , আমার কোমরের পাশে তোমার দুটো পা এমন ভাবে তুলে দাও , আমার পুরুষাঙ্গ যেনও বাধাহীন ভাবে তোমার যোনিদ্বারে প্রবেশ করতে পারে । মেয়েটি মোলায়েম কণ্ঠে বলল – আপনি আমার আতিথেয়তায় খুশিতো ? হে ব্রাহ্মন দেবতা আমাকে কথা দিন , আপনার দেওয়া সন্তান এই ভারতবংশে প্রতিষ্ঠা পাবে । 

দ্বৈপায়ন বলল – এই বংশ , এখন আর শুধু আভিজাত্যের হাতে নেই । মা, সত্যবতী ক্ষত্রিয় কূলে শূদ্র রক্ত আমদানি করেছেন । এমনটা হতে পারেনা । চিরটাকাল ক্ষমতার হাওয়া শুধু একই দিকে বইবে । ভীষ্ম নিজের প্রতিজ্ঞার ফাঁদে কপর্দকশূন্য । সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব , বেতনভুক ক্রীতদাস এ পরিণত হয়েছে । মাতা সত্যবতী হস্তিনাপুরে ক্ষেত্রজ সন্তান এনেছেন , যাতে ধীরে - ধীরে সমাজে শূদ্র , উঁচু নয় , এমন বংশের প্রভাব বৃদ্ধি পায় । তুমি নিশ্চিন্তে থাকো অম্বি , আমাদের সন্তান ক্ষেত্রজ হলেও , সেই এই ভারতবর্ষের সম্রাট হবে । শেষ কথা বলবার পরেই , দ্বৈপায়ন বলল – তোমার যোনিদ্বার এতো কুঞ্চিত কেন ! এমনটাতো কোন বালিকার প্রথম সঙ্গমে থাকে ! এটাতো আমাদের দ্বিতীয় সম্পর্ক , আমার মনে আছে , তোমার যোনিদ্বার আমিই প্রথম নষ্ট করেছিলাম। 

এখন পর্যন্ত , ঘরে গভীর অন্ধকার , কামনার নিঃশ্বাস , আর শীৎকার ছিল ; ক্রমশই অবিশ্বাসের পরিবেশ নেমে আসছে । দ্বৈপায়ন বুঝতে পেরেছে , নারীটি অম্বিকা নয় । সে প্রেম নিবেদন যাকে করেছে , সে অম্বিকা হতে পারেনা । এই প্রথম নিজেকে প্রতারিত মনে হচ্ছে । নিজেকে ব্যবহৃত মনে হচ্ছে । দ্বৈপায়ন শেষ বীর্যপাত করে , চিত হয়ে শুয়ে পড়ল । 

মেয়েটি নগ্ন স্থির শরীরে পাশে শুয়ে আছে , কাঁপা –কাঁপা গলায় বলল – আমাকে ক্ষমা করুন , আমি রাজমাতার আজ্ঞাবহ অসহায় শূদ্র বালিকা । আপনার সাথে সঙ্গমের জন্যই আমাকে প্রস্তুত করা হয়েছে । আমি জানি , আপনার মতন পাণ্ডিত্য আমার নেই । আমি খুবই সামান্য মেয়ে । খুব অল্পই নীতিশাস্থ , ধর্ম গ্রন্থ , বেদ অধ্যায়ন করেছি , আপনার জন্যই । আপনার কাছে আমি শয্যা সঙ্গিনী , আমার হৃদয়ে আপনিই প্রথম পুরুষ , যাকে পুরোটা দিয়েছি । মেয়েদের কাছে প্রথম ভালোবাসা সবচেয়ে দামী , সেইসব কিছু দিয়েছি । আমাকে শাস্তি দিন , আমার সন্তানকে ফেরাবেন না । তাকে সমাজে মর্যাদা দেবেন । 

দ্বৈপায়ন বলল – তুমি আমায় ঠকালে !

মেয়েটি কাঁদছে - আমি আপনাকে চেয়েছি । এও জানি আপনি যাযাবর । কেই বা আপনাকে বেঁধে রাখতে পেরেছে !

-আমার মধ্যে কিছুই নেই, রাজকুমারীরা আমাকে পছন্দ করেনা। ঘৃণা করে। সেই রাতে আমি তাদের সাথে জোর করেছি।এই জোর যতটা নিজের শারীরিক চাহিদার জন্য, তার চেয়েও বেশী ওরা আমার পুরুষত্বকে আঘাত করেছিল । আমি আজ বুঝতে পাচ্ছি , আমি ঋষি হওয়ার যোগ্য নই ।

মেয়েটি বলল – ছিঃ ওইরকম বলবেন না । সবাই সমান ভাবে পৃথিবী দেখেনা , এখানে সবাই যে সবাইকে ভালোবাসবে এমনও হতে পারেনা । আপনি যেমন ভাবে রাতের অন্ধকার দেখেন , আমি অন্যভাবে দেখি । এটাই জীবন । 

দ্বৈপায়নের গলা শুনতে না পেয়ে , মেয়েটি বলল – ক্ষমা করবেন আমি অনেক কথা বলে ফেললাম ! 

মেয়েটির কথা শুনতে শুনতে , দ্বৈপায়ন কোথাও হারিয়ে গিয়েছে ! সেকি প্রেমে পড়ল ? তারমতন বনচারী ,যাযাবরের জীবনে প্রেমের স্থান নেই । তাই হয়তো মাতা সত্যবতী তাকে ডেকেছে । 

কক্ষের জানালার বাইরে গভীর অন্ধকার । আকাশে নক্ষত্রদের মালা আজ আলোর বর্ষণ করছে । নগরী আজ রাতের দৃশ্য ভুলে যাবে , তারা এক প্রেমিক শূদ্র রমণীর মনের খোঁজ রাখবেও না । শূদ্র মেয়েটি যে দ্বৈপায়নকে ভালোবেসেছে , সে ভুল করেছে ? 

# ৩ 

দ্বৈপায়ন চোখ খুলল । রাত ফুরিয়ে আসছে । সে স্মৃতিতে ভবিষ্যতের রাজনীতি দেখছিল । হস্তিনাপুরের রাজমহল ছাড়বার আগে , শূদ্র রমণীটিকে দেখবার খুব ইচ্ছা হচ্ছিল । মেয়েটি নিম্মবর্ণের হলেও , সরল , নিষ্পাপ ; ভোরের প্রথম ফুটন্ত ফুলের পবিত্রতা তার কথায় ভাসছিল !

দ্বৈপায়ন রাজমহল ছাড়বার সময় খোঁজ করেনি শূদ্র মেয়েটির ; বংশ পরিচয়ই নেই এমন শূদ্র রমণীর প্রতি কোন ব্রাহ্মণ কুমারের দুর্বলতা , আভিজাত্য বিরুদ্ধ । মাতা সত্যবতীকে, জিজ্ঞেস করতে পারেনি দ্বৈপায়ন , অম্বিকা সেইদিন কেন শয্যাসঙ্গিনী হল না ? এতো কিছু সত্ত্বেও , আজ নিজেকে তৃপ্ত মনে হচ্ছে । সম্পূর্ণ নারীর ভালোবাসা পেয়েছে সে। একজন সফল পুরুষের জীবনে একজন সম্পূর্ণ নারীর ভালোবাসা পাওয়া , কম কিছু নয় । পৃথিবীতে নারীর ভালোবাসার থেকে মূল্যবান কিছু নেই । দ্বৈপায়নের মুখে হাসি । মুক্তির সন্ধান পেয়েছে । 

সে ভাবছে , সেই রাতে তার মর্যাদা রক্ষা করেছে যে শূদ্র রমণী , তার সন্তানকে সে হস্তিনাপুরের রাজসভায় সম্মান দিতে পারবে ? তার তিন স্ত্রী , তিন সন্তান , সবচেয়ে যোগ্য যদি শূদ্র নারীর গর্ভে থাকে ! 

দ্বৈপায়ন নিজে এক অদ্ভুত ধাঁধায় হারিয়ে গেল , এই ধাঁধায় ভারতবর্ষের আগামী প্রজন্মের বংশ পরিচয়ের প্রগতি আটকে থাকবে ... 


Comments
0 Comments

-

 

অডিও / ভিডিও

সার্চ বক্সে বাংলায় লিখুন -

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.