শুক্রবার, জুন ৩০, ২০১৭

লবণ বৃত্তান্ত :-

শব্দের মিছিল | জুন ৩০, ২০১৭ |
Views:
লবণ বৃত্তান্ত :-
শুরুর প্রথমেই উল্লেখ করা যাক আমাদের প্রিয় ননসেন্স লেখক সুকুমার রায়ের লেখা দিয়ে :-

পাতালপুরী
সুকুমার রায়

পাতাল দেশটা কোথায় তাহা আমি জানি না। অনেকে বলেন আমেরিকার নামই পাতাল। সে যাহাই হউক, মোটের উপর পাতাল বলিতে আমরা বুঝি যে, আমাদের নিচে একটা কোন জায়গা—আমরা এই যে মাটির উপর দাঁড়াইয়া আছি, তার উপরে যেন স্বর্গ আর নিচে যেন পাতাল!

এখানে যে জায়গার কথা বলিতেছি সেটাকে পাতালপুরী বলা হইল এইজন্য যে সেটা মাটির নিচে। মাটির নিচে ঘরবাড়ি, মাটির নিচে রেলগাড়ি, মাটির নিচে হোটেল সরাই গির্জা—সমস্ত সহরটাই মাটির নিচে। সহরটা কিসের তৈয়ারি জান? নুনের! আসলে সেটা একটা নুনের খনি। অস্ট্রিয়ার কাছে—মাটির নিচে এই অদ্ভুত সহর। হাজার হাজার বৎসর লোকে এই খনিতে খুঁড়িয়া খুঁড়িয়া লবণ তুলিয়াছে। এখনও প্রতি বৎসর এই খনি হইতে প্রায় বিশ লক্ষ মণ লবণ বাহির হয়—কিন্তু তবু লবণ ফুরাইবার কোন লক্ষণ দেখা যায় না। মাটির নিচে পঁচিশ মাইল চওড়া ৫০০ মাইল লম্বা লবণের মাঠ। খুঁড়িয়া দেখা গিয়াছে এক হাজার ফুটের নিচেও লবণ।

খনির মধ্যে খানিকটা জায়গায় বড় সুরঙ্গ কাটিয়া পথঘাট কর হইয়াছে তাহার মাঝে মাঝে এক-একটা বড় ঘরের মতো। খনিটা ঠিক যেন একটা সাততালা পুরী, তার নিচের চারতালায় কুলিরা কাজ করে, উপরের তিনতালায় লবণ ফুরাইয়া আসিয়াছে—সেখানে এখন লোকে তামাসা দেখিতে আসে।

খনির মুখে ঢুকিলেই লবণের সিঁড়ি; সেই সিঁড়ি বাহিয়া লোকে নিচে নামে—কিংবা যদি ইচ্ছা হয় নিচে নামিবার যে কল আছে সেখানে পয়সা দিলেই কল চড়িয়া নিচে নামা যায়। প্রথমতালায় অর্থাৎ উপরের তালায়, একটা প্রকাণ্ড সভাঘর। চারিদিকে লবণের দেয়াল, লবণের থাম, লবণের কারিকুরি, তার মধ্যে লবণের ঝাড়লণ্ঠন। এই ঘর দেড়শত বৎসর আগে তৈয়ারি হইয়াছিল। কত বড় বড় লোকে, রাজা-রাজড়া পর্যন্ত, এই সভায় বসিয়া আমোদ-আহ্লাদ করিয়া গিয়াছেন। সভার এক মাথায় একটা সিংহাসন। একখানা আস্ত লবণের টুকরা হইতে এই সিংহাসন কাটা হইয়াছে। ঘরের মধ্যে যখন আলো জ্বালান হয়, তখন সমস্ত ঘরটি স্ফটিকের মতো জ্বলিতে থাকে। লাল নীল সাদা কতরকম রঙের খেলায় চোখে ধাঁধা লাগাইয়া দেয়। লবণ জিনিসটা যে কতদূর সুন্দর হইতে পারে শুধু খানিকটা নুনের গুঁড়া বা কর্‌কচের টুকরা দেখিয়া তাহার ধারণাই করা যায় না।

সভাঘরের খুব কাছেই সেন্ট আন্টনির মন্দির। মন্দিরের মধ্যে আলো বেশি নাই, লবণের থামগুলি আধা-আলো আধা-ছায়ায় আর স্ফটিকের মতো ঝক্‌ঝক্‌ করে না; এক-এক জায়গায় সাদা মার্বেল পাথরের মতো দেখায়। মন্দিরের ভিতরটায় জাঁকজমক বেশি নাই। চারিদিক নিস্তব্ধ—সভাঘরের হৈ চৈ গোলমাল এখানে একেবারেই পৌঁছয় না।

