শুক্রবার, জুন ৩০, ২০১৭

বিদ্যুৎ ভৌমিক

শব্দের মিছিল | জুন ৩০, ২০১৭ |
Views:
বিদ্যুৎ ভৌমিক
 ম্যাকডেভিড মহাশূন্য এবং প্রতিটা জন্মের মৃত্যু 

ক)

এখন অদ্ভুত এক বাতাস বইছে । বাতাস নয় ,  অতীব পরিণতি
এই বিশ্রী সময়ে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গম হয় জীবনের
মৃত্যু বাড়ে , বেড়েই চলে সর্বনাশের মতো আয়ু করে
এখানে প্রভূত কষ্টে অন্ধকার গর্ভের ভেতর একাই নিঃশব্দ ;
নির্জনতা  !
অথচ শরীরহীন স্বপ্নগুলো প্রতিদিনের কানাকড়ি নিয়ে
বিস্মৃতির ভেতর ডুবে গেলে বুকের ড্রয়ার খুলে
কেউ একজন দেখে নিজের কঙ্কাল  ! বেশ বিষজ্বালায় অনন্ত গভীর অতল , সেও মৃত অন্তহীন অবুঝ - নির্বোধ
পরের বাক্য কবিতার কাছাকাছি চোখ ভরা বহতী নীরবতা
সেটাও ইচ্ছা হলে ছুঁয়ে থেমে যায়

খ )

নতুন স্মৃতিতে ছায়ারাও অবাক
শিকড়ের টানে শুরু হয় অলীক আক্রোশ
প্রতিটা জন্মের মৃত্যু মহাকাশ থেকে ম্যাকডেভিড মহাশূন্য
ছিমছাম অথচ সতত যন্ত্রণা ভোগে  !  বেশ কিছু অভুক্ত চোখ
কবিতার ভেতর সময় কাটায় — এই হোলো জীবন  ;
জরায়ুর মধ্যে খোঁজে কবেকার প্রাচীন খোলোস ।
যদি মরে যাই, — অথবা জ্বর * থুতু * শ্লেষ্মা , — এদেরকে ভিখারি
করে রেখে যাব !
পথ পৃথিবীময় , গোপনতা আরও ভেতরে অনন্ত বিস্মৃত  !

গ )

হয়তো সারারাত আত্মঘাতী স্মৃতিরা
নিজস্ব নিয়মে দিক চিহ্নহীন — ঘৃণা এবং অস্থিরতা
প্রতিদিন সিঁড়ির প্রতিটা ধাপে মধ্যরাতের চাঁদ চোখচুপ প্রণয়ে
বুকের মধ্যে রাখে বিশ্বাসী হাত  ! অহর্নিশ এই দুর্দিনে এই আমিত্ব
ভরা নিঃশব্দ ; স্বভাবতই ক্যালেন্ডারে দোল খেতে খেতে
অন্ধ হয়ে গেছে ****
শেষ রাতে অভিমানের তালা খুলে যায়
ব্যক্তিগত স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয় মনে মনে কথা বলাবলি ,
এরপর কবিতা থেকে দু'চোখ তুলে নিয়ে নিজের কপালে মাখি
নষ্ট আকাশের সর্বনাশী জ্যোৎস্না —
( এটা অবশ্য সখ করে নয় ; আবার সান্ত্বনা পাব বলে নয় )
কিছু কিছু অপূর্ণতা ম্যাকডেভিড মহাশূন্য মনে হয়
সেজন্য দিকচিহ্ন মুছে অতীত স্মরণের পথে একা হেঁটে যাওয়া
পাগল বৃষ্টির দল অবুঝ শিকারী, সেখানে বিচ্ছেদ জ্বালায়
নির্জন হয়ে থাকে পূর্ব পরিচয় । ( নির্ঘুমের উপাখ্যান ) —

ঘ )

বেঁচে থাকতে তোমার অতীব কাছে চোখ ছিল সততই ঈশ্বরীও
বুকের ভেতরে এক সমুদ্র ঢেউ ; নতুন আকাশ থেকে
নতুন তারাদের বিজ্ঞাপন অন্তর লজ্জায় ঘুমের মতন একদলা স্বপ্ন
গন্ধে বহতাময়  ! কেমন সহজ সেই ছবি এঁকে ভাসমান সুখ দেখতে চেয়ে ওষধি স্মৃতির ভেতর চোখাচোখি  ;
চোখের মধ্যে ছুটে আসা স্পষ্ট ছায়া চুম্বন মুছে—
তুমি এই মৃত্যুর আগেও শ্মশান যাত্রীদের নাম বাতাসে লিখেছো
সেই সারাদিনের বৃষ্টি স্পষ্ট কথাগুলোকে ইস্ত্রি করা পোশাক
পরিয়ে কবিতা করেছি  !

