বুধবার, জানুয়ারী ৩১, ২০১৮

অতনু জানা

শব্দের মিছিল | জানুয়ারী ৩১, ২০১৮ |
মরীচিকা
ঘুম থেকে উঠে অনিমেষের গা-হাত আজ বড্ড ম্যাজ-ম্যাজ করছে। অফিস যেতে তার একেবারে ইচ্ছে করছে না। অফিসে কাজ-কর্ম ও তেমন নেই, পয়লা বৈশাখ। সবাই আনন্দে যখন মেতে উঠেছে, এমন একটা দিনে কার আর অফিস যেতে ভালো লাগে? অধিকাংশ অফিস কলিগ ও তো লিভ আ্যপ্লাই করে রেখেছিল। সে গুলো সে নিজের হাতেই আ্যপ্রুভ করেছে । এমন একটা দিনে সবাই চায়- একটু ফ্যামিলির সাথে সময় কাটাতে, ওর মত তো সবাই আর অফিস পাগল না-

অনেকদিন দীপার সাথে বেরোতে ও পারেনি। আজকাল প্রায় অনিমেষ ফ্রি থাকে তো দীপা ব্যস্ত, দীপা ফ্রি থাকে তো অনিমেষ ব্যস্ত। কাজ আর কাজ-অফিস আর অফিস ওদিকে দীপাও ভীষণ ব্যস্ত ওর চাকরির পরীক্ষ্যার প্রস্তুতি নিয়ে। একটা মনের মত চাকরি, তাকে যে পেতেই হবে। সারাদিনে ওই একবার মাত্র অফিস থেকে ফেরার পথে রাতের দিকে আধ-ঘন্টার মত দেখাসাক্ষ্যাত আর একটু গল্প, ব্যাস ওই যা ! আগের মত রোজ-রোজ আর দেখা ও  করতে পারে না ওরা ।

আসলে দীপাকে অনিমেষ অনেক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে ভাল চাকরির চেষ্টায় প্রস্তুতি নিতে রাজি করিয়েছিল। সে, এ-যাবত যত গুলো চাকরি করেছে, কোনো চাকরীতে  কোনদিনও সে সন্তুষ্ট ছিল না। জব সেটিসফেকশান না এলে সেখানে চাকরি করার কোনো অর্থ থাকেনা। জোর করে কী আর চাকরি করা যায়? আর দীপা বার-বার অনিমেষকে বলত সে স্বাধীন ভাবে উপার্যন করতে চায়। এনিয়ে অনিমেষ একদিন সোজাসাপ্টা বলেও দিয়েছিল- "দেখ, দীপা আমি যা উপার্জন করি তুমি নিশ্চিন্তে থাকতে পারো ! সংসার চালাতে আমাদের খুব একটা অসুবিধা হবে না। তবে তুমি যদি একান্তই চাকরি করতেই চাও- তাতেও আমার কোন সমস্যা নেই। তবে মানষিক ভাবে যেটা তুমি চাও সেটাই কর। চাকরিটা যদি একান্তই তোমায় করতেই হয়, তবে ভাল করে নিজেকে প্রস্তুত করে, একটা ভাল চাকরি খুঁজে নাও। না হয় মানসিক অশান্তি নিয়ে  চাকরি করতে করতে, কিছুদিন বাদে তুমি হাঁপিয়ে উঠবে। তাই আজকাল অনিমেষ ফ্রি থাকলে ও  দীপা খুব একটা সময় দিতে পারে না। কারন -অনিমেষ যখন ফ্রি থাকে, দীপা হয়ত পড়াশোনা করছে ভেবে খুব একটা ডিস্টার্ব করতো না। সাময়িক একটু আধটু সুখের মুহূর্ত প্রত্যাহার করে সারাজীবন যদি সুখী থাকা যায় ক্ষতি কী?

ভাবছিল, দীপাকে আজকে একটা ফোন করে বেড়ানোর প্ল্যান করলেই হয় - কাল রাতে যখন কথা হয়েছিল, দীপা বলছিল- "কাল দি-ভাইয়ের বাড়ি যাবো বিকেলের দিকে। শোনোনা, আমার কাছে একটা টাকাও নেই। সকালে অফিস বেরোনোর আগে কিছু টাকা দিও না! "

"-আরে হ্যাঁ, এত আমতা-আমতা করে বলার কি আছে।আমাদেরই তো আ্যকাউন্ট, আজ আমি উপার্জন করছি- কাল হয়ত আমি পারব না, তখন কি তুমি আমায় দেবে না?  সুতরাং এত আমতা-আমতা করবে না আর কোনদিন। আমার এই স্যালারি আ্যকাউন্টাতো আমার একার না! আমাদের-বুঝলে? সকালে অফিস বেরোনোর আগে দেখা করে দিয়ে যাব। 
বেশি দেরি করনা, কিন্তু। না হয়, অফিসে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যাবে।"
-"আসলে মাসের শেষ, এত গুলো টাকা নিয়েছি তোমার থেকে।"
অনিমেষ দীপার কথা আটকে দিয়ে বলেছিল- "তুমি থামবে,- কাল সকালে দেখা হচ্ছে। নীচে গিয়ে ফোন করছি-
-ঠিক আছে, আমি রেডিই থাকব। তুমি বাড়ি থেকে বেরনোর আগে একটা ফোন করে নিও, আমি নীচেই থাকব।
তুমি তো আবার অফিস যাবে-

