বুধবার, অক্টোবর ৩১, ২০১৮

সুশান্ত কুমার রায়

sobdermichil | অক্টোবর ৩১, ২০১৮ | |
উৎসব দীপাবলি
দীপাবলী বা দেওয়ালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম একটি ধর্মীয় উৎসব । এটি দেওয়ালি, দীপান্বিতা, দীপালিকা, সুখরাত্রি, সুখসুপ্তিকা এবং যক্ষরাত্রি নামেও অভিহিত । কালী পূজা আর দীপাবলী একসাথে গাঁথা। দীপাবলি হচ্ছে আলোর উৎসব। মহালয়ায় শ্রাদ্ধগ্রহণের জন্য যমলোক ছেড়ে যে পিতৃপুরুষগণ মর্ত্যে আগমন করেন বলে, তাঁদের পথ প্রদর্শনার্থে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। অন্যদিকে বিজয়ার ভাসানে- পাঁচদিনের আনন্দ-বিদায়ে অবচেতনে হলেও যে বেদনা-বিধূর চেতনায় আবিষ্ট হয় মন, সেই মন দীপাবলিকে সামনে রেখেই আবার আনন্দের স্বপ্ন দেখা। 

দীপাবলী মূলত পাঁচদিন ব্যাপী উৎসব। দীপাবলীর আগের দিনের চতুর্দশীকে (এই দিনকে দীপাবলি উৎসবের প্রথম দিন বলা হয়) বলা হয় ‘নরকা চতুর্দশী’। এই দিনে শ্রীকৃষ্ণ এবং তাঁর স্ত্রী সত্যভামা নরকাসুরকে বধ করেছিলেন। চতুর্দশী পরের অমাবস্যা তিথি দীপাবলী উৎসবের দ্বিতীয় দিন, কিন্তু এই দিনই মূল হিসেবে উদযাপিত হয়। এই দিন রাতে শাক্ত ধর্মের অনুসারীগণ শক্তি দেবী কালীর পূজা করেন। তাছাড়া এই দিনে লক্ষীপূজাও করা হয়, কথিত আছে এই দিনে ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মী বরধাত্রী রূপে ভক্তের মনোকামনা পূর্ণ করেন। চতুর্থ দিন হচ্ছে ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া, একে যম দ্বিতীয়াও বলা হয়। এই দিন বোনেরা ভাইকে নিমন্ত্রণ করে, কপালে ফোটা দেয়, হাতে রাখী বেঁধে দেয়। 

দীপাবলি- শুধু সনাতনধর্মীদের নয়, শিখ এবং জৈন ধর্মাবলম্বীদেরও অনুষ্ঠান। ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশে দীপাবলীতে কালী পূজা হয়। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে এই দিনে গণেশ পূজাও হয়ে থাকে । অর্থাৎ দুর্গাপূজোর বিজয়ার পরবর্তী পূর্ণিমা তিথিতে হয় লক্ষ্মী পূজো আর অমাবস্যা তিথিতে হয়ে থাকে কালীপূজা ও দীপাবলীর আয়োজন। অর্থাৎ দীপাবলীর রাতেই অনুষ্ঠিত হয় কালী পূজা। 

রামায়ণ অনুসারে দীপাবলীর দিনে ত্রেতা যুগে শ্রীরাম রাবণ বধ করে চৌদ্দ বছরের বনবাস শেষে অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন করেন। শ্রীরামের চৌদ্দ বছর পরের প্রত্যাবর্তনে সারা রাজ্য জুড়ে প্রদীপ জ্বালানো হয়। অনেকে মনে করেন দীপাবলীর আলোকসজ্জা ত্রেতাযুগে রাম-রাজ্যে ঘটে যাওয়া সেই অধ্যায়কে সামনে রেখেই অন্যসব অঞ্চলে প্রচলিত, পরিচিত ও বিস্তৃত হয়েছে। তবে আলোকসজ্জার এই দিন অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলো প্রজ্জ্বনের দিন। নিজের মধ্যে সকল অজ্ঞতা ও তম গুণকে দীপ শিখায় বিদূরিত করার দিন। প্রেম-প্রীতি-ভালবাসার চিরন্তন শিখা প্রজ্বলিত করার দিন। দেশ থেকে দেশে, অঞ্চল থেকে অঞ্চলে- এই দিনের মাহাত্ম্য ভিন্ন ভিন্ন; তবু মূল কথা এক। আর আধ্যাত্মিকতার গভীর দর্শনে এই দিন- আত্মাকে প্রজ্বলিত করে পরিশুদ্ধ করে সেই পরমব্রহ্মে লীন হওয়ার দিন। মনের কালিমাকে দূর করে, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে একাত্ম হওয়ার দিন। 

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়-'' ঘরে ঘরে ডাক পাঠালো / দীপালিকায় জ্বালাও আলো / জ্বালাও আলো, আপন আলো / সাজাও আলোয় ধরিত্রীরে''…।।

sk_roy11@yahoo.com

Facebook Comments
0 Gmail Comments

-

 
Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ,GS WorK । শব্দের মিছিল আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

English Site best viewed in Google Chrome
Blogger দ্বারা পরিচালিত.
-