সোমবার, জুলাই ৩১, ২০১৭

শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়

sobdermichil | জুলাই ৩১, ২০১৭ | |
এ কোন বাংলা?: শব্দ ও বাক্যের অবক্ষয়ী বিবর্তন
কলকাতার একটি এফএম রেডিও স্টেশনে দুরন্ত গতিতে কথার তুবড়ি ফোটাচ্ছে রেডিও জকি। বাক্যগুলো যেমন মজাদার উচ্চারণভঙ্গীটিও তেমনি ‘মজাকিয়া’। প্রতি দশটি শব্দে চারটি হিন্দী চারটি ইংরিজির পর পড়ে থাকা দু আনার মতো দুটি বাংলা শব্দের ‘বিন্দাস’ সহাবস্থান। কোন ভাষায় কথা বলছে সেটা বোঝা দুষ্কর হলেও মানে বুঝতে একটুও বেগ পেতে হচ্ছে না। এতদিন ভাবতাম রবি ঠাকুরের কী বুদ্ধি! এমন কায়দা করে ‘জনগণমন’ লিখেছেন যে কোনও ভারতীয়ের কাছেই অর্থটা অধরা থাকছে না। বাঙালি কবি বাংলায় গান বাঁধলেও তা সর্বতোভাবে সর্বভারতীয় হয়ে গেছে। এখন দেখছি এই যুগের রেডিওর অনুষ্ঠান বা টিভি রিয়্যালিটি শোয়ের সঞ্চালকরাও কম যায় না। এমন চমৎকার ককটেল রচনার সামর্থ্য রাখে যাতে হিন্দী ও বাংলা যা খুশি ভেবে নেওয়া যায়। আর ইংরিজির তো যেখানে খুশি ঢুকে পড়ার লাইসেন্স আছেই। এ যুগের মানুষ শুদ্ধতা নিয়ে অত পিটপিট করে না, পাঁচ মিশেলি যা পরিবেশন করা হবে তা যদি চটপটা চাটের মতো উপাদেয় লাগে, তাহলে চেটেপুটে খেয়ে নেয়; উপাদান নিয়ে প্রশ্ন তুলে রসভঙ্গ করে না। 

ভাষাকে বহতা নদীর সঙ্গে তুলনা করা নতুন নয়। নদী যখন তখন তাতে বহিরাগত স্রোত এসে যেমন মেশে, মূল স্রোত থেকে শাখা প্রশাখাও বেরোয়। ইন্দোইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীগুলোর উৎস অভিন্ন মনে করা হয়। ইওরোপে প্রবাহিত ধারাটি গ্রীক, গথিক, ল্যাটিন, ইত্যাদি ও পরবর্তী পর্যায়ে জার্মান, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, ইংরিজি ইত্যাদি হিসাবে বিকশিত হয়েছে। আর ভারতের দিকে যে শাখাটি বয়ে আসে তা প্রাথমিকভাবে বেদভাষা ও পরে সংস্কৃত নামে পরিচিতি পেয়েছে। এ ব্যাপারে গবেষকরা মোটামুটি ঐক্যমত। প্রসঙ্গত ভারতে আগত আর্যদের বেদ ভাষা ও সংস্কৃত মূলত এক হলেও একেবারে অভিন্ন নয়। অনার্য ভাষার সংমিশ্রণে বেদভাষার বিকৃতি রুখতে পাণিনি তাকে ব্যাকরণের শক্ত নিগড়ে বেঁধে সংস্কার সাধন করেন বলেই নতুন নামকরণ ‘সংস্কৃত’। তবু সংস্কৃতের সঙ্গে অনার্য ভাষার মিশ্রণে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রাকৃত, পৈঙ্গল যার উত্তরাধিকারী আজকের হিন্দী, বাংলা, মারাঠী সহ বিভিন্ন ভারতীয় ভাষা। পাকৃত চার রকম ছিল। যেমন হিন্দীর পূর্বসূরী ‘সৌরসেনী প্রাকৃত’; মারাঠী, গুজরাটীর জননী ‘মহারাষ্ট্রী প্রাকৃত’; বাংলা, অসমীয়া উড়িয়ার জন্মদাত্রী ‘মাগধী প্রাকৃত’ আর কিছু অন্তজ শ্রেণীর মধ্যে প্রচলিত ‘পৈশাচী প্রাকৃত’। সুতরাং এক ভাষার সাথে আর এক ভাষার সংমিশ্রণে নতুনতর ভাষা সৃষ্টি হবে – এটাই কৃষ্টিশীলতা, গতিময়তা। 