#

ওরা বছর খানেকের মধ্যেই বিয়ে করবে। দীপা চাকরি সূত্রে বাড়ির বাইরে প্রায় বছর তিনেক।এখানে একটা মেসে থাকে। বাড়ির লোকজন তো আর এখানে হাতের কাছে নেই, তাই ওর বিপদে -আপদে অনিমেষ ছাড়া কে আর আছে? দীপার মাস তিনেক হল চাকরি নেই, বাড়িতেও বলতে পারেনি। বাড়িতেও তো -হাজার প্রবলেম, বাবা চাকরি থেকে অবসর নিয়ে নিয়েছেন অনেক আগেই।এদিকে ভাই অসুস্থ- মা অসুস্থ। দাদার ওপর আর কত চাপ দেবে?



এই নিয়ে অনিমেষে বার বার দীপাকে বলত, তুমি এ সমস্ত নিয়ে ভেবো না। আপাতত আমি সামলে নেব। অনিমেষের কোন সমস্যাই ছিল না, দীপার যখন যা লেগেছে- অনিমেষ হাসতে হাসতে দিয়ে এসেছে। অন্তত যখন থেকে সে দীপাকে চেনে তখন থেকেই তো ওরা একে ওপরের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। যদি ও সে-অর্থে অনিমেষেকে এর মধ্যে খুব একটা প্রবলেমের মুখোমুখি হতে হয়নি। প্লিজ, দাদার ওপর আর চাপ দিওনা। একটা মানুষ একা আর কত দিক সামলাবে? তুমি শুধু তোমার কেরিয়ার নিয়েই চিন্তা কর, আর তোমার বাড়ির দিকে নজর দাও। বাদবাকিটা আমি সামলে নেবো।

ওদের প্রথম দেখার অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ওরা দুজনে দুজনের প্রেমে হাবুডুবু। দুজনেই ঠিক করে নিয়েছিল-যে, ওরা খুব তাড়াতাড়ি বাড়িতে জানিয়ে বিয়েটা করে নেবে। এ ব্যাপারে দীপার আগ্রহ অনিমেষের থেকেও অনেক গুন বেশিই ছিল। এর আগে দীপার এক্স লাভার ওকে নাকি ভীষণ ঠকিয়েছে, তাই নতুন করে আর ঠকতে চায়না সে। দীপা শুরুতেই ক্লিয়ার-কাট বলে রেখেছিল-  "বিয়ের চিন্তা-ভাবনা যদি থেকে থাকে, তবেই সম্পর্কটা নিয়ে এগোনো যায়- নতুবা প্রয়োজন নেই- "

অনিমেষ এক-কথায় রাজি হয়েছিল সেদিন। আসলে সেও তো চায় একটা সৎভাল মানুষ। যে-কিনা, তার জীবনের হাজার বিপত্তির সময় তাকে শুধু উৎসাহ দেবে, বাদ-বাকীটা সে নিজেই গড়ে নিতে পারবে। এটুকু তার নিজের উপর ভরসা আছে। জন্ম থেকে অনিমেষ কাউকে কোনদিন ঠকিয়েছে বলে তার মনে পড়েনা। বহুবার ভুল করেছে ঠিক, কিন্তু জেনে-বুঝে আজ পর্যন্ত কাউকে কষ্ট দিয়েছে, তার মনে হয়না। সে এখনো পর্যন্ত যা করেছে, সম্পূর্ণ নিজের পায়েই ভরসা করে। কাউকে ঠকানো তার স্বভাবে কোনদিনও ছিল না। এমনকি বহুবার এমনও হয়েছে-অন্যের কষ্ট হবে ভেবে নিজের প্রাপ্যটুকুও সে হাসতে হাসতে ত্যাগ করে এসেছে।

খুব ছোটবেলা থেকেই স্ট্রাগেল করে সে বড় হয়েছে । ফোকটে একটা কানাকড়ি ও পেতে সে রাজি নয়। পরিশ্রম করতে সে ভীষণ ভালবাসে, বিশ্বাস করে নিজের মেরুদন্ডের উপর। ভীষন একগুঁয়ে প্রকৃতির ছেলে, যখন যেটা করেছে- খুব মন দিয়েই করেছে। শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত অনবরত লড়াইটা যেন তার অভ্যেস। বিপদ দেখে মাঝপথে ছেড়ে যাওয়াটা তার অভ্যেসে নেই। এমন একগুঁয়ে স্বভাবের জন্য, অনেক ক্ষেত্রে তার জীবনে সাময়িক সমস্যাও হয়েছিল বটে।কিন্তু সাফল্য গুলো সেই সমস্ত সমস্যা গুলোকে ওভার-ট্রাম করে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শিখিয়েছে। জীবনের প্রত্যেকটা সিঁড়ি সে নিজের পায়েই ভরসা করে উঠে এসেছে। তাই অল্প বয়সেই সে হয়তো এতটা প্রতিষ্টিত হতে পেরেছে ! নিজের উপর অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে তার। তাই মা-বাবা আত্মীয় পরিজনের কাছে সে যথেষ্ট ভরসার পাত্র।

