সোমবার, মে ১৫, ২০১৭

অলভ্য ঘোষ

শব্দের মিছিল | মে ১৫, ২০১৭ |
Views:

 আধ্যাত্মিকতা ও যৌনতা (প্রবন্ধ 

আমাদের ছোট বেলায় হাবে ভাবে নীতি মালায় বোঝান হয় যৌনতা গর্হিত কাজ। ফলে যৌনতা নিয়ে ভুল বোঝা থাকে দীর্ঘদিন।অথচ কাজটা সকলেই করে। আধ্যাত্মিকতা আর যৌনতা দুটোই প্রয়োজনীয়। পরস্পর বিরোধী আগে ভাবতাম। এখন মনে হয় একে অপরের পরিপূরক।নিয়ন্ত্রক বা নির্ণায়ক। In general Spirituality cannot be classified without Sexuality.

হিন্দু ধর্মে কাম ,ক্রোধ ,লোভ, মোহ ,মাৎসর্য পরিত্যাজ্য।ষড়রিপু অর্থাৎ মানুষের চরম ও প্রধান এই ছ'টি শত্রু হলো-কাম, ক্রোধ,লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য। কাম শব্দের আভিধানিক প্রতিশব্দ হলো সম্ভোগেচ্ছা। কাম শব্দটির বহুবিধ ব্যবহার থাকলেও যৌনবিষয়ক সম্ভোগশক্তিকেই প্রাধান্য দেয়া হয়।

যৌনতা বিষয়ে পাশ্চাত্য অভিমত বিশেষ করে সিগমুন্ড ফ্রয়েড এর অনুসরণ করলে বলা চলে;The Sexuality is not only physical appearance. It have more mental activity. Very complicated; involved with every human expression.বাৎসায়নের কামসূত্রের প্রথমেই লেখা আছে অর্থ অনর্থের মূল। কামের মানসিক ,শারীরিক, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি সেখানেও মেলে।

Certain characteristics are believed to be innate in humans; these characteristics may be modified by the physical and social environment in which people interact.Human sexuality is driven by genetics and mental activity. The sexual drive affects the development of personal identity and social activities. An individual's normative, social, cultural, educational, and environmental characteristics moderate the sexual drive.

Sexuality may be experienced and expressed in a variety of ways; including thoughts, fantasies, desires, beliefs, attitudes, values, behaviors, practices, roles, and relationships. These may manifest themselves in biological, physical, emotional, social, or spiritual aspects.আবার অসভ্য পশুদের যৌনতা কেবল প্রজননের। সিংহী বারো বছর অন্তর সন্তান প্রসব করে। তাই তাদের সংযমী বলা হয়।পশুর প্রজননের একটি নির্দিষ্ট ঋতু আছে। উৎকৃষ্ট জীব মানুষের প্রজননের নির্দিষ্ট সময় নেই। মানুষের যৌন তা কেবল প্রজননের জন্য নয়।রামকৃষ্ণদেব বলতেন দুটি একটি বাচ্চাকাচ্চা হয়ে যাওয়ার পর স্বামী স্ত্রীকে ভাই বোনের মত সংসারে থাকা উচিৎ।

এখন অনুভব করি মানুষ মাত্রই থাকা চাই নিয়ন্ত্রিত কামশক্তি। এ নিয়ন্ত্রিত কামশক্তি যখন অনিয়ন্ত্রিত, বেপরোয়া ও বেসামাল হয়ে যায় তখনই তা হয়ে যায় শত্রু। আধ্যাত্মিকতা নিয়ন্ত্রক বা নির্ণায়ক ।যেমন ভক্ত না থাকলে ভগবানের প্রয়োজন নেই। তেমনি রিপু না থাকলে আধ্যাত্মিক চর্চার বা কি প্রয়োজন। চোর ডাকাত গুণ্ডা বদমাইশ যেমন না থাকলে পুলিশ কোট কাচারি জেল খানা উঠে যাবে। তেমনি রিপুর তাড়না না থাকলে আধ্যাত্মিকতা গুরুত্ব হারাবে।

সত্য, রজ ও তম।সাধু সত্য গুণের। সংসারী লোকের হল মধ্য অবস্হা। রজ গুণ। চোর গুন্ডা চরিত্রহীন লম্পট তম গুণের। সত্ত্ব-রজ-তম (সৃষ্টি, স্থিতি, লয়) এ বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড ত্রিগুণের অধিন।ব্যক্তিগত ভাবে বলতে পারি এই তিনটি গুণের সমন্বয়ে আমাদের জীবন গঠিত। একই মানুষের মধ্যে এক এক সময় এক একটি গুণ কম বেশি প্রকটিত হয় বলে আমার ধারণা।

অংক কষার সময় শিশু হাতের কড় গুনে তবে বলে দুই আর দুই এ চার। একটু বড় হলে তাকে আর কড় গুনতে লাগেনা। ঈশ্বর একটি চিহ্ন মাত্র। বীজগণিতের অঙ্কে যেমন এক্স। তেমনি আমাদের অনিত্য জীবনের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ মেলাতে এক্স এর মত ঈশ্বর ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়।