এখন মিশেলের ফলে উদ্ভূদ ভাষাটি যদি কিছুটা শৃংখলাবদ্ধ হয়, গড়ে ওঠে তার নিজস্ব ব্যাকারণ, বাকধারা, হয়ে পড়ে উন্নত চিন্তা প্রকাশের মাধ্যম – তাহলে মিশ্রণটি সার্থক বলা যায়। এই রকম একটি সার্থক নবনির্মাণ হল ‘উর্দু’। হিন্দী বা খড়িবোলীর ধাঁচায় তৎসম শব্দগুলো সচেতনভাবে বাদ দিয়ে আরবি ফারসি শব্দ এমনকি বাকধারার অফুরান ব্যবহারে তৈরি এই ভাষা। প্রাথমিকভাবে এর জন্ম সেনা ছাউনি। কিন্তু উর্দু (যার অর্থ তাঁবু) নিছক সেনাদের কেজো কাঠখোট্টা ভাব আদানপ্রদানের মাধ্যম হয়ে থাকেনি, রাজকীয় বিশেষত মুঘল বাদশাদের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়ে উঠেছিল সাহিত্য, সঙ্গীতের অনুপম আশ্রয়। উর্দু সেনা শিবিরের মিশ্রভাষা হলেও এর নিজস্ব ব্যাকরণ আছে। নতুবা মিশ্রণের ফলে অধিকাংশত মিশ্রভাষা বা অপভাষার জন্ম হয়। যেমন জিপসি, বীচ-লামার কিংবা আমাদের ‘ডেঞ্চিবাবু’দের ভাষা। কতগুলো মজার উদাহরণ মনে পড়ছে – “মাই বেলি নো কাই কাই” যার অর্থ আমার পেটে খাদ্য নেই, আমি কিছু খাইনি, খাওয়া হয়নি বা খাব না – কিছু একটা হতে পারে। কলকাতার বাঙালিরা বিহারে বেড়াতে গিয়ে যা দেখত তাই তাদের কাছে কলকাতার তুলনায় ‘ড্যাম চীপ’ মনে হোত আর তাতে করে স্থানীয় মানুষের কাছে তারা ‘ডেঞ্চি’ অর্থাৎ ড্যাম চীপ বাবু হয়ে যায়। আরও আছে, “মাই হাউস মর্নিং অ্যান্ড ইভিনিং টোয়েন্টি লীভস্ ফল, লিটিল লিটিল পে হাউ ম্যানেজ?” যার অর্থ “সাহেব, সকাল সন্ধ্যা বাড়িতে বিশটা পাত পড়ে, অল্প অল্প মাইনেয় চলে কী করে?” বাংলায় ‘পাত পড়া’ তার নিজস্ব বাগ্‌ধারা বা figurative expression. ইংরিজিতে তার অনুবাদ ‘লীভস্ ফল’ বললে মানেটা শুধু হাস্যকর নয় রীতিমতো বিভ্রান্তিকর দাঁড়ায়। 

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমারও আশংকা হয়, বাংলার মতো উৎকৃষ্ট ও সমৃদ্ধ ভাষাও না সেই রকম সংকটে পড়ে যায় ইংরেজি, হিন্দী এমনকি নিজেরই কোনও উপভাষার দাপটে। উপভাষার প্রসঙ্গ তুললাম কারণ, আমাদের লিখিত ও চলিত কথ্য ভাষার একটা মান্য রূপ আছে যাকে Standard Colloquial Bengali বা মান্য চলিত বলে। এটি মান্য সাধুভাষার উত্তরসূরী। এর ভিত্তি রাঢ়ী উপভাষা যা গাঙ্গেয় পশ্চিমবাংলার ভাষা। এর সবচেয়ে পরিশীলিত রূপ নদীয়ার শান্তিপুর অঞ্চলে ব্যবহৃত। রাঢ়ীর নিজস্ব বৈশিষ্ট্যগুলোই একটু মেজেঘষে মান্য চলিত বাংলা হিসাবে স্বীকৃত। এর মধ্যে যদি বঙ্গালি বা বাঙাল উপভাষার শব্দ বা বাকরীতি ঢুকে পড়ে চলিতের নিজস্ব শব্দ বা শৈলীকে প্রতিস্থাপিত করে তাহলেও কিন্তু তা মান্য ভাষার দুষণ বলেই ধরতে হবে। 