আর চাকরিও হয়ে গেল প্রায় বছর আটেক। সুতরাং বিয়ে করতে তার কোন সমস্যাই তো থাকা উচিৎ নয়। যখন দুজন-দুজনের সাথেই সারাজীবন কাটাবে, ঠিক করেই নিয়েছে- তখন আর দেরী করে লাভ কী?

অনিমেষ বিছানা ছেড়ে জলদি ফ্রেশ হয়ে নিল। একটা অটো করে দীপার মেসের সামনে হাজির। দীপার মেসের সামনে দাঁড়িয়ে একটা ফোন করল। দীপা রেডি হয়েই ছিল, ফোন পেয়ে নীচে নেমে এল।

দীপার যেমনটা স্বভাব আর কী-
বেরিয়েই একগাল হেসে ফেলল- "খুব স্মার্ট লাগছে কিন্তু আজকে, এই শার্টটাতে ভীষণ মানায় তোমায়।" মিনিট দশেক টাইম আছে তো তোমার হাতে?

অনিমেষের বরাবরের স্বভাব যেমন- সে ভাবেই হাসতে-হাসতে বলল- মহারানী, শুধু অনুমতি দিন ! আপনার জন্য সব করতে রাজি আছি।
আবার ইয়ার্কি শুরু করলে !
চল -ঘুম থেকে উঠে চা খাওয়াও হয়নি। তোমার সাথে চা খেতাম।
ওরা খুনসুটি করতে করতে এগিয়ে গেল ভোলাদার কেবিনের দিকে। সকালের দিকটাতে খুব একটা লোকজন থাকে না এখানে । আজ পয়লা বৈশাখ তাই সুন্দর করে বেলুন দিয়ে সাজানো হয়ে গেছে দোকানটা। দু-তিনজন বয়স্ক লোক বসে আছেন এদিক ওদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। সবার মুখচেনা অনিমেষের-মর্নিং ওয়াক সেরে এখানেই এনারা ব্রেক-ফাস্ট করেন রোজ। অনিমেষ হাসিমুখে সন্মানসূচক গুড-মর্নিং জানাল ওনাদের। ওনারাও প্রত্যুত্তরে, সম্মতি-সূচক হাসলেন।

এখানে প্রত্যেকেই অনিমেষকে ভীষণ ভালবাসে। সর্বক্ষন হাসিখুশিমুখ,পরোপকারী কোনদিনও কোনো ঝুটঝামেলায় তাকে কেউ কখনো জড়াতে দেখেনি । বরং সবার বিপদ-আপদে এগিয়ে এসেছে বহুবার। বড়দের খুব সন্মান করে বাচ্চাদের কাছেও ভীষণ প্রিয় পাত্র অনিমেষ। কে কেমন আছে? কারোর কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা? এ সমস্ত খবর নেওয়া, কারোর কোনো সমস্যার খবর পেলে তার পাশে দাঁড়ানো তার দীর্ঘদিনের অভ্যেস। এমন প্রকৃতির অনিমেষ যে সবার কাছে ভীষণ কাছের হবেই সেটাই স্বাভাবিক।

ওরা দূরের দিকে ফাঁকা একটা বেঞ্চে গিয়ে বসল।
দীপা জিজ্ঞাসা করল-
কি খেয়েছো?
না, মানে- তোতলাচ্ছে অনিমেষ।
দীপা পরিষ্কার বুঝে গেল, আজকেও না খেয়েই বেরিয়েছে অনিমেষ। ক্ষ্যেপে গেছে দীপা-
এক নিশ্বাসে বলতে শুরু করল- কতবার বলেছি না তোমায়, না খেয়ে বেরোবে না - কে শোনে কার কথা? রীতিমতো শাসন শুরু হল দীপার-
"দেরি করে ঘুম থেকে উঠবে-আর উঠেই তাড়া! সবটাই তো করতে সময় পাও, ক্লিন-সেভ দাঁড়ি, পলিসড সু,পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন আয়রন করা জামাকাপড়, শুধু খাওয়ার বেলাতেই তোমার সময় থাকেনা। যত সব নাটক,তোমার।" দীপা নিজে থেকেই ব্রেক-ফাস্টের অর্ডার করল। অনিমেষকে জোর করে খাইয়ে দাইয়ে দীপা আগের মত আবার শান্ত হয়ে গেল। তার মুখ দেখলে কারোর এখন বোঝার উপায় নেই- যে,একটু আগেই মেয়েটা ক্ষ্যাপাটে হয়ে উঠেছিল অনিমেষের উপর। আবার আগের মত খুনসুটিতে মেতে উঠল ওরা-

অনিমেষ দীপার চোখে চোখ রেখে করুণ চোখে বলল-
দীপা, আজ অফিস যেতে ইচ্ছে করছে না।
তুমিও তো সেই বিকেলে বেরোবে দি-ভাইয়ের বাড়ি।
চলো না, আজ একটু কোথাও ঘুরে আসি।

দীপা- শোনো না, আজ হবে না। তা ছাড়া আমার অনেক গোছগাছ করার আছে। আর কেন, অপ্রয়োজনে অফিস কামাই করবে বল?

