বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৩১, ২০১৭

কাজী ফয়জল নাসের

sobdermichil | আগস্ট ৩১, ২০১৭ |
চিরকালীন স্বামী-স্ত্রী
বন্ধুত্ব দিবসে অনেককেই দেখা যায় নিজের স্ত্রীকে সেরা বন্ধু বলে উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন বা ফটো আপলোড করেন। সত্যি বলছি একটুও হিংসে করিনা, বরং খুব ভালো লাগল দেখতে। তবে কি জানেন, কুচুটে মন তো আমার। এইসব স্ট্যাটাস দেখি আর মনে পড়ে যায় কোথায় যেন শুনেছিলাম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া স্বামীরা এক পা আগের দিকে ফেলেন না। এই নিয়ে সেই বহুচর্চিত গল্প আর নাই বা শোনালাম। তাই এইসব স্ট্যাটাসের পিছনে আসলে কি গল্প থাকে তা জানার উৎসাহ প্রচুর।    

    এইসব ক্ষেত্রে আমি সততাকে খুব মান্যতা দিই। তাই আমি আমার সেই বন্ধুকে বরং স্যালুট করি যে বলেছিল "বৌয়ের সামনে কখনো আমি মুখ খোলার সুযোগ পাই না, একমাত্র হাই তোলা ছাড়া"। 

    যাই হোক, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বন্ধুত্বের সম্পর্ক কি না বলতে না পারলেও, যে আণ্ডারস্ট্যাণ্ডিং এই সম্পর্কে দেখতে পাওয়া যায় তা অন্য কোন সম্পর্কে বিরল। এমন একজন স্বামীকে আমি চিনি, যে বিয়ের পর থেকেই ঠিক করে নিয়েছিল স্ত্রীর প্রতিটা কথায় সায় দেবে। কিন্তু সেটাও যে কত বিপদজনক হতে পারে, তার একটা উদাহরণ দিই। একদিন রাগের মাথায় তার বৌ বন্ধুকে বলেছিল, "আমি মনে হয় পাগল ছিলাম যে তোমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলাম"। স্ত্রীর কথায় সায় দিতে গিয়ে বন্ধু উত্তর দিয়েছিল "আমিও তোমার প্রেমে তখন এত হাবুডুবু খেয়েছিলাম যে খেয়াল করিনি তুমি পাগল"। 

    স্বামী-স্ত্রীর আণ্ডারস্ট্যাণ্ডিং-এর আরেকটা গল্প বলি। এখানে বিরলতম ক্ষেত্র হিসেবে, স্ত্রী স্বামীর কথা মেনে নিচ্ছেন। একজন স্বামী তাঁর সুন্দরী স্ত্রীকে বলছেন "সত্যি কথা বলতে কি জানো, প্রকৃত মুর্খরাই সুন্দরী মেয়েদের বিয়ে করে"। স্ত্রী উত্তরে সায় দিলেন "যাক, এ্যাদ্দিনে এই প্রথম তুমি আমার রূপের প্রশংসা করলে"।

    তবে কোন কোন স্বামী শুধু তাঁর স্ত্রীর কথাতেই সায় দেন তাই না, স্ত্রীর সম্পর্কে অন্যের করা মন্তব্যেও সায় দিতে ছাড়েন না। একজন ব্যক্তি অসুস্থ স্ত্রীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছেন। মহিলাকে কিছুক্ষণ পরীক্ষা করে ডাক্তার তাঁর স্বামীকে আড়ালে ডেকে নিয়ে বললেন, "দুঃখিত, আপনার স্ত্রীকে দেখে আমার কিন্তু মোটেও ভালো লাগছে না"। স্বামী সাথে সাথে জবাব দিলেন, "আমারও ভালো লাগে না, কিন্তু কী করব বলুন"?

    নাহ, আর বেশী বাড়াব না। যে সব স্বামী অথবা স্ত্রীর কথা এখানে লিখছি তাঁরা যখন এই লেখা পড়বেন, আমার উদ্দেশ্যে যে শান্তিবাণী উচ্চারিত হবে তা সহজেই অনুমান করতে পারি।
শান্তির কথায় চিরশান্তির কথা মনে পড়ে গেল। সেদিন পাড়ার মোড়ে জটলা দেখে এগিয়ে গেলাম। উৎসুক মুখ নিয়ে চোখের ইশারায় এক পরিচিত ছোকরার কাছে কি হয়েছে তা জানতে চাইলাম । সে উত্তর দিল "কমলবাবু চিরশান্তি লাভ করলেন"। আমি অবাক হয়ে বললাম, "সেকি! কাল বিকেলেই তো কমলবাবুর সাথে দেখা হল। কখন মারা গেলেন"? ছেলেটা উত্তর দিল "না না, কমলবাবু না, কমলবাবুর স্ত্রী মারা গেছেন"। 

    যাই হোক। অনেক বস্তাপচা গল্প শোনালাম। এবার শেষ করা উচিত। শুরু করেছিলাম একজন স্ত্রৈণ স্বামীর গল্প দিয়ে। শেষও করব তেমন একজনকে দিয়েই। কিছুদিন আগে এক বন্ধু আলাপ করিয়ে দিল একজন বৃদ্ধের সঙ্গে। তিনি নাকি স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া জীবনে একটা কাজও করেননি। স্ত্রীর কাছে অনেক অত্যাচার, অনেক দুঃখ পেয়েও ভদ্রলোক চুপ করে জীবন কাটিয়ে দিলেন। ভদ্রলোক নাকি জীবনে অনেকবার আত্মহত্যা করারও মনস্থির করেছিলেন।কিন্তু আত্মহত্যার আগেও তিনি স্ত্রীর অনুমতি চাইতেন। আর স্ত্রী সেই অনুমতি দেননি বলে আজীবন দুঃখ নিয়েই লোকটার জীবন কাটল। 


Facebook Comments
1 Gmail Comments

1 টি মন্তব্য:

 
Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ,GS WorK । শব্দের মিছিল আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

English Site best viewed in Google Chrome
Blogger দ্বারা পরিচালিত.
-