চলিতের পীঠস্থান কলকাতায় এসে আমি ক্রমাগত শুনে যাচ্ছি চিবোনোকে চাবানো, মাড়ানোকে পাড়ানো। ‘যাবা’ ‘খাবা’ ‘বলবা’ করে কথা বললে মানুষটির উপভাষাগত ভৌগোলিক উৎস বোঝা যায়। কিন্তু মান্য চলিতের সাথে যদি চাবানো পাড়ানো যাবা খাবা মিশিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তা নিঃশব্দ ঘাতক, silent killer-এর কাজ করে। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অশুদ্ধটাকেই শুদ্ধ হিসাবে জানছে। আমার কন্যা থেকে থেকেই গুলিয়ে ফেলে, “মা কথাটা মাড়ানো না পাড়ানো?” সব ছেলেমেয়ের এই প্রশ্ন নেই, তাদের সদুত্তর দেওয়ার মতো মা বাবাও কমে যাচ্ছে। কেউ বলতেই পারেন বাঙাল ভাষাও তো বাংলারই একটা রূপ, তার মিশেলে মান্য বাংলা সংকটে পড়বে কেন? তাহলে বলতে হয় বঙ্গালির রূপই স্থানভেদে পরিবর্তনশীল – যশোর-খুলনা আর ঢাকার ভাষা এক নয়, সিলেটি ভাষার সাথে বাংলার চেয়ে অসমীয়ার মিল বেশি, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের ভাষা বোঝার জন্য আমাদের দোভাষী লাগবে। উপভাষার অনুপ্রবেশ মান্য ভাষায় কেন অনভিপ্রেত বোঝাতে আর একটা উদাহরণ দিই। আমার শেকড় বর্ধমান জেলার পশ্চিমাংশের একটি গ্রামে যার সাথে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূমের জলবায়ু, ভূপ্রকৃতি এমনকি ভাষাগত সাদৃশ্য খুব নিবিড়। ঐ সব অঞ্চলে কাউকে ‘পড়ে যাবি’ বলতে বলে ‘পড়ে হবি’। আমি আমার পিতৃভাষায় কথা এখানেও বলতেই পারি, সে স্বাধীনতা কলকাতাবাসীরা হরণ করতে পারবে না। কিন্তু মান্য চলিত বলতে গিয়ে যদি ঝাড়খণ্ডী বাগ্‌ধারার আদলে বলি ‘আমি সিঁড়ি থেকে পড়ে হলাম’ বা ‘আমি অমুক বটি, তুমি কে বট?’ সেটা কি অনুমোদনযোগ্য? আরও কতগুলো ভুলভাল বিভক্তির প্রয়োগ রীতিমতো জাঁকিয়ে বসেছে। এখানকার লোকে বাজার ‘থেকে’ সব্জি আনে না, আনে বাজার ‘দিয়ে’। যা অবস্থা ‘থেকে’ বিভক্তিটির আর আগের অবস্থানে থেকে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। তারও প্রয়োগ হচ্ছে নতুনভাবে। এর উদাহরণ পরে দিচ্ছি। দু’চারটে শব্দ, অলংকার তথা প্রবচন অথবা expression রস সৃষ্টির জন্য প্রয়োগ করাই যায়, কিন্তু অন্য ভাষার বা উপভাষার প্রভাবে মূল মান্য ভাষার বাকরীতি বা figurative expression বদলে ফেললে কিন্তু ভাষার শরীরে ক্ষতই সৃষ্টি হয়, সময় যার শুশ্রুষা করতে পারে না; বরং ভাষার কাঠামোয় স্থায়ী রূপান্তর এনে দেয় যা কালের সাপেক্ষে উত্তোরণ নাও হতে পারে।

এই যে বাগ্‌ধারার কথা বললাম, তা কিন্তু প্রবাদ প্রবচন নয়। বাগ্‌ধারা হল একটি ভাষায় কথা বলার রীতি। আমরা গাছ থেকে বা উঁচু জায়গা থেকে ফল বা জিনিষপত্র পাড়ি। ‘পাড়া’টা নামিয়ে আনা অর্থে ব্যবহৃত একটা এক্সপেশন। বাংলায় গাল পাড়া যায়, দেওয়াও যায় কিন্তু গাল বকা যায় না। ‘গালিয়া বকনা’ একান্ত হিন্দীর নিজস্ব বাকধারা। কবি গায়ক সুমন চট্টোপাধ্যায় এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, “আমি কেন-কি-ওয়ালা বাংলা বলতে পারব না”। বাংলায় ‘কারণ’ শব্দটির পরিবর্তে ‘কেন না’ বলাটাই রীতি, ‘কেন কি’ হল হিন্দীর ‘কিঁউ কি’র অনুকরণ। এটা আমি প্রথম যে বাঙালিকে বলতে শুনি তিনি হলেন সুস্মিতা সেন, যার জন্ম ও বড় হওয়া দিল্লীতে অবাঙালি পরিমণ্ডলে। প্রবাসী টানে বিশ্বসুন্দরীর মুখে বাংলা শুনতে বেশ মিষ্টি লেগেছিল। কিন্তু সেই ভুলটা এতটা জনপ্রিয় হয়ে গেল যে আমাদের মায়ের প্রজন্মের মানুষেরও ‘কেন না’ ভুলে ‘কেন কি’ বলা অভ্যেস হয়ে গেল? অনেকের মুখেই ‘ছবি তোলা’ হয়ে গেছে ‘ছবি ওঠানো’, যা বলা বাহুল্য ‘তসবীর উঠানা’র অনুসরণ। ‘তসবীর খিঁচনা’র অনুবাদ করে এবার বাঙালিকে ক্যামেরায় ‘ছবি টানতে’ দেখলেও আশ্চর্য হব না। বাঙালির ছেলেমেয়েরা যে আজকাল জন্মদিন ‘পালন’ করে না, জন্মদিন ‘মানায়’ যেহেতু হিন্দীতে ‘জনমদিন মানানা’টাই স্বাভাবিক। আমার ভাষায় অভাব থাকলে বা সৌন্দর্য বৃদ্ধির প্রয়োজনে অন্য ভাষা থেকে নানা শব্দ বা শব্দবন্ধ ভাষাঋণ হিসাবে গ্রহণ করা যেতেই পারে, এমনকি প্রবাদ বা proverbs গুলোর ভাষান্তর করলেও অসুবিধা নেই যদি দরকার হয়। এতে ভাষার শ্রীবৃদ্ধিই ঘটে। কিন্তু ভাষাঋণ নিতে গিয়ে যদি নিজের ভাষার নিজস্বতা নষ্ট করে ফেলি সেটা কোনও ইতিবাচক সংশ্লেষ নয় বরং ক্ষয়। 