অনিমেষ-  ভালো লাগছেনা-গো, দেখো আজ সারা শহর আনন্দে মেতে উঠেছে, আমরা কেন বাকি থাকি বল? তাছাড়া অফিসে তো কাজ নেই তেমন। সবাই ছুটি নিয়ে নিয়েছে -একা একা কি করব, বল?

দীপা-  বাবু, প্লিজ আজ না। আমি একটু বাদেই বেরোব, দি-ভাই-কে ও ফোন করে বলে দিয়েছি।

অনিমেষ- তবে, এক কাজ করি চল। আমি দি-ভাইয়ের বাড়ির স্টেশন পর্যন্ত তোমায় ছেড়ে দিয়ে আসি। তাতে একটু ঘোরাও হয়ে যাবে ,আর এক-সাথে কিছুটা সময় কাটানোও হয়ে যাবে।

দীপা- না- না, আমি তো লেডিজ কম্পার্টমেন্টে যাতায়াত করি। এই সকালের দিকটায় জেনারেল কম্পার্টমেন্টে ভীষণ ভিড় হয়, তুমি তো জানোই। তাছাড়া- অতদূর কী করতে যাবে আবার এত ধকল করে ?  ছাড়ো তুমি অফিস যাও- ফিরে এসে- বরং রোববার যেমনটা বেরোই আমরা, তেমন বেরোব।

অনিমেষ দেখল, সত্যিই কয়েকদিন ধরে এত প্রেসার ও যাচ্ছে তার, এসমস্ত দীপাও জানে। হয়ত- সে সমস্ত ভেবেই বলছে অত দূর ঠেঙ্গিয়ে-ঠেঙ্গিয়ে আবার যাবে আসবে? তাছাড়া দীপা ও কষ্ট করে ভিড় ঠেলে যাবে। তার থেকে প্ল্যানটা ক্যানসেল করাটাই বুদ্ধিমানের মত কাজ হবে- অনেক অনিচ্ছা সত্ত্বেও, অগত্যা অফিসে চলে যাওয়া ছাড়া তার কাছে অন্য কোনো আর উপায় নেই। দীপা না হয়, আবার হয়তো রাগ করবে- অনিমেষ টাকাটা দীপার হাতে দিয়ে, অফিসের বাস ধরে নিল।যাওয়ার আগে বলে গেল - সাবধানে যেও। আর পৌঁছে একটা ফোন কর।



দীপা ও সম্মতিসূচক ঘাড়টা নেড়ে একটা ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে দিল অনিমেষের উদ্দেশ্যে। এই ধরনের ফ্লাইং কিস একমাত্র ওরাই বুঝতে পারে।পৃথিবীতে কারোর সাধ্যি নেই সে সমস্ত বোঝার। এই ইঙ্গিতপূর্ণ  আচরনগুলি  দীপা আর অনিমেষের একান্তই ব্যক্তিগত।

#

অনিমেষ অফিসের সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতেই টের পেল, কেউ নেই আজ অফিসে। শুধুমাত্র কয়েকজন ক্লার্ক এসেছে,ব্যাস। সুতরাং যা ভেবেছিল তাই, কোনো কাজকর্ম আজ আর হওয়া সম্ভব না। ওদের অফিসার র‍্যাঙ্কের বা অধ:স্তনেরাও কেউ আসেনি। ওরা কেউ না এলে কাকে দিয়ে সে কাজ করাবে?

নিজের কেবিনে বসে ঘন্টা খানেক কম্পিউটারএ কাটালো। মেল চেক্ করল,কিছু মেল- পাঠানোর ছিল, ওগুলো ও পাঠানো হয়ে গেল। এরপর আর যেন তার সময় কাটছিল না। কিছুক্ষণ ফেসবুক আর  হোয়াটসঅ্যাপেও টাইম কাটানোর চেষ্টা করল। নাহ্, সত্যিই আর ভালোলাগছে না তার। কিছুতেই টাইম এগোচ্ছে না, কাজ ছাড়া অফিসে বসে বসে কি করে, সে এতক্ষণ কাটাবে? এর মধ্যে প্রশান্ত কে বলে পাঁচ-ছ কাপ চাও খাওয়া হয়ে গেছে তার । পেপারটা দেখতে-দেখতে, হঠাৎ টেবিলের মধ্যেই পেপারটা ছুঁড়ে ফেলে, বেরিয়ে এল সে নিজের কেবিন ছেড়ে। বেরানোর আগে প্রশান্তকে কেবিনটা লক্ করে দিতে বলল...