আধ্যাত্মিকতায় দেবতা থাকতে হবে এমনটা ভুল ধারণা। বিঞ্জান; দেশ মাতৃকার সেবা,শিল্প সাহিত্য এমনকি সিনেমা নির্মাণে ও খেলা ধুলায় ও আধ্যাত্মিক চর্চা সম্ভব । ঋষি অরবিন্দ , কাল মার্কস , লেনিন , আইনস্টাইন ,রবীন্দ্রনাথ ,গান্ধীজী ,রাশিয়ান চিত্রনির্মাতা তারকাভস্কি , ডা আবুল কালাম কত নাম বলবো।এরা সবাই জ্ঞানে অজ্ঞানে(consciously or unconsciously)আধ্যাত্মিকতাবাদ মতে আধ্যাত্মিক সাধনা করেছেন।সফল ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনির সফলতার পেছনে তার আড়ম্বরহীন অতি সাধারণ জীবন যাপন কৃচ্ছ সাধন আমাদের রাবণের তপস্যার কথা মনে করায় নাকি? সাধনা আর কিছুই নয় সংযম নিরন্তর অভ্যাস। সম্ভোগ মানে সমান ভোগ। ভোক্তা ও ভোগ্য যখন সমান ভোগ পেয়ে তৃপ্ত হয় সেটাই সম্ভোগ। সম্ভোগ একতরফা নয়। সুনিপুণ নিয়ন্ত্রিত ভোগেই সম্ভোগ সম্ভব হয়। শিশু ভোগের অন্ন ছিটিয়ে খায়।যত সে পরিণত হয়।সুচারু নিয়ন্ত্রিত হয় তার ভোগ। এই সুকুমার নিয়ন্ত্রিত চিরন্তন সত্য চেতনার প্রকাশয়ই আধ্যাত্মিকতা। গাড়ি চললে তবে তার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়। দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে নিয়ন্ত্রণ কিসের দরকার । তাই চালক ছাড়া গাড়ি নিষ্ক্রিয়। গাড়ি ছাড়া চালক কর্মহীন।

পৃথিবীর মানবিক উন্নতি আধ্যাত্মিক উন্নতি না হলে কেবল বৈষয়িক উন্নতি তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অভাব প্রজ্ঞার।সবচেয়ে বড় অসুখ বিভেদ বিভাজন।শিশুকে মা যেমন কেবল বুকের দুধ খাইয়ে বড় করে না ;স্নেহ মমতায় লালিত করে। স্নেহ বর্জিত শিশুর যেমন নমনীয়তা কোমলতা গড়ে ওঠেনা তেমনি আধ্যাত্মিকতা ছাড়াও মানবতা জন্মাবে না। সূক্ষ্ম বোধ বস্তু থেকে জন্মায় না।আত্মা থেকে জন্মায়।যতই দামি হোক বস্তু কেবল খেলনা স্থূল।প্রজ্ঞার স্পর্শ ছাড়া বস্তু বস্তু হীনতায় ভোগে।দুই টাকার কলম কার নেই।সকলে কিনতে পারেন।তবে তা সকলের হাতে সমান মূল্যবান হয় না।কেবল মূল্য পায় জ্ঞানীর হাতে। ঞ্জান মানবিক বিকাশের পথ।আধ্ম্যাতিকতার সোপান। আধ্যাত্মিকতায় চিরন্তন মুক্তি জড় বস্তু কেন্দ্রিকতা থেকে।

আধ্যাত্মিকতা ও যৌনতা দুটোই প্রয়োজনীয়-প্রজ্ঞার স্পর্শ ছাড়া বস্তু বস্তু হীনতায় ভোগে।আত্মা থেকে জন্মায় আধ্যাত্মিকতা।বস্তু থেকে যৌনতা ।The body is nothing more than an object.শরীর একটি বস্তু বৈ আর কিছুই নয়।একটি চেতন অপরটি জড়। জড় যে প্রাণহীন তাও তো চেতনা ছাড়া বোঝা যায় না। আবার শুধু চেতনা থেকে কিহবে। চেতনার ব্যবহার হবে কিভাবে বস্তু ছাড়া। ধরুন আপনার বাড়িতে ইলেকট্রিসিটি আছে ফ্যান নেই ,টিভি নেই ,লাইট নেই , ফ্রিজ নেই কোন বৈদ্যুতিক ব্যবহার যোগ্য উপাদান নেই; তাহলে কি লাভ ইলেকট্রিসিটির।আবার আপনার অনেক বৈদ্যুতিক ব্যবহার যোগ্য উপাদান আছে কেবল বিদ্যুৎ নেই তা হলেও বা লাভ কি সেই থাকায়।আপনার দুটোই আছে যখন দুটির মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে চলেছেন তখনই কার্যকারিতা পাবেন নচেৎ নয়। 

আবার যদি অনুমোদিত বিদ্যুৎ অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক উপাদান ব্যবহার করেন লোড নিতে পারবে না ফিউজ উড়ে যাবে। তখন সবই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বেন। তখনই ইলেকট্রিক মিস্ত্রি খুঁজি আমরা। ভাল দক্ষ ইলেকট্রিক মিস্ত্রি অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক উপাদান ব্যবহারে আপনাকে বলে দেবে বিদ্যুৎ পর্ষদের অনুমতি নিতে। আর কিভাবে সেই অ্যাপ্লিকেশন লিখতে হবে তিনি শিখিয়ে দেবেন। এই অনুমতি আধ্যাত্মিক সাধনা। জীবন ও যৌবনের সমন্বয় সাধন। 



Facebook Comments
0 Gmail Comments

-

 
ফেসবুক পাতায়
Support : Visit Page.

সার্বিক অলঙ্করণে প্রিয়দীপ

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

শব্দের মিছিল > English Site best viewed in Google Chrome
Blogger দ্বারা পরিচালিত.
-