এখান হইতে দ্বিতীয় তালায় নামিবার জন্য আবার সিঁড়ি—সিঁড়িটা একটা প্রকাণ্ড ঘরের মধ্যে নামিয়াছে। ঘরের ছাদটা একটা গম্বুজের মতো। চারিদিকে বড় বড় কাঠের ঠেকা দেওয়া হইয়াছে তা না হইলে ছাদ ভাঙিয়া পড়িতে পারে। ঘরটা এত উঁচু যে তাহার মধ্যে আমাদের গড়ের মাঠের মনুমেন্টটিকে অনায়াসে খাড়া করিয়া বসান যায়। ঘরের মধ্যে একটা প্রকাণ্ড লবণের ঝাড়লণ্ঠন, তাহার মধ্যে তিনশত মোমবাতি জ্বালান হয়—কিন্তু তাতেও এত বড় ঘরের অন্ধকার দূর হয় না।

দেড় শত বৎসর আগে এই ঘরেই খনির আড্ডা ছিল। লবণ খুঁড়িতে খুঁড়িতে খনিতে বড় বড় ফাঁক হইয়া যায়। এই ঘরটিও সেইরকম একটি ফাঁক মাত্র। লোকে উপর হইতে লবণ তুলিতে আরম্ভ করে—ক্রমে যতই লবণ ফুরাইয়া আসিতে থাকে তাহারা একতালা দোতালা করিয়া ততই নিচে নামিতে থাকে।

তৃতীয় তালায় নামিয়া কতগুলি ছোটখাট ঘর ও নানা লোকের কীর্তিস্তম্ভ দেখিয়া লবণের পোল পার হইতে হয়। তার পরেই হোটেল রেলওয়ে স্টেশন ইত্যাদি। সেগুলিও দেখিবার মতো জিনিস। মাটির সাত শত ফিট নিচে একটা লোনা হ্রদ আছে, এমন লোনা জল বোধহয় আর কোথাও নাই। অন্ধকার গুহা, তার মধ্যে ঠাণ্ডা কালো জল—কোথাও একটু কিছু শব্দ হইলে চারিদিকে গম্‌গম্‌ করিয়া প্রতিধ্বনি হইতে থাকে। সে জলের উপর লোকে যখন নৌকা চালায় তখন জলের ছপ্‌ছপ্‌ শব্দ চারিদিক হইতে অন্ধকারে ফিস্‌ফিস্‌ করিতে থাকে—যেন পাতালপুরীর হাজার ভূতে কানে কানে কথা বলে।


লবণের খনির মধ্যে গির্জা, হোটেল:-

ছিল মাটির নীচে লবণের খনি৷ আজ সেখানে শুধু দর্শকদের সমাগম৷ ভ্রমণের রোমাঞ্চ থেকে শুরু করে বিয়ের অনুষ্ঠান, চিকিৎসা এবং রাতে থাকার ব্যবস্থাও সেখানে রয়েছে৷ বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে পোল্যান্ডের এই খনি৷মাটির নীচে অনেক গভীরে এক অভিনব জগত৷ তাতে রয়েছে এক চ্যাপেল, স্পা এবং পর্যটকদের জন্য খনি সংক্রান্ত ওয়ার্কশপ৷ ভিয়েলিচকায় বাতিল লবণ খনির মধ্যে এ সব দেখতে পাওয়া যায়৷ প্রায় ৭০০ বছর ধরে এই খনি সক্রিয় ছিল৷ এখন শ্রমিকদের বদলে পর্যটকদের ভিড়৷ বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ঘুরে দেখতে বছরে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ আসেন৷ এই পাতাল জগত ঘুরে দেখার দু'টি উপায় রয়েছে৷ পায়ে হেঁটে নীচে নামা যায়৷ অথবা আরও দ্রুত গতিতে লিফটে করে পৌঁছানো যায়৷