হাঁটতে হাঁটতে নীচে নেমে একটা উবের বুক করে সোজা হাইওয়ের পাশে একটা বারে গিয়ে পৌঁছাল। মাঝে ফোন-টা বের করে দীপাকে ট্রাই করল বেশ কয়েকবার। নাহ্, নট রিচেবল আসছে। ট্রেনে আছে হয়ত? তাই নেটওয়ার্ক পাচ্ছে না।

এই এক হয়েছে,তার স্বভাব আজকাল - যখন সময় কাটতে চায়না প্রথম প্রায়ওরিটিই তার দীপা-তারপর বাড়ি,আর কিচ্ছুটি না। অবসর পেলেই বা মন খারাপ হলেই দীপার সান্নিধ্য, আর দীপা যদি সময়  দিতে না পারে- ওমনি কোনো একটা বারে গিয়ে বিয়ার খেতে খেতে খুব ভাল রবীন্দ্রসংগীত বা ভালো কোনো একটা বই পড়তে ভীষণ তার ভাল লাগে। অদ্ভূত একটা ভাললাগার অনুভূতির মধ্যে সে ডুবে যায়। এই অভ্যেসটাও হয়েছে তার কিছুদিন যাবৎ- বন্ধু-বান্ধবদের সে আজকাল খুব একটা ডাকে না। কারণ সবাই বিবাহিত, যে যার ফ্যামিলি নিয়ে ব্যস্ত। একান্ত ওরা ফোন করে না ডাকলে, নিজে থেকে ওদের ডিস্টার্ব করেনা। কারণ অনিমেষ জানে, ও ডাকলে হাজার প্রবলেম থাকা সত্ত্বেও ওরা ওর সাথে দেখা করতে আসবেই। আসলে বন্ধুমহলেও তার যে ভীষণ খাতির। সবাই তাকে খুব ভালবাসে, কিন্তু এই নিয়ে ওদের বাড়িতে যদি কোন  ইম্পর্টেন্ট কাজ ছেড়ে আসতে হয় ! তাছাড়া প্রমোশন নেওয়ার পর, অফিসের চাপ সামলাতে-সামলাতে হিমশিম অবস্থা। এতটুকুও সময় বের করতে পারেনা । একমাত্র রোববারটাই টাইম পায় সে, তাও ওই দিনটা একমাত্র দীপার জন্যই রেখে দিয়েছে। ফলে আজকাল তাদের সাথে ও দেখাসাক্ষাৎ হয়না বললেই চলে। এমনকি শেষ কয়েক বছর বন্ধু-বান্ধব-আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বিয়ে বাড়ি বা কোনো ওকেশান পর্যন্ত সে আ্যটেনড করতে পারেনি। এই নিয়ে অনেকের অনেক ক্ষ্যোভও রয়েছে। সে কোন মুখে এখন তার নিজের প্রয়োজনে তাদের ডাকবে ? তাই এরকম সিচ্যুয়েশন হলে কাউকে সে ডিস্টার্ব করে না, একা একাই চলে যায় কোনো একটা বারে, ওখানে বেশ কিছুটা টাইমপাস করে বাড়ি ফিরে আসে।

অনিমেষ যখন বারে ঢুকল, ঘড়ির কাঁটায় সবে তিনটে দশ। ভেতরে ঢুকে দেখল পুরো বার ফাঁকা, একটা ও কাস্টমার নেই। মাত্র তিন-চার জন ওয়েটার কর্ণারের একটা টেবিলে বসে জমিয়ে গল্প করছিল। অনিমেষকে দেখে ওরা চুপ করে গেল। কিছু একটা বিষয় নিয়ে হয়ত ওরা মজা করছিল,যেই কাস্টমার দেখেছে ওমনি ওদের আড্ডাটা ভেঙে গেল। এই দুপুরে খুব একটা কাস্টমারও তো আসে না এখানে! কি আর করবে? তাই ওরা নিজের মনে খোশ-গল্পে মেতেছিল। অনিমেষকে দেখে একটা ওয়েটার অর্ডার নেওয়ার জন্য এগিয়ে এল। অনিমেষ আগে খাওয়ারের অর্ডার দিল,লাঞ্চটা আগে সেরে পরে দুটো বিয়ার দিয়ে যেতে বলল।

খাওয়ার দিয়ে যেতে প্রায় মিনিট দশেক টাইম লাগবে এখনো। অফিসের ব্যাগ থেকে একটা বই বের করে পড়া শুরু করল - খানিক বাদে খাওয়ার চলে এসেছে। বইটা পাশে রেখে প্লেটটা নিজের দিকে টেনে নিল-
আহঃ এখানকার ড্রাই -চিলি চিকেনটা বেশ সুস্বাদু। কাঁটাচামচ দিয়ে একটা চিকেন তুলে জাস্ট মুখে নিতে যাবে, ওমনি তার মন খারাপ হয়ে গেল দীপার জন্য। ইশ্ দীপা কি খেয়েছে? একবার ও জিজ্ঞ্যেস করা হল না!