এইরকম চ্যুতির উদাহরণ আরও দেওয়া অনেক যায় আজকের বাঙালির মুখের ভাষায়, বিজ্ঞাপনের ভাষায়, এমনকি টিভি চ্যানেলে সংবাদ পাঠের ভাষাতেও। এখন বাঙালিরা কেউ কারও ‘কাছ থেকে’ কিছু নেয় না, সবার ‘থেকে’ জিনিস বা পরামর্শ নেয়। ‘কাছ থেকে’-র বদলে শুধু ‘কাছে’ও বলা যেত বা যায় বলে জানতাম। যেমন – তোমার কাছে পরামর্শ নেব না। আর এখন কাছ থেকে কেউই বলে না। হয়ত আমরা আসলে কেউ কারও কাছাকাছি নই বলেই কিনা জানি না, ‘কাছে’ বা ‘কাছ থেকে’ হয়ে গেছে কেবল ‘থেকে’ – “তোমার থেকে টাকা চাইনি”। এই বদলটাও বলা বাহুল্য ‘হিন্দী’র ‘সে’ বিভক্তির অনুবাদের ফল – তুম সে নসীহত নহী লেনা হেয় মুঝে। 

আজকের বাচ্চাদের কথায় আসি। আমার মেয়ে স্কুল থেকে ফিরে (যাকে এখন অনেকেই স্কুল দিয়ে ফেরা বলে) বলল, “মা আমি ফিজিক্সে হাইয়েস্ট নাম্বার এনেছি”। সেই অবধারিত ভাবে হিন্দীর ‘নাম্বার লায়া’ হয়ে গেছে বাংলায় ‘নাম্বার আনা’, ‘নম্বর পাওয়া’ বেমালুম গুম! আরও শুনি, “সোমালি ক্লাসে ফার্স্ট এসেছে”, ‘ফার্স্ট হয়’নি। এরা তো বাচ্চা, যা শোনে তাই শেখে। এদের মুখের ভাষায় ভেজাল মেশানোর জন্য দায়ী কারা? দায়ী অর্ধ শিক্ষিত শিক্ষক শিক্ষিকারা আর চলচ্চিত্র মিডিয়া বিজ্ঞাপণ জগতের ওপর চালাক অগভীর মানুষগুলো যারা উচ্চ পদে আসীন থেকে প্রচুর উপার্জনের বিনিময়ে দায়িত্ব নিয়ে বাংলার বারোটা বাজাচ্ছে। সবচেয়ে করুণ অবস্থা বাংলা বিজ্ঞাপণগুলোর যেগুলো হিন্দী বা ইংরেজী থেকে অনুদিত হয়েছে। একটা পরিচিত ডিটারজেন্টের বিজ্ঞাপণে একটা বাচ্চা ছেলে তার বন্ধুর সঙ্গে জল কাদায় মারামারি পর ভাব করার সময় বলছে, “তাহলে আমরা গলা মেলাই”। হায় ঈশ্বর! হিন্দীতে ‘গলে মিলনা’ হল আলিঙ্গন করা; ওদিকে বাংলায় ‘গলা মেলানো’ বলতে কিন্তু সঙ্গে কণ্ঠ্যদানকে বোঝায়, অর্থাৎ সমস্বরে গান, আবৃত্তি বা স্লোগান দেওয়া। মোটা মাইনে পাওয়া অ্যাড এজেন্সির কপি রাইটারদের আদৌ কোনও শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে না গাঁজায় দম দিয়ে মাতৃভাষার পিণ্ডি চটকায় জানতে ইচ্ছা করে। এরা হিসাব মতো সাংস্কৃতিক অপরাধ করছে; কারণ নতুন প্রজন্ম ভাষা শিক্ষার জন্য বাংলার রেফারেন্স হিসাবে এই দুষিত ভাষাটাই পাচ্ছে। তুমি বহু ভাষায় পারদর্শী হতেই পারো, কিন্তু প্রতিটা ভাষাকেই তার মর্যাদা দিয়ে নিজস্ব রীতি অনুযায়ী বল; নতুবা ‘টোয়েন্টি লিভস্ ফল’ হয়ে যাবে। 