ঙ )

এই একবারই বৃষ্টি এনেছি চোখে ; তোমাকে দিয়েছি অরণ্য
উপহার  !  এই একবারই নরকের পথ ঘুরে লক্ষ্যশিরা - উপশিরায়
জন্মঋণের রহস্য খুঁজেছি, অতলমন্ত্রে শূন্য নামে পায়ের নীচে
বৃষ্টির গোপন ধারায় এলোমেলো হয় আয়নার তেপান্তর —
তবুও এই একবারই শ্রাবণ এনেছি অন্তরীক্ষ ভেঙে  !
বেশ কিছু মৃত্যু আমার চেনা হয়ে গেছে , —
আমার প্রতিজন্মের মৃত্যু আক্ষরিক এবং ভালোবাসাহীন
এই জন্যেই মুছে দিতে হয় প্রতিটা মাতৃগর্ভের স্মৃতি
মনের ভেতর থেকে যাবতীয় স্তব্ধতা ;
আদেশ দেয় তুমি পদবী ভুলে যাও  !

চ )

ফের দুঃস্বপ্ন, ফের ঘুনন্ত অস্তিত্ব শরীরময়
সমস্ত আকাঙ্ক্ষার ঘ্রাণ নিছক অবহেলায় মুছে দেয়
কত পথ, কত প্রেম, কতই যন্ত্রণার অবুঝ অস্থিরতা
এসব আমাকে বোঝায় — আমি প্রাণহীন জীবন নিয়ে
অতৃপ্তির জ্বালায় কত শত বছরের আকাশে ঘুরেছি *****
এই একা একা পোশারহীন পছন্দ - অপছন্দ অথবা ছদ্ম আদর্শ
আমাকে অহর্নিশ অনন্তকাল ঘোরায় - ফেরায় - ভাসিয়ে ছাড়ে  !
কোথাও মৃত্যুর ছবি দর্পণে দেখা দিলে ফুল - চন্দনের গন্ধ
পাপমোচনে উৎসাহ পায়  !
কী এক দেবতার কাছে আমার প্রতিটা মৃত্যু বিশ্লেষণ ;
অনেকটাই ভাসমান  !

ছ )

এরপর যতদিন মনে পড়া পাতা খসা বিকেলে
কে আমার কথা মনে করছে ? সে কি প্রতিটা জন্মের চেনা মুখ ,
চারপাশে অসুখের ভেতর চুপচাপ হয়ে থাকে হেমন্তের চাঁদ
ঘুম কাটেনা দুঃখে - অভিমানে ,
স্বপ্নের পোশাক খুলে স্নান করে অশরীর স্মৃতি *****
কেউ একজন নতমুখে ঘরে বসে থাকে , —
সেই কি প্রেত  ?  হতে পারে  !
এর মধ্যে মন ভেঙে গেলে সমস্ত নির্জনতা হয় খেলার সঙ্গী
কতদিন এভাবে আসি আর যাই
কতদিন রাত ডোবা ভোরে ; মৃত্যুর এক ঘন্টা পরে আবার জন্মাই
তারপর নির্নিমেষ খুঁজি ফিরি পথ, যে পথে দিক চিহ্নহীন
দূরে আমার ঈশ্বর দাঁড়িয়ে আছে  !!



Facebook Comments
0 Gmail Comments

-

 
ফেসবুক পাতায়
Support : Visit Page.

সার্বিক অলঙ্করণে প্রিয়দীপ

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

শব্দের মিছিল > English Site best viewed in Google Chrome
Blogger দ্বারা পরিচালিত.
-