আজ-কাল কোনো কিছু খাওয়ার আগেই তার দীপার কথা খুব মনে পড়ে। মেয়েটা একা একাই থাকে মেসে,বাড়ির ভালমন্দ খাওয়ার ছেড়ে দিয়ে এই বাইরের পচা রোজকার রুটিনের খাওয়ার খেয়েই কাটাতে হয়। কতবার দীপাকে বলেছে সে, মা এটা বানাচ্ছে নিয়ে যাই ?
দীপার বক্তব্য-
কি ভাববে বলত মা!
আমি বুঝি খেতে পাচ্ছিনা এখানে? না নিয়ে আসতে হবে না,
ছাড়ো। আর তো মাত্র কয়েকটা দিন,তারপর তো আমরা একসাথেই খাবো।

উপায় নেই.....তাই !
অগত্যা বাইরে ও একা একাই খেতে হয়,অনিমেষের। বাইরেই কাজ সারাক্ষণ !
দীপার কথা ভাবতে ভাবতে অনিমেষ আবার দীপার নাম্বারে ট্রাই করল-রিং হয়ে গেল, তুললোনা সে ফোনটা। দি-ভাই এর বাড়িতে তো এত সময়ে পৌঁছে যাওয়া উচিত ওর। এই এক স্বভাব হয়েছে আজকাল তার- রিং এর পর রিং বেজেই যাবে, তবুও ফোনটা তুলবে না সে। এই নিয়ে বললেই বলে -" আমি দেখিনি গো, ব্যাগের মধ্যে ছিল!  " আরে বাবা, পৌঁছে একটা ফোন করে জানিয়ে দিতে কি হয়? তবে তো অন্তত চিন্তাটা থাকেনা তার।

ফেসবুকটা খুললো অনিমেষ, সোজা ইনবক্সে যদি কোনো টেক্সট করে থাকে দীপা। না, লাস্ট এক্টিভ "ন" ঘন্টা আগে দেখাচ্ছে। মানে ফেসবুকটাও খোলেনি এখনো। কালকে রাত্রির লাস্ট চ্যাট হিস্টরিতে লাভ সাইনটা আর গোটা চারেক চুমুর স্টিকার তখনও জ্বলজ্বল করছে তার ফেসবুক চ্যাটবক্সে। অনিমেষ আবার কালকের চ্যাট হিস্টরি-টা প্রথম থেকে ভাল করে আর একবার পড়ে নিল।

এটা বেশ লাগে তার, মনে মনে হাসতে থাকে।বেশ একখানা ভালবাসার ছোঁওয়া পাওয়া যায়, এগুলো পড়তে -পড়তে। ইনবক্স থেকে বেরিয়ে হোম পেজটা স্ক্রল করতে করতে নিচের দিকে নামতে থাকে। হঠাৎ একটা ছবিতে এসে তার চোখ আটকে যায়। হ্যাঁ ওর অফিস কলিগ বিক্রম আর তার বউ মনে হচ্ছে! হ্যাঁ ভিক্টোরিয়ার সামনেই দাঁড়িয়ে ফটো তুলে পোস্ট করেছে। পেছনে প্রচুর অচেনা লোকজন এদিক -সেদিক দাঁড়িয়ে আছে। এই তো মাস দুয়েক আগেই ওদের বিয়ে হয়েছিল। অনিমেষ সেদিন আউট অফ কলকাতা, তাই যেতে পারেনি। ভাল করে ছবিটা জুম করে বিক্রমের বউয়ের মুখটা দেখছে । নাহঃ বেশ হয়েছে দেখতে-যেমন বিক্রমকে দেখতে হ্যান্ডসাম ঠিক বউটা ও বেশ সুন্দরী হয়েছে। বেশ মানিয়েছে দুজনকেই।
একি?
পেছনে কারা!
ছবিটা আরো জুম করল-
ঠিক দেখছে তো?
হ্যাঁ ঠিক-ই তো, দীপা।
ওখানে?
আর হ্যাঁ পাশে ওটা পার্টির সেই ছেলেটা না?
হ্যাঁ, শুভাশীষই তো!
ভালো করে বার কয়েক দেখল পিকচারটা।
হ্যাঁ ঠিকই দেখেছে।
দীপা আর শুভাশীষ পাশাপাশি ঘনিষ্ট হয়ে বসে প্রেম করছে। বিশ্বাস হচ্ছে না তার।
অনিমেষ ভাল করে টাইম-টা দেখে নিল হ্যাঁ মিনিট কুড়ি আগেই পোস্ট করেছে বিক্রম।
চোখ-মুখ লাল হয়ে গেল তার। হাতগুলো কেমন যেন একটা কাঁপছে!  মনে হচ্ছে একটা ভূমিকম্প হচ্ছে সারা পৃথিবী জুড়ে! বুকের মধ্যে অদ্ভুত অবর্ণনীয় একটা যন্ত্রণা সে অনুভব করছে- না বুক,না হৃৎপিন্ড, না পেট, কিছুই বুঝতে পারছে না সে। অথচ ভীষণ কষ্ট তার বুক থেকে পেট পর্যন্ত। মনে হচ্ছে এইবার বুঝি মরে যাবে সে- মোহররা মাঝে মধ্যেই বলতো- "তোমার বউকে সামলে রেখো কিন্তু" কথা গুলো কী তবে ঠিক ছিল? কানাঘুসো এদিক ওদিক থেকে শুনেও ছিল অনিমেষ। তবে সে তো দীপাকে কয়েকবার বলেওছিল, এসমস্ত নিয়ে।