হিন্দী কিন্তু নিজের জায়গায় বাগ্‌ধারার দিক দিয়ে অতটা বিচ্যূত নয়, যদিও ইংরেজির মিশেল দিয়ে সংলাপ ও গানের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। আর অন্যান্য ভাষা থেকে তার ঋণ গ্রহণের ক্ষমতাও বেশি, তার উচ্চারণ শৈলীও ইংরেজী সহ অনেক পশ্চিমা বিদেশী ভাষার সঙ্গে বেশ খাপ খেয়ে যায়। বাংলা সহ প্রায় সব উত্তর ভারতীয় ভাষাতেই প্রচুর আরবি, ফার্সি শব্দের পাকাপোক্ত জায়গা। কিন্তু সেগুলোর তাদের মূলানুগ উচ্চারণ নিয়েই হিন্দীতে আত্তিকরণ ঘটেছে, যেখানে বাংলায় মূল উচ্চারণের শ্বাসাঘাত এমনকি ধ্বণিও অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তিত। যেগুলো শুধু উচ্চারণের ফারাক সেগুলোর কথা বলছি না। কিন্তু অনেক শব্দের গঠনও বদলে গেছে বাংলায় অঙ্গীভূত হতে গিয়ে। যেমন ‘নেস্তনাবুদ’ বাংলায় ‘নাস্তানাবুদ’। ‘গুলাব’ হয়ে গেছে ‘গোলাপ’, তরাজু (tarazu)-র উচ্চারণে ‘z’ পরিস্কার ‘জ’(j) হয়ে তরাজু হয়ে যায়, কম্মর > কোমর। সম্ভবত বাংলায় দুটি বহুল ব্যবহৃত শব্দের উৎসও এই রকম : ওয়াকিব-এ-হাল > ওয়াকিবহাল, সর জমিন (zamin) > সরেজমিন। ‘ফাজিল’ (fazil) শব্দটি হয়েছে ‘ফাজিল’ যার উচ্চারণের সঙ্গে অর্থতেও বিপ্লব ঘটে গেছে। বহুক্ষেত্রে মূল শব্দ ও অর্থ খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। আবার আমার অনুমান থেকে বলছি - সম্ভবত ‘মুয়ায়না’ অর্থ পরীক্ষা বিশেষত রসায়নাগারে পরীক্ষা বোঝায়। আর বাংলায় তা হয়ে গেছে ‘ময়না তদন্ত’ অর্থাৎ কিনা পোস্ট মর্টেম যে পরীক্ষা মৃতদেহে করা হয়। কোথায় মুয়ায়না আর কোথায় ময়না পাখি? উক্ত শব্দগুলো হিন্দীতে কিন্তু তাদের মূল উচ্চারণ ও অর্থসহ গৃহীত হয়েছে। 