খনির মধ্যে ৬৪ থেকে ১৩৫ মিটার গভীরে সব মিলিয়ে মোট ন'টি স্তর রয়েছে৷ কয়েক'শ বছরের খননের ফলে দুই হাজার চেম্বার তৈরি হয়েছে৷ সেই সব জায়গায় আজ শ্রমিকদের তৈরি লবণের ভাস্কর্য শোভা পাচ্ছে৷ প্রায় ঘণ্টাখানেক চলার পর ১১০ মিটার গভীরে খনির সেরা আকর্ষণ চোখে পড়ে৷ ১৮৯৫ সালে তৈরি সেন্ট কিংগা পাতাল-গির্জা৷ ভূগোলবিদ মারেক স্ট্রোইনি বলেন, ‘‘সাধারণত প্রতি বছর বিভিন্ন দুর্ঘটনায় তিন-চার জন খনি-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে৷ তাই শ্রমিকরা প্রার্থনার জায়গা চেয়েছিল৷ সে কারণেই তারা খোদাই করে চ্যাপেল ও ধর্মীয় মূর্তি বানিয়েছে৷''

নিয়মিত প্রার্থনাসভা ও বিয়ের অনুষ্ঠান হয়৷ কমপক্ষে ১,১০০ ইউরো দিলে করলে নবদম্পতিরা এখানে বিয়ে করতে পারেন৷এই চ্যাপেল গোটা বিশ্বে তার অ্যাকুস্টিক্স-এর জন্য বিখ্যাত৷ তাছাড়া লবণের ক্রিস্টাল দিয়ে তৈরি ঝাড়লণ্ঠনের মতো অনেক খুঁটিনাটি বিষয়ও নজর কাড়ার মতো৷ দর্শকরাও মুগ্ধ৷এমন খনিতে কাজের অভিজ্ঞতা ঠিক কেমন ছিল, দর্শকরা খনির অন্য একটি অংশে তার স্বাদ পেতে পারেন৷ তবে সেই ভ্রমণের জন্য পেশাদারি সাজ-সরঞ্জাম প্রয়োজন৷ সেইসঙ্গে চাই লবণ ভাঙার শক্তি৷ সেই লিফট দেখলে অতীত সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়৷

ভিয়েলিচকায় ক্রনিক রোগীদেরও সাহায্য করা হয়৷ অ্যাসমা বা হাঁপানি এবং অ্যালার্জি থাকলে এই ‘পাতাল হাসপাতাল' নিরাময়ের আশা দিতে পারে৷মাটির প্রায় ১৩৫ মিটার নীচে আছে এক ভিন্ন ধরনের স্যানেটোরিয়াম৷ সেখানকার ভালো বাতাস রোগ সারিয়ে তুলতে পারে৷ বায়োলজিস্ট মাগডালেনা কস্ট্রোৎসোন বলেন, ‘‘উচ্চ মাত্রার আর্দ্রতা, স্থিতিশীল তাপমাত্রা এবং বাতাসে উচ্চ মাত্রার ন্যাট্রিয়াম ক্লোরাইড এখানকার বৈশিষ্ট্য৷ ভূ-পৃষ্ঠের মতো এখানো কোনো দূষণ বা অ্যালার্জি-সৃষ্টিকারক পদার্থ নেই৷''

খনির মধ্যে তিন ঘণ্টা কাটিয়েও যাদের আশ মেটেনি, তাদের জন্য রাত কাটানোর ব্যবস্থাও আছে৷ এটাই ভিয়েলিচকার লবণ খনির সর্বশেষ আকর্ষণ৷


লবণ হোটেল ‘প্যালেসিও দি সল’, বলিভিয়া

বলিভিয়ার রাজধানী লাপাজ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সালার দি উয়ুনি। এটি বিশ্বের বৃহত্তম সল্ট ফ্ল্যাট বা লবণের ভূমি। এখানেই রয়েছে ‘প্যালেসিও দি সল’ নামে লবণের হোটেল। প্যালেসিও দি সল অর্থ লবণের প্রাসাদ। প্রাসাদ না হলেও হোটেলটি লবণ দিয়েই তৈরি। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে সালার দি উয়ুনিতে নির্মিত হয় প্রথম লবণের হোটেল। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে ২০০২ সালে হোটেলটি ভেঙে ফেলতে হয়। এরপর ২০০৭ সালে পুনরায় আরেকটি লবণের হোটেল নির্মাণ করা হয়, যার নাম ‘প্যালেসিও দি সল’। ৩৫ সেন্টিমিটারের প্রায় এক মিলিয়ন লবণের ব্লক দিয়ে তৈরি করা হয় হোটেলটি। হোটেলের মেঝে, দেয়াল, ছাদ, এমনকি আসবাবপত্রও লবণ দিয়ে তৈরি। এই লবণ হোটেল তৈরির ইতিহাসটাও হোটেলটির মতই বৈচিত্র্যপূর্ণ।