দীপা হাসতে হাসতে বলেছিল, তুমি কী পাগল হলে? কার সাথে কার তুলনা করছ ! তোমায় ছেড়ে ওর সাথে? কোনো অংশে ওর সাথে তোমার তুলনা হয় নাকী? একসাথে পার্টি করি, তাই মাঝেমধ্যে আমরা পার্টির কাজেকর্মে একসাথে বেরোই। এর বাইরে অন্য কিছু না- অনিমেষ তবে কী তাকে বিশ্বাস করে, ভূল করেছিল? নিজের ফিয়ন্সেকেই যদি মানুষ  বিশ্বাস নাই বা করতে পারে, "ভগবান, তুমি কী বলতে পারবে, মানুষ আর কাকে বিশ্বাস করবে?" এখন তার মাথার মধ্যে হাজার প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে।কিছুতেই কোনো প্রশ্নের উত্তর সে যুক্তি দিয়ে মেলাতে পারছেনা।

কিছুটা সময় নিজেকে একটু শান্ত করার চেষ্টা করল। ভীষণ শক্ত ভাবে নিজেকে তৈরি করল- এমন নির্মম অথচ  চূড়ান্ত একখানা বাস্তব  অবস্থার মোকাবিলা তাকে করতে হবে.....

অনিমেষ বিক্রমকে ফোন করল। ওপার থেকে বিক্রমের গলা ভেসে এল -
-হ্যাঁ ভাই, বল!
অনিমেষ সমস্ত দুখ -কষ্ট-রাগ-অভিমান-হিংস্রতার অভিব্যক্তি সম্পূর্ণ চেপে রেখে বিক্রমকে বলল- ভাই, ভারী মিষ্টি বউ হয়েছে তোর।  ফেসবুকে দেখলাম এই মাত্র।
বিক্রম বলল-  তাই?
থ্যানক ইউ রে। দেখ আ্যরেঞ্জ ম্যারেজ করেও ভাল বউ পাওয়া যায় !
স্বীকার করবি তো এবার?
হা-হা করে হাসতে থাকল ফোনের ওপার থেকে।
আর তুই তো দেখাবি-দেখাবি বলে তোর মিষ্টি গালফ্রেন্ডটাকে এখন ও পর্যন্ত একদিন ও দেখানোর সময় পেলিনা, প্রায় একবছর ধরে।
অনিমেষ বিক্রমকে জিগ্যেস করল -
"তুই এখন কোথায়? "
বিক্রম- এই তো মিনিট পঁচিশ আগেই যে ফটোটা তুলে পোস্ট করলাম জায়গাটা চিনতে পারলি না? ভিক্টোরিয়াতেই বসে আছি তো।
নাকি আমার বউকে দেখেই কাত - আর পেছনের ব্যাক-গ্রাউন্ডটাও দেখিসনি? 
অনিমেষ- না না আগের ছবিও তো হতে পারে, তাই।
বিক্রম- এই মাত্র ছবিটা তুলেই পোস্ট করেছি।
অনিমেষ- যাক খুব ভাল লাগল তোদের দেখে। খুব এনজয় কর,পরে দেখা হবে। টাটা। ফোনটা রেখে দিল অনিমেষ।

ফোনটা রেখেই অনিমেষের হাত পা কেমন যেন একটা কাঁপছে -পারছে না, কিছুতেই নিজেকে কন্ট্রোল করতে। ছিঃ দীপা তার সাথে এরকম করল- কিছুতেই নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছে না সে -

রোজকার মত সেদিনও রাত বারটা নাগাদ দীপা ফোন করেছিল অনিমেষকে। অনিমেষ ভিক্টোরিয়ায় দেখা ছবিটা নিয়ে একটাও কথা বলেনি, সম্পূর্ণ গোপনে রেখেছিল। যেন কিছুই হয়নি, সেদিন রাতেও দীপার কত কথা, কত প্রেম, কত স্বপ্ন। কত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। সে-রাতে অনিমেষ সমস্ত কিছু কেবল চুপচাপ শুনেই গেল। দীপা জানিয়েছিল যে সকালেই পৌঁছে গেছে দি-ভাইয়ের বাড়ি। ওখানে খুব ব্যস্ত ছিল দি-ভাইয়ের ছেলেমেয়েকে নিয়ে। তাই সে আর ফোন করতে পারেনি সারাদিন। এখন ফ্রি হয়ে তাকে ফোন করেছে। অনিমেষ যা বোঝার বুঝে গেছিল সেদিন- যতটা নিজেকে শান্ত রেখে কথা বলা যায়, তাই করছিল-