উদাহরণের তালিকা বাড়ালে একটা বই লিখে ফেলা যাবে। একটা ভাষায় অন্য ভাষার শব্দ বা বাক্যাংশের প্রয়োজন অনু্ভূত হয় যদি সেই ভাষায় উপযুক্ত প্রতিশব্দ বা সমতুল্য অভিব্যক্তি (expression) না থাকে। আমি নিজে যেমন ‘মস্তি’, ‘বিন্দাস’, ‘অদা’ – এই শব্দগুলোর উপযুক্ত বাংলা প্রতিশব্দ খুঁজে পাইনি যারা ঠিক ঐ একই ব্যঞ্জনা ও সৌরভ বহন করে। ‘উপলব্ধ’ শব্দটিরইও ঠিক বাংলা প্রতিশব্দ নেই যা হিন্দিতে সার্থকভাবে ব্যবহৃত হয় ‘Available’ বোঝাতে। বাংলায় ‘পাওয়া যায়’ জাতীয় দুটি পদ দ্বারা বোঝানো গেলেও সমতুল্য নির্দিষ্ট প্রতিশব্দ নেই। তাই এই শব্দটির অন্তর্ভুক্তি প্রয়োজন ছিল। ‘মান্যতা’ শব্দটির অর্থ ‘স্বীকৃতি’ হয়েও সামান্য পৃথক। এটিও বাংলায় আত্তিকৃত বলা যায়। অনয়দিকে issue, correspondence এই শব্দগুলোর অর্থের যা ব্যাপ্তি তাদের বাংলা অনুদিত রূপগুলির তা নয়। issue শব্দটার ইংরিজিতে বিষয় বা ব্যাপার অর্থে প্রযুক্ত হতে পারে, সমস্যা হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে, আবার সন্তানও হতে পারে। বাংলায় প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদা শব্দ বা শব্দগুচ্ছ প্রযোজ্য, নয়ত ‘ইশ্যু’ বলেই ল্যাটা চোকাও। অন্যদিকে correspondence-এর বাংলা দূর থেকে পরিচালিত বা সংবাদ দাতা এই জাতীয় কিছু। আবার corresponding-এর বাংলা করলে আবার সংশ্লিষ্ট, তুলনীয়, অনুরূপ একাধিক মানে দাঁড়ায়। তাই এই ইংরিজি শব্দগুলো এড়িয়ে অনুরূপ অর্থ ও অভিব্যক্তির বাংলা বলা দায়। যার ফলে উক্ত শব্দগুলোর বাংলায় আত্তিকরণ সম্ভব না হলেও অন্তর্ভূক্তি ঠেকানো মুশকিল।

আর একটি দিক উল্লেখ করব। প্রতিটি ভাষায় শব্দের অর্থের পরিবর্তন সময়ের সাথে ঘটেই থাকে। কখনও অর্থের ব্যাপ্তি বেড়ে যায়, কখনও সংকুচিত হয়, কখনও বা একেবারে বদলে যায়। বাংলাতেই এমন বহু উদাহরণ আছে। ‘মৃগয়া’র অর্থ আদিতে মৃগ শিকার হলেও কালক্রমে সামগ্রিকভাবে শিকারকেই বোঝাতে শুরু করে। ‘নাগর’ কথাটা গোড়াতে নাগরিক বা নগরবাসী অর্থেই প্রচলিত ছিল যার মানে পরবর্তীকালে বাংলায় দাঁড়াল প্রেমিক,বিশেষত অবৈধ প্রেমিক। ইদানিং কয়েকটি শব্দের অর্থের পরিবর্তন ও বঙ্গসমাজে তার সর্বজন স্বীকৃতি দেখে আমার নিজেকে বড় সেকেলে মনে হচ্ছে। যেমন ‘ব্যাপক’ শব্দটি। ছোটবেলা থেকে শ্রেণীকক্ষে শুনে অভিধান পড়ে জেনেছি ব্যাপক মানে পরিব্যপ্ত,বিস্তির্ণ,বেশ খানিকটা অঞ্চল জুড়ে,wide।ব্যাপক হারে বৃষ্টি মানে বিস্তির্ণ অঞ্চল জুড়ে বর্ষণ। মহামারীতে যে মৃত্যু ছড়িয়ে পড়ে তাকেও বলা যায় ব্যাপক মৃত্যূ। কিন্তু ইদানিং, শুধু ইদানিং বলব না, আমি যখন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলাম তখন সেই ১৯৯৩ সালেই প্রথম শুনি আমার এক আসানসোলের বান্ধবীর মুখে, “কাল ব্যাপক গরম ছিল” যার দ্বারা সে বোঝাতে চেয়েছিল প্রচণ্ড গরম, ব্যাপক অঞ্চল জুড়ে গরম নয়। এর পর শুনলাম, “মাংসটা খেতে ব্যাপক হয়েছে”, ‘ছেলেটাকে ব্যাপক দেখতে’ এবং সব চেয়ে বড় ধাক্কা খাই আমার মা মাসির প্রজন্মের এক প্রতিষ্ঠিত মহিলা কবির সংলাপে, “সম্পাদক আমার ওপর ব্যাপক খচে গেছে”। এই পরিবর্তিত অর্থ গণমাধ্যমগুলিতে এমনকি সাহিত্য রচনাতেও রমরমিয়ে চলছে। এইভাবে ‘অত্যন্ত’ বা ‘দুর্দান্ত’র প্রতিশব্দরূপে ‘ব্যাপক’ বিশেষণটির ব্যবহৃত হ‌ওয়ায় তার প্রয়োগের ব্যাপকতা ক্রমশ ব্যাপকতর হয়ে চলেছে, কিন্তু ‘ব্যাপক’ আর ‘ব্যাপক’ অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছেই না বলতে গেলে। 

আধুনিক বাংলা বানানবিধি ও কিছু প্রশ্ন:

পশ্চিমবঙ্গে ‘আধুনিক বাংলা বানান বিধি’র নামে তদ্ভব তো বটেই এমনকি তৎসম শব্দের বানানেরও যা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন পত্র পত্রিকা গোষ্ঠী আপামরকে তা মেনে নিতে বাধ্য করছে সেটাই কতটা যুক্তিগ্রাহ্য ভাবার অবকাশ রয়েছে। একদিকে ‘গান্ধী’ শব্দটিকে হিন্দীর অক্ষম অনুকরণে ‘গাঁধী’ লেখার বিচিত্র প্রয়াস, অন্যদিকে সংস্কৃত বানানবিধিকে কাঁচকলা দেখিয়ে সমস্ত দীর্ঘ-ই-কারান্ত শব্দকে হ্রস্ব-ই-কার করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ‘দেশী’, ‘পাখী’, ‘বাঙালী’, ‘হিন্দী’ ইত্যাদি শব্দের ঈ-কার বদলে ই-কার করা তো তো বটেই ‘শ্রেণী’ ইত্যাদি তৎসম শব্দগুলোকেও অসংস্কৃতভাবে ‘শ্রেণি’ লেখা হচ্ছে। এমনকি মানা হচ্ছে না স্ত্রী লিঙ্গে ‘ঈ’ প্রত্যয় ব্যবহারের নিয়মও। ‘মুরগী’র বদলে ‘মুরগি’ (অজুহাত তৎসম নয়), ‘নাচনী’র বদলে ‘নাচনি’ (অজুহাত তদ্ভব), হয়ত বা ‘নদী’-ও হতে চলেছে ‘নদি’। যেখানে হিন্দী বানানের সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে ‘পাঞ্জাব’, ‘মারাঠী’, ‘পাটনা’ ইত্যাদিকে বেখাপ্পাভাবে ‘পঞ্জাব’, ‘মরাঠি’(মরাঠী নয়), ‘পটনা’ লেখা হচ্ছে ‘অ’ স্বরবর্ণটি বাঙালির জিহ্বায় কীরূপ ধারণ করবে তার পরোয়া না করে, সেখানে হিন্দী বা অন্যান্য সংস্কৃতজাত ভাষাগুলির বিপরীত মেরুতে গিয়ে শুধু দীর্ঘ ‘ঈ’-কারের ও ক্ষেত্রবিশেষে দীর্ঘ ‘ঊ’-কারের প্রতি পশ্চিমবঙ্গীয় আধুনিক বাঙালিদের কীসের আক্রোশ বোঝা সত্যিই দুষ্কর। বাংলায় স্বরের আদিতে শ্বাসাঘাতের কারণে শব্দের শুরুতে স্বর দীর্ঘ হয়ে যায়। সেই কারণেই আমাদের উচ্চারণে আগামী বা গত ‘কল’ হয়ে গেছে ‘কাল’। হিন্দীতে ‘কল’ হল বিগত বা আগামী কাল আর ‘কাল’ হল সময় বা মহাকাল। দুটোর মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও এক নয়। বাংলায় যদি ‘পটনা’ লিখতে পারি তাহলে সেই যুক্তিতে আগামী‘কাল’-কেও খুড়োর ‘কল’ বানিয়ে দিতে আপত্তি কোথায়? বাংলা ব্যাকরণ ও বানানের আধুনিক ঠিকাদারেরা না জানেন বিজ্ঞান, না বোঝেন ধ্বণিতত্ত্ব (phonetics) না মানতে রাজি পাণিনির যুক্তিসম্মত বিজ্ঞানসম্মত ব্যাকরণকে। নাম করা বাণিজ্যিক পত্রিকায় উচ্চ পদাদিধার বলে কিছু সাহিত্যিক নিজের স্বেচ্ছাচার দ্বারা বাংলা বানানের যা সর্বনাশ করে দিয়ে গেলেন তার থেকে উদ্ধারের আশা নেই। এটা ‘ডিমনিটাইজেশন’-এর মতো অমোঘ যা সমর্থন না করলেও সকলে মেনে নিতে বাধ্য, কারণ মূলানুগ বানান বাতিল নোটের মতো অচল ঘোষিত হয়েছে। 

অথচ হিন্দীর দাপটে পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারত ভূখণ্ডে বাংলা তার স্বকীয়তা হারাচ্ছে। আর অন্যদিকে ইসলামিক অনুশাসনে এবং উপভাষার সংমিশ্রণে বাংলার একটা বিকৃত রূপই সারা বিশ্বে বাংলা ভাষার কার্যত প্রতিনিধি হিসাবে মান্যতা পেয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের কবিতা থেকেও ‘শ্মশান’. ‘মন্দির’, ‘ভগবান’ ইত্যাদি শব্দগুলো বহুদিন আগেই বাদ দিয়ে ‘করবস্তান’ ‘মসজিদ’ বা ‘রহমান’ দ্বারা প্রতিস্থাপিত করার উদ্যোগ দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে ধর্মীয় সংকীর্ণতার বাড় বাড়ন্তে রবীন্দ্রনাথকেই পাঠ্যসূচি থেকে পরিত্যাজ্য করা হয়েছে। ‘বাংলাদেশ’ নামের দেশটিতে যে ভাষার চাষাবাদ হচ্ছে ও তার গতিপ্রকৃতি যেদিকে অদূর ভবিষ্যতে তা যে নাম ছাড়া কার্যত বাংলা থাকবে না সেটা মনে হয় ভবিষ্যৎবাণী করাই যায়। ‘সিধু কানহো বিরসা’ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ আয়োজিত এক সেমিনারে জনৈক বিদগ্ধ ব্যক্তি ভবিষ্যৎবাণী করলেন, “একদিন মান্য চলিত বাংলাদেশে সাধুভাষা হিসেবে গণ্য হবে আর সেখানকার উপভাষা মর্যাদা পাবে চলিত হিসেবে”। তিনি অবশ্য এর মধ্যে বাংলাভাষার সুদিনের সন্ধান পাচ্ছেন, কিন্তু আমি উদ্বিগ্ন। আমার তেরো বছর বয়সী ইংরিজি মাধ্যমে শিক্ষিত কিশোরী কন্যাও কোনও সূক্ষ্ম অনুভবে একই পরিণতি অনুমান বা আশঙ্কা করেছে। উপরন্তু পশ্চিমবঙ্গে হিন্দি বিরোধী ‘বাংলাভাষা’র আবেগকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আরোপিত মোড়কে সাজাতে গিয়ে বাংলার চিরাচরিত শব্দভাণ্ডারকে আরবি ফারসি তথা সম্প্রদায়বিশেষের ধর্মাচারণ সংক্রান্ত শব্দ দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা হচ্ছে।এমনকি ‘রামধনু’ শব্দটির সনাতনী গন্ধ দূর করতে পাঠ্যপুস্তকে লেখা শুরু হয়েছে ‘রংধনু’।  রাম শব্দটি যে রামায়ণের  নায়ক বিষ্ণুর অবতার ছাড়াও  বিশেষণ হিসেবে বড়ো বা বিরাট অর্থে ব্যবহৃত হয়, সে জায়গাও কেড়ে নেওয়া হল। অনুরূপ ছুতমার্গ তাড়িত হয়ে মাসি-পিসি এই সুপরিচিত শব্দগুলিকেও ক্রমশ  বিদেশি শব্দ দ্বারা উৎখাত করার প্রবণতা শুরু হয়েছে শিশুপাঠ্য স্তর থেকেই। কোনও রাষ্ট্র বা রাজ্যের শাসন হয়তো অরাজনৈতিক বিষয় নয়। কিন্তু একটা ভাষার এমন রাজনৈতিক সম্পাদনা তাকে কোনদিকে ঠেলে দিচ্ছে তা নির্ণয়ের দায়িত্ব ভাবিকালের ওপর ছেড়ে না দিয়ে আমাদেরই সচেতন হওয়া উচিৎ।

একজন ভাষাকর্মী হিসাবে একটু রক্ষণশীল হলে বোধহয় অনুদারতা নয়, মাতৃভাষার কাঠামোটির প্রতি আনুগত্যই প্রকাশ পায়। পৃথিবী থেকে প্রতিদিন বহু ভাষা অবলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যে ভাষা জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বে পঞ্চম স্থান দখল করে আছে, তার অবলুপ্তি নিয়ে আশঙ্কা হয়তো নেই, কিন্তু আরও কয়েক দশক পরের বাংলাকে আজকের বাঙালিরা বাংলা বলে চিনতে পারবে তো? এক ইতিবাচক অভিযোজনের ফলশ্রুতি ছিল অশিষ্ট ‘মাগধী প্রাকৃত’ থেকে আধুনিক পরিমার্জিত বাংলার রূপান্তর। কিন্তু যে পরিবর্তন, বিবর্তন ও প্রবণতার মধ্যে দিয়ে আজকের বাংলাভাষা চলেছে, তাকে তো ইতিবাচক নয় অবক্ষয়ী বলেই আশঙ্কা হচ্ছে। বাঙালির বিভ্রান্ত ও খণ্ডিত জাতীয়তাবোধ দ্বারা কি তার সবচেয়ে বড় সম্পদ ভাষাও চরম সংকটে? 



Facebook Comments
0 Gmail Comments

-

 
Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ,GS WorK । শব্দের মিছিল আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

English Site best viewed in Google Chrome
Blogger দ্বারা পরিচালিত.
-