সোমবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮

আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

sobdermichil | ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮ |
 আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
অর্গাজম
মূল-  ফাতিনা আল্‌-গুর্‌রাহ্‌, ফিলিস্তিন
অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

যখন মৃত্যু আসবে আমার কাছে
আমার ইচ্ছা, আমি তার জন্য সাজবো
যেমন ক’রে সাজে প্রেমিকা নিজ প্রেমিকের জন্য;
মোমবাতি জ্বেলে পুরো বাড়ি আলোকিত করবো
পর্দা টেনে কুটিল দৃষ্টি থেকে আড়াল করবো নিজেকে
লাজুকভাবে আস্তে আস্তে শরীর ধুয়ে
স্নাত হবো সুগন্ধি-ফোয়ারায়
অতিযত্নে প্রয়োজন-মতো তেল মেখে
কালো ফিতের নাইট গাউনে নিজেকে ঢেকে
উদ্দীপ্ত হবো আবহ সঙ্গীতে
জীবনের চুম্বন আস্বাদনের অপেক্ষায়।

আমি তৈরি হবো মৃত্যুর জন্য
যেমন ক’রে তৈরি হয় প্রেমিকের জন্য প্রেমিকা
অপেক্ষা করে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে
হাতে নিয়ে নিজের বানানো নাবিযের পেয়ালাটি
যার তরলকে ছুঁয়ে যাবে প্রেমিকের ঠোঁট, অন্তত দু’বার
এবং তৈরি রাখে সিগারেট ও মিউজিক
সাথে পছন্দের গান ও ভিডিওক্লিপ
দীর্ঘক্ষণ হাসবে সেসব দেখে-শুনে, দু’জনে
যতক্ষণ না গড়িয়ে পড়ে আনন্দাশ্রু
চোখের কোণ বেয়ে;
উন্মাদনায় নৃত্য করবে যখন শরীর
মৃদু ভঙ্গিমায়
ছড়িয়ে পড়বে আঙুলগুলো
শরীর জুড়ে, ধীরে ধীরে।

আমাকে তৈরি হ’তে হবে মৃত্যুর জন্য, পূর্ণরূপে
যেমন ক’রে সেজে তৈরি থাকে একজন পতিতা
নিজের ঘরটা লাল আলোয় রাঙিয়ে
শরীরে তেল ও সুগন্ধি মেখে
মুছে ফেলে ফিরে না-আসা পুরুষদের স্মৃতি
সস্তা সুগন্ধির মিশ্রণে সুবাসিত করে নিজ দেহকে
অপেক্ষা করে চৌকাঠের পাশে দাঁড়িয়ে
নিজের সমস্ত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে
সেই মুহূর্তের জন্য, যে মুহূর্তে আসবে তার কাছে
আর সে খুলে ফেলবে তার ট্রাউজার
এবং মেতে উঠবে নিজের কাজে।

মৃত্যুকে স্বাগত জানাবো আমি, আগ্রহ ভ’রে
সেই স্ত্রীর মতো ক’রে, যে শুক্রবার রাতে
বাচ্চাদের এলোমেলো করা ঘর গুছিয়ে
গোসল করে, ঘষেমেজে পরিষ্কার করে
গায়ে লেগে থাকা রান্নার গন্ধ
আলতো ক’রে সুর্মা লাগায়
ঠোঁট দু’টোকে রাঙিয়ে তোলে গোলাপি লিপিস্টিকে
প’রে নেয় নিজের আরামদায়ক পায়জামাটা
তারপর, গিয়ে শোয় বিছানার মাঝখানে
তৈরি থাকে নিজ কর্তব্য পালনের জন্য।

একজন সন্ন্যাসিনীর মতো ক’রে
গ্রহণ করবো মৃত্যুকে, ধূপ ছড়িয়ে চারপাশে
সাথে বাতাসে ভাসমান নিস্তব্ধতার ঘ্রাণ
যে ঘ্রাণ বাতাসে রাখে না কোনো স্থান কারুর জন্য;
তারপর ছড়িয়ে দেব নিজ দেহ
পূজাবেদিতে, অনুগত ও ক্ষমতাহীন হয়ে
মাদকে আহ্লাদিত করে তুলবো নিজের শরীর
এক নির্মম মন্থরতা ও উত্তেজনায়
সন্দেহের কোনো দাগ ছাড়াই;
অবশেষে, গিয়ে শোবো বিছানায়
যেভাবে শুইনি কখনো কোনো পুরুষের জন্য
অস্থির হ’য়ে তাকে দেবো যা-কিছু তার প্রাপ্য
পূর্ণরূপে।


أورغازم
 فاتنة الغرّة
حينما يأتيني الموت أريد أن أتهيأ له كما تتهيأ حبيبة لحبيبها
أضيء البيت بالشموع
أسدل الستائر بيني وبين عيون المتلصصين
أغسل جسدي برقة ودلال
أطيّبه بالعطر
أرطبه بالزيت دون مبالغة أو افراط
ألبس قميص النوم الدانتيل الاسود
أشعل موسيقى خافتة
بانتظار قبلة الحياة

سأتهيأ للموت مثلما تتهيأ عاشقة لعشيقها
تنتظره من خلف الشباك كي ينقر نقرتين
فيما هي تُثلج النبيذ
تعد السجائر والموسيقى
الأغاني المفضلة ومقاطع الفيديو
التي سيضحكان عليها طويلاً حتى تدمع عيناهما
الرقص الخفيف على وقع النشوة
ثم تبدأ الأصابع بالعمل رويداً رويداً
...
يجب أن أتهيأ للموت تماماً كما تتهيأ عاهرة
تضيء شقتها بالأحمر
ترطب جسدها
تمسح عنه ذكرى رجال لم يمروا
تعطره بخليط من عطور رخيصة
منتظرة على حافة الباب
بكل مهاراتها وخبراتها
اللحظة التي يدخل فيها
كي تفتح سحّاب بنطاله وتبدأ العمل

سأستقبل الموت تماماً كما يليق بزوجة
تنظف البيت ليلة جمعة من شقاوة الأولاد
تأخذ دوشاً
تليّف جسدها مما علق به من روائح الطبيخ
تضع كحلاً خفيفاً وأحمر شفاه وردياً
ترتدي بيجامتها المريحة
ترقد في منتصف السرير
متهيئة لأداء الواجب

سأستقبل الموت كما يليق براهبة
بالبخور التي تعبق المكان
رائحة السكينة التي تطفو في الجو
فلا تترك مساحة لأي شيء آخر
سأتمدد على المذبح طائعة خائرة القوى
سأسمح للّذة أن تخدّر أطرافي
ببطء شديد وبتوتر لا مجال للشك فيه
سأستلقي كما لم أفعل لرجل
سأعطيه ما يستحق تماماً
وأنتفض.

[ফাতিনা আল্‌-গুর্‌রাহ। জন্ম ১৯৭৪-এ গাজায়। জীবনের একটা দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন যুদ্ধ বিধ্বস্ত এই গাজাতেই। তারপর অভিবাসিত হয়েছেন মিশর এবং ফ্রান্সে। শেষে, ২০০৯-এ বেলজিয়ামে। এখন সেখানেই থাকেন। একসময় আল-জাজিরার সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। ওয়াফা নিউজ এজেন্সির রেডিও উপস্থাপকও ছিলেন কিছুদিন। চল্লিশের দশক থেকে তাঁর মাতৃভূমিকে শাসন করে চলেছে এক অপরাজেয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। তা সত্ত্বেও তিনি নিজ কবিতায় লালন করে চলেছেন প্রেম, ভালোবাসা, নারীত্ব ও নারীবাদকে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘মা যালা বাহ্‌রুন্‌ বায়নানা’ (এখনো আমাদের মাঝে বিরাজ করছে একটি সমুদ্র, ২০০০ সালে  দারুল্‌ মিক্বদাদ গাজা থেকে প্রকাশিত), দ্বিতীয় হল ‘ইম্‌রাআতুম্‌ মুশাগিবাতুন জিদ্দা’ (এক অত্যন্ত ঝঞ্ঝাটে মহিলা, কায়রোর দারুল্‌ হাযারাহ্‌ থেকে ২০০৩-এ প্রকাশিত], তৃতীয় ‘লায়সা হুনা ইল্লায়ি’ (ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২০১০-এ প্রকাশিত), চতুর্থ ‘খেয়ানাতুর্‌ রাব’ (বেইরুতের দারুন্‌ নাহ্‌যাহ্‌ থেকে ২০১১-তে প্রকাশিত)। এছাড়া তাঁর ‘সুক্বুবুন্‌ ওয়াসি’আহ্‌’ (প্রশস্ত বিবরসমূহ) নামে একটি গদ্য কবিতার বইও আছে। তাঁর কবিতা, চিন্তাচেতনা ও আর্তনাদ আন্তর্জাতিক পাঠকমননের সমাদর লাভ করেছে। তাঁর বহু কবিতা পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। আর এজন্যেই হালফিলে তাঁকে ইতালির রোম থেকে ফিউমিসিনো (Fiumicino Award) পুরষ্কারে সম্মানিত করা হয়েছে।]


Facebook Comments
0 Gmail Comments

-

 

বিশ্ব জুড়ে -

Flag Counter
Support : Visit Page.

সার্বিক অলঙ্করণে প্রিয়দীপ

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

English Site best viewed in Google Chrome
Blogger দ্বারা পরিচালিত.
-