সালার দি উয়ুনি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় একটি স্থান। এখানে প্রচুর পর্যটক আসলেও বিশ্রামের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সেজন্য পর্যটকদের বিশ্রাম নেওয়ার জন্য একটি হোটেল নির্মাণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সালার দি উয়ুনিতে হোটেল নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছিল না। তখন বুদ্ধি করে এখানে লবণের প্রাচুর্য দিয়েই তৈরি করে ফেলা হলো একটি আস্ত হোটেল। এ হোটেলে এক রাত অবস্থানের জন্য গুনতে হবে ১৫০ ডলার। এখানে থাকার দুর্দান্ত অভিজ্ঞতার তুলনায় এর মুল্য অনেকটাই নগণ্য মনে হতে পারে।


বিস্ময়কর ডেড সি:-

সবুজ-শ্যামল মানুষের বসবাস উপযোগী আমাদের এই গ্রহ পৃথিবী। পৃথিবীতে যে কত ধরনের বিস্ময়কর বিষয় আছে তা জানলে পৃথিবীকেই মনে হবে একটি বিস্ময়। পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল, সাগর-মরুভূমি সহ পৃথিবীর আনাচে কানাচে লুকিয়ে আছে হাজারো বিস্ময়। এই সকল বিস্ময়কর বিষয়ের মাঝে ডেড সি বা মৃত সাগর একটি অন্যতম বিস্ময়। ডেড সি বা মৃত সাগরের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই সাগরের জলে কেউ ডোবে না। এমন কি কেউ ডুবতে গেলেও ডুবতে পারে না।এখন প্রশ্ন হচ্ছে পৃথিবীর সকল খাল, বিল, পুকুর, নদী, সাগরের জলে, মানুষ সহ যেকোনো জিনিস সহজেই ডুবে যায় কিন্তু ডেড সির জলে ডোবে না কেন? কি রহস্য আছে এই জলে?ডেড সী তে কি কোনও প্রাকৃতিক শক্তি আছে?

জর্ডানে অবস্থিত ডেড সী বা মৃত সাগর পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে লবনাক্ত জলাশয় গুলোর মধ্যে একটি। সাগর বলা হলেও এটি মূলত একটি লেক যার সর্বোচ্চ গভীরতা ১,২৪০ ফুট। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৭ কিলোমিটার এবং প্রস্থে সর্বোচ্চ ১৮ কিলোমিটার। ডেড সী’র পশ্চিমে পশ্চিম তীর এবং ইসরায়েল, পূর্বে জর্ডান অবস্থিত। জিবুতির আসাল হ্রদের পর এটি বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লবণাক্ত জলের হ্রদ। মৃত সাগর সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৪২০ মিটার বা ১,৩৭৮ ফুট নিচে অবস্থিত। সমুদ্রের পৃষ্ঠতলীয় ক্ষেত্রফল ৮১০ বর্গ কিলোমিটার। সাগরের গড় গভীরতা ১২০ মিটার বা ৩৯৪ ফুট যার মধ্যে সর্বোচ্চ গভীরতা ৩৩০ মিটার বা ১০৮৩ ফুট। এই স্থানটি পৃথিবীর সবচেয়ে নিম্নতম স্থান বা স্থলভূমি । এই সাগরের জলের লবণাক্ততা শতকরা ৩০ ভাগ যা অন্যান্য সমুদ্রের জলের চেয়ে ৮.৬ গুণ বেশি লবণাক্ত ।

বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মহাসাগরের জলের সাথে ডেড সি র জলে মিশে থাকা খনিজ উপাদানগুলোর যথেষ্ট পার্থক্য আছে। মৃত সাগরের জলে মিশে থাকা লবণে ১৪% ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, ৪% পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ৫০% ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড এবং ৩০% সোডিয়াম ক্লোরাইড রয়েছে। এর লবণাক্ততা শতকরা ৩০%।ফলে জলের ঘনত্ব ১.২৪ কেজি/লিটার। এই সকল উপাদানের কারণে ডেড সি’র জলের প্লবতা শক্তি পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের জলের চেয়ে অনেক বেশী। আর এই উচ্চ প্লবতা শক্তির কারণে এই সাগরে কোনও কিছু ডুবে না। যে কেউ মৃত সাগরের জলে ভেসে থাকতে পারে।


Facebook Comments
0 Gmail Comments

-

 
ফেসবুক পাতায়
Support : Visit Page.

সার্বিক অলঙ্করণে প্রিয়দীপ

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

শব্দের মিছিল > English Site best viewed in Google Chrome
Blogger দ্বারা পরিচালিত.
-