#

দিন তিনেক বাদে দীপা ফিরে আসার পর সন্ধ্যের দিকে যথারীতি তাদের দেখা হল। অনিমেষ ছবি আর টাইম-টা দেখিয়ে জিজ্ঞ্যেস করেছিল-এরকম মিথ্যে বলার কারণটা কী ? দীপা মুখের ওপর সেদিন বলেছিল-"আমি তোমার সাথে থাকতে পারছি না। আমাদের ব্রেক-আপ.... "
অনিমেষ জিজ্ঞ্যেস করেছিল- মানেটা কী? এ ভারী অন্যায় -
দীপা বলেছিল-বেশ করেছি। বললাম যখন ব্রেক-আপ ব্যস ব্রেক-আপ। আর কথা বারাচ্ছো কেন? আমি এর বেশীকিছু বলতে বাধ্য নই। তোমার যদি কিছু করার থাকে, তুমি করে নিও। আমি চললাম-

অনিমেষ কাঁদতে কাঁদতে দীপার চলে যাওয়ার পথটা শুধুই সেদিন দেখেছিল-  ক্রমশ চোখ তার ঝাপসা হয়ে আসছে। দীপাও তার সমস্ত স্বপ্নগুলো ধীরে ধীরে অন্ধকারে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

তার পর প্রায় আট মাস কেটে গেছে, অনিমেষের সাথে দীপার এখন আর কোনো সম্পর্ক নেই। এখন রোজ দীপা আর শুভাশীষ মনের সুখে প্রেম করছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে, সারা কলকাতা জুড়ে ওরা এখন উৎসবে  মেতে উঠেছে।

ওদিকে অনিমেশ চাকরি-বাকরি প্রায় ছেড়ে দিয়েছে বললেই চলে। সকাল থেকে রাত্রির পাগলের মত এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ায়। চোখের নীচে আট-মাস না ঘুমোনোর ক্লান্তি আর মানসিক অস্থিরতা তার শরীরের হালত খুব খারাপ করে দিয়েছে। পুজো-পার্ব্বন তার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে। যে কেউ প্রথম দেখাতেই তাকে রুগ্ন রুগী বলে ভুল করবে! করুন তার এমন হাল দেখে খুব দুঃখ হয় -

অনিমেষ সৎ- একাগ্র- নাছোড়বান্দা মানসিকতা নিয়ে জীবনের অন্যান্য সমস্ত ক্ষেত্রে সফল হতে পেরেছিল বটে, কিন্তু দীপার মত নারীর কাছে? না সে সম্পূর্ণ হেরে গেছিলো। নিজের সমস্ত দক্ষতা দিয়ে হাজার বার হাজার প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সে বার বার ব্যার্থ হয়েছে। এমন অনৈতিক মূল্যহীন মানুষ গুলোর কাছে উত্তর চাইতে গিয়ে, সে এখনো বৃথা সময় নষ্ট করেই যাচ্ছে । এর পরিবর্তে ,সে যদি অন্য জায়গায় সময় দিত তবে জীবনে হয়তো আরও কয়েক-ধাপ এগিয়ে যেতে পারত-

আসলে, দীপাদের মত এমন মানসিকতার মানুষের কাছে এ গুলোর কোন মূল্য নেই। এমন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যতায় সে যতদিন ওদের কাছে উত্তর খুঁজতে থাকবে, সে রোজ হারতেই থাকবে। এখানে যুক্তি প্রত্যাশা বা নূন্যতম কৃতজ্ঞতাবোধ, সমস্তই অর্থহীন। এখানে মানুষের লোভাতুর রিপুরা কোনো যুক্তির ধার ধারেনা। তবু ও অনিমেশ তার সৎ নাছোড়বান্দা মানসিকতায় এ হেন দীপাদের কাছে রোজ উত্তর খুঁজতে গিয়ে,খাওয়া দাওয়া ঘুম আনন্দ সবকিছু প্রত্যাহার করে শরীরের এমন হাল করে ফেলেছে।

হে ঈশ্বর ! সমস্ত দিক থেকে এমন একটা সফল ছেলের মাত্র এই কয়েকদিনে,এ- কী হালত করলে তুমি? চোখ বন্ধ করে ভালোবেসে যে ছেলেটা নিজেকে সম্পূর্ণ উজাড় করে দিয়েছিল- এটাই কী তার একমাত্র ভূল? এই ছিল কী তার প্রাপ্য ?

এই পৃথিবীতে কোনো সৎ মানুষ অনিমেষের এমন করুন অবস্থা দেখার পর, কেউ কী আর কোনোদিন কাউকে ভালবাসার সাহস পাবে?



Facebook Comments
0 Gmail Comments

-

 
ফেসবুক পাতায়
Support : Visit Page.

সার্বিক অলঙ্করণে প্রিয়দীপ

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

শব্দের মিছিল > English Site best viewed in Google Chrome
Blogger দ্বারা পরিচালিত.
-