রবিবার, মে ২৬, ২০১৯

নিবেদিতা ঘোষ মার্জিত

sobdermichil | মে ২৬, ২০১৯ |
খোলাম কুচি দর্শন- ৩
যূথবদ্ধ নাকি একা? মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়া মাত্র একটা বিশেষ যুদ্ধ শুরু হয়। সেটা হল মৃত্যু থেকে দূরে থাকা। মৃত্যু টা শেষ ইস্টিসান কিন্তু তার আগে যত খুশি অন্য কিছু করে যাওয়াটায় জীবন। এই পথটা তে কখনো একা চলতে হয় কখনো দল বাঁধতে হয়। বিপন্নতা যত বেশি ব্যাপক আর গভীর তখন মানুষ দল বাঁধে। সেই ইতিহাস শুরু হবার আগের দিকে যদি তাকাই দেখতে পাই একটা কাদার গর্তে ডুবে যাওয়া হাতি কে।মানুষ দল বেঁধে তাকে শিকার করছে।এবার প্রশ্ন হচ্ছে এই যে গর্ত খুঁড়ে ,তার ওপরে ঢাকা দিয়ে রেখে ফাঁদ তৈরি হচ্ছে এটা কেন কি জানি মনে হয় সব মানুষের মাথা থেকে বার হয়নি এখানে একজন একা কেউ আছে। আসলে একা, কিংবা কয়েকজন অভিজ্ঞতা তে যে পরিকল্পনা হয় দল তা মেনে চলে। একজন দলপতি হয়ে ওঠে এই ভাবেই। অনেক গুলি পরিবার কোন একটি বিশেষ ব্যক্তির বুদ্ধি, সচেতনতার ফলে একজন দলপতি পায়। সভ্যতার ইতিহাসে একজন করে শাসকের নামে লিপিবদ্ধ। এখানে বুঝবার, যে শাসক (সে কুশাসক হোক কিংবা সুশাসক) একা শাসন করতে পারে না। তার একটা দল থাকতে হবে। সেই দল দক্ষ,বিশ্বাসী বলেই “শাসক” মাথায় মুকুট পরে শাসন করতে পারে। আবার তার বিপরীতে আর একটা ‘দল’ যখন প্রতিপক্ষ হিসাবে তৈরি হয় ।সংঘর্ষ হয়। দল হারে দল জেতে। বিজয়ী দলপতি ‘একা’ শাসক হয়। 

আমি ইতিহাস বলতে চাইছি না। আমাদের এই সাধারন জীবনের মধ্যে এই দোলাচল চলে কোনটা আসল? একা নাকি দল? সৃষ্টির সময় আসলে আমরা খুব একা। গড়ে ওঠার সময় খুব একা। যে পরীক্ষার জন্যে তৈরি হচ্ছে, কিংবা মায়ের সেবা করছে, অপেক্ষা করছে কারো ফিরে আসার জন্যে সেই সময়টা খুব একার। অন্যভাবে বলা যায় একা মানুষ যে কাজ গুলো করে সেগুলো খুব গুঢ়।নতুন কিছু গড়ে ওঠে একা মানুষের মধ্যে।এই একা মানুষ প্রচণ্ড সচেতন ভাবে একা। তার ঐ ‘একা’র মধ্যে আর কাউকে সে নিয়ে আসে না। আর সৃষ্টি কাজ অথবা আর শেখা বিঘ্নিত হয়। এটা সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রেও। যেন দই পাততে বসানো।নিভৃতি চাই, নিরালা চাই।না হলে গুলিয়ে যাবে। 

দল তৈরি হয় ,যখন ‘আমি’ গুলোর মনোভাব এক রকম হয়।‘আমি’গুলো যখন দুর্বল থাকে তখন তারা একিভূত হয়। একসাথে থাকে। তবে দল হয়ে থাকতে থাকতে কিছু ‘আমি’ তার সোচ্চার উপস্থিতি জানায়। ‘দল’ নড়বড়ে হয়ে যায়। মাঝে মাঝে ‘দলে’ কিছু ‘আমি’ বিশেষ ভাবে আলো পেয়ে যায়।যেমন, ফুটবল খেলায় গোল এক দুইজন করে কিন্তু গোলের কাছ পর্যন্ত বল নিয়ে যায় ‘দল’। গোল কিন্তু দেয় ‘আমি’।সেই ‘আমি’টার জন্যে অনেকে অপেক্ষা করে।সম্মান অপেক্ষা করে। ‘দল’ জিতলেও ‘আমি’ একটু বিশেষ ভাবে জিতে যায়। 

কেউ কেউ তার ক্যারিশ্মার জন্যে তার আশেপাশে একটা দল তৈরি করে ফেলে। পৃথিবীর ইতিহাসে তারা লিডার মানে নেতা হিসাবে একটা বিরাট চেহারা হয়ে দাঁড়ায়। তাঁকে ঘিরে দল, তারপর প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। মানবিক হোক কিংবা চরম হিংস্র হোক সেই বিরাট একা একজন আসলে অনেক মানুষের আশ্রয় হয়ে ওঠে।
দলের কথা এলেই কেন জানিনা হঠাৎ গণপিটুনির কথা মনে হয়। গাছকাটা রুখতে এই ‘দল’ বা ‘গণ’ এগিয়ে আসে খুব কম। কিন্তু ছোট চোর কে মেরে হাতের সুখ করতে খুব ভালবাসে ‘দল’। বিকৃত পৈশাচিক অত্যাচার চালাতে দল বাঁধে মানুষ। আর তার ভিডিও করতে কি অভুতপূর্ব দক্ষ। সম্প্রতি গণধর্ষণের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, এটা এক ধরণের ‘ফেলো ফিলিং’।মানে ‘আমি’ একা কেন অত্যাচারের আনন্দ উপভোগ করব----। বন্ধুর সাথে সিগারেট ভাগ করে টান দেওয়ার মত। 

বিশুদ্ধ ‘আমি’ থেকে ‘দল’ আবার ‘দল’ থেকে ‘বিশুদ্ধ আমি’ তে প্রত্যাবর্তন। ‘আমি’ কে নিরাসক্ত করে তৈরি হতে হয় ‘দলের’ উপযুক্ত হবার জন্যে।‘দল’ তার মতো হয় না। তাকে ‘দলে’র মতো হয়। যারা মননে আর চিন্তায় একটু ভিন্ন প্রকৃতির হয়। তাদের ‘দলে’ মিশে যাওয়া খুব কষ্ট কর হয়।তবে এই ‘একা’ মানুষগুলোয় আমাদের আসল ‘দল’ তৈরি করে দেয়। 

niveditaghosh24@gmail.com

Facebook Comments
0 Gmail Comments

-

 
Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ,GS WorK । শব্দের মিছিল আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

English Site best viewed in Google Chrome
Blogger দ্বারা পরিচালিত.
-