Saturday, January 26, 2019

শুভশ্রী সাহা

sobdermichil | January 26, 2019 |
প্রজাদের কথা--
রমেশের আজ তিন দিন টোটো নিয়ে বেড়াতে পারেনি। প্রবল জ্বর আর  পেচ্ছাবের সাথে  ছিটে ছিটে রক্ত ও যাচ্ছে। রমেশ অবরে সবরে বেলাড ও টানে। এই বিদ্যে সে রফিকের সুন্দরজীবন নার্সিংহোম থেকে শিখেছিল। এখন কাজে দিচ্ছে, দু চার পয়সা যা হয় আর কি। বউ টাও দুবাড়ি রান্না করে।  কিন্তু ক্ষীণকায় সারা বছর ই রোগে রোগে জরাজীর্ণ।  চারটে বাচ্ছা, দুজনের পেরাইভেট পড়াতে হয়। কাজেই সব খরচাপাতি করে সকালে চাট্টি ভাত আর রাতের ডাল রুটি ছাড়া কিছুই জোটে না। টোটো টা পুরানো হয়ে গেছে, ইউনিয়ান গাড়ী পাল্টাতে বলেছে কিন্তু তার আগে যারা জমা দিয়েছে সেই সব গাড়ি কিলিয়ার করে রোটে আসতে আসতে পেরায় দুমাস থেকে আড়াই মাস। এই আড়াইমাস তারা কি খাবে? পাল্টাও বলেইতো ইউনিয়ন খালাস, কোরট অডার দেকালেই হলো, কিন্তু অত গাড়ি কই! এ ছাড়া এখন বদলের টাকা ছাড়া কোথায় বাকি টাকা পাবে! তাই গাড়ী আর পেসেঞ্জার নে চলচে সে। ইউনিয়ানের দাদাদের কাছ থেকে শুধুই তলব পায়। একেনে যা ওকেনে যা ই দিন আয়, উদিন চল। ঘেন্না ধরে গেছে তার! এদিক আর উদিক শালা সব সমান। রাজার চাকর হলো শুধু পাবলিক।

কাল আর টোটো নামাতে পারবে না রাস্তায়। শুনে নিয়েছে ছাব্বিশ তারিখ সরকারী ছুটি ওলা দাগানো তা নতুন উদ্যান অপেনে নেতারা আসবেন। সব টোটোর যেতে হবে সেখানে। কেউ বাদ গেলে হবে না। বাদ হলে তার লাইন বসে যাবে স্ট্যান্ড থেকে। এদিকে তার জ্বর বেঁধে গেছে, পেচ্ছাবের রক্তের কথাও ভীতু বউ টাকে বলে উঠতে পারেনি।  আজ সকাল থেকেই সাজ সাজ রব। তায় তিনি আসবেন।মনা এসে ঘুরে গেছে তিন চার বার, সে তাকাতে পারেনি পর্যন্ত। মনা তার লাইনেই টোটো চালায়। ছেলেটা ভালো, মায়া দয়া আছে। ভাবতে ভাবতে রমেশ আবার অতলে তলিয়ে গেলো। মনাও চিন্তা করছে, এরা শয়তানের পয়গম্বর না গেলে লাইন বসিয়ে দিলেই হয়ে গেলো তারপর ফাইন দাও, এর পায়ে ধরো ওর পায়ে ধরো পৌর সভায় যাও, হাজার ফরকট। কৈফিয়ত  দিতে দিতে লাইন ছাড়াতে তোমার একমাস নষ্ট। ভেবেই নেবে তুমি ওই দলের বিরুদ্ধ দলের সাথে আছো নির্ঘাত! মনা ফিস ফিস করে বউদিকে বলে সব কথা। রেখা শুনেই ভয়ে বিবর্ণ হয়ে যায়, তার চার চারটে হাঁ আবার নিজেরাও দুজন। বড় ছেলেকে গিয়ে জানালো মনা কাকু কি বলছে! দশম শ্রেণির অক্ষয় একটু আড্ডূ  চালাতে পারে টোটো, সেই রাজী হলো লাইনে গিয়ে গাড়ী রাখতে। সেখান থেকেই সব টোটো যাবে সেই উদ্দ্যানের জনসমাবেশে। 

অক্ষয় বাবার মতই, সিট ঝেড়ে গাড়ী মুছে বাবার টিফিনের কৌটোয় রুটি তরকারি নিয়ে রওনা হলো। রেখার চোখে জল নেমে এলো, এই কি তবে শুরু? অকুর আর পড়াশোনা হবে না? সেও টোটোওলার ছেলে টোটোই চালাবে? রাজাদের প্রজা হয়ে পতাকা তুলবে, মিছিলের মাঝে? মনা ভাবলো, যাকগে বেঁচে গেলো রমেশ দা টা, ভাগ্যিস ছেলে টা ছিল! রাজার ছেলে রাজা, প্রজার ছেলেই প্রজাই তো হবে, নাকি! ওই সব স্বাধীন পরাধীন কিছু নেই! প্রজার আনুগত্য থাকলেই হলো।


suvasree1972@gmail.com

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

অডিও / ভিডিও

Search This Blog

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Powered by